
শেষ আপডেট: 17 December 2023 00:05
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শিক্ষার আলো পৌঁছলেও কুসংস্কারের আঁধার কাটেনি। বর্ধমানকে পূর্ণ স্বাক্ষর জেলা ঘোষণা করেছিল বাম সরকার। তারপরে অবশ্য অজয়, দামোদর দিয়ে অনেক জল বয়ে গেছে। রাজ্যে পালাবদল হয়েছে। কিন্তু এই ডিজিটাল যুগে পৌঁছেও কুসংস্কার আর অন্ধবিশ্বাসের বেড়া ভাঙা যাচ্ছে না। তারই উদাহরণ পাওয়া গেছে আউশগ্রামে।
বাড়ির বৌকে ভূতে পেয়েছে। এমন খবর রটে যায় সারা গ্রামে। ভূত তাড়ানোর উপায় কী? ওঝা ডেকে ঝাড়ফুঁক করে শেষে বধূর মাথার কয়েক গাছি চুলই কেটে নেওয়া হল।
আউশগ্রামের কয়রাপুর গ্রামের তুড়িপাড়ার বাসিন্দা বছর পঁচিশের এক গৃহবধূ নানা শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন। অনিদ্রা, অস্থিরতা দেখা যাচ্ছিল। তাতেই প্রতিবেশীদের সন্দেহ হয় ওই মহিলাকে ভূতে ধরেছে। না হলে ভগবানের ভর হয়েছে। শেষে এক কালীমন্দিরে নিয়ে যাওয়া হয় তাঁকে। সেখানে নানা মন্ত্র আউরে ভূত ছাড়ানোর চেষ্টা হয়।
এরপরেই পুরোহিত নানারকম নিদান দিতে থাকেন। পুরোহিতের নিদানে ওই বধূর চুলও কিছুটা কেটে নেওয়া হয়। ভাসানো হয় নদীতে। এদিকে ওই চুল ভাসিয়ে দিয়ে ফিরে না আসার সময় পর্যন্ত বধূকে আটকেও রাখা হয়।
ওই মহিলার ভাসুর বলেন, “ভূতে পেয়েছে বুঝতে পেরেছিলাম। ভয়ঙ্কর সব কথা বলছিল। ঠাকুরতলায় নিয়ে যাই। সব ঠিকও করে দেয়। ডাক্তারের কাছে নিয়ে গেলে কাজ হবে না। এটা তাবিজ কবজেই হবে। মাদুলি বেঁধে দিলেই সব ঠিক হয়ে যাবে। চুল কাটলেই ভূত চলে যায়। তাই চুল কেটে দেওয়া হল।”
এই ঘটনার প্রতিবাদে সরব পশ্চিমবঙ্গ বিজ্ঞান মঞ্চের শহর বিজ্ঞান কেন্দ্র। বিজ্ঞান কেন্দ্রের সম্পাদক বিশ্বনাথ চক্রবর্তী বলেন,ওই মহিলার কোনও মানসিক সমস্যা থাকতে পারে। তাঁকে মনোরোগ বিশেষজ্ঞের কাছে নিয়ে যাওয়া দরকার। কিন্তু তা না করে পরিবারের লোকজন ঝাড়ফুঁক করে চুল কেটে নেয়। এভাবে কুসংস্কার আরও মাথাচাড়া দিচ্ছে। ভবিষ্যতে প্রয়োজন হলে বিজ্ঞান মঞ্চ এই বিষয়ে পদক্ষেপ করবে ওই গ্রামে গিয়ে।