
শেষ আপডেট: 12 July 2023 09:56
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিয়ের বেশ কয়েক বছর ভাল কেটেছিল। কিন্তু তারপর তুচ্ছ বিষয় নিয়ে শুরু অশান্তি। ঝামেলার মধ্যেই নাকি গায়ে হাত তুলেছেন, এই অভিযোগে পুলিশে অভিযোগ দায়ের করেছিলেন স্ত্রী। সেই ঝামেলা গড়ায় আদালত অবধি। আলাদা থাকতে শুরু করেন দম্পতি। সেই ঘটনায় আদালত অভিযুক্তকে নির্দেশ দেন, স্ত্রীকে মাসে মাসে খোরপোষ দিতে হবে। দিনমজুর স্বামী তা দিতে পারেননি। এরপরেই হাজতবাস হয় তাঁর। কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে, জামিনের টাকা জোগাড় করে তাঁকে ছাড়িয়ে নিয়ে যান স্ত্রী! ফের একসঙ্গে থাকতে শুরু করেন যুগলে। তারপর ফের স্বামীর বিরুদ্ধে নিগ্রহের অভিযোগ আনেন। তারপর ফের জামিন করান তাঁর (Woman Gets Husband Arrested)!
একবার-দু'বার নয়, ১০ বছরেরও কম দাম্পত্যজীবনে ৭ বার স্বামীর বিরুদ্ধে গার্হস্থ্য হিংসার অভিযোগ এনেছেন স্ত্রী। এবং পুলিশ থেকে শুরু করে আদালত, সকলকে অবাক করে দিয়ে প্রতিবারই স্বামীকে ছাড়িয়ে নিয়ে গেছেন তিনি। ঘটনাটি গুজরাতের (Gujarat) মেহসানা এলাকার কাড়ি শহরের। ২০০১ সালে বিবাহবন্ধনে বাঁধা পড়েন প্রেমচাঁদ মালি এবং সোনু। প্রথম ১৩ বছর সব ঠিকই ছিল। সমস্যা শুরু হয় ২০১৪ সাল থেকে। তাঁকে শারীরিক নিগ্রহের অভিযোগ তুলে ২০১৫ সালে প্রথমবার আদালতের দ্বারস্থ হন সোনু।
সেই মামলার জল গড়ায় অনেক দূর পর্যন্ত। আদালত প্রেমচাঁদকে নির্দেশ দেন, সোনুকে প্রতি মাসে ২০০০ টাকা খোরপোষ দিতে হবে তাঁকে। দিনমজুর প্রেমচাঁদ সেই টাকা জোগাড় করে উঠতে পারেননি। ফলস্বরূপ, পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করে। ৫ মাস জেলে কাটানোর পর হঠাৎ ট্যানায় হাজির হন সোনু। স্বামীর জামিনের জন্য টাকা জমা দিয়ে প্রেমচাঁদকে ছাড়িয়ে নিয়ে যান তিনি। যদিও তারপরেও আলাদাই থাকছিলেন তাঁরা।
কিন্তু তারপরেও সম্পর্কের মায়া ত্যাগ করতে পারেননি দুজনের কেউই। একপ্রস্থ মান-অভিমানের পর ফের একসঙ্গে থাকতে শুরু করেন তাঁরা। কিন্তু ফের ঝামেলা শুরু হয় তাঁদের মধ্যে। সূত্রের খবর, ২০১৬ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত প্রতি বছর একবার করে স্বামীর বিরুদ্ধে নিগ্রহের অভিযোগে থানায় গেছেন সোনু। প্রতিবারই খোরপোষের টাকা দিতে না পারায় প্রেমচাঁদের জেল হয়, এবং শেষমেশ সোনুই ত্রাতা হয়ে ছাড়িয়ে নিয়ে আসেন তাঁকে। ২০১৯, এবং ২০২০ সালেও একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হয়। ফের টাকাপয়সার বন্দোবস্ত করে তাঁকে ছাড়িয়ে নিয়ে যান সোনু, এবং ফের একসঙ্গে কাড়ির বাড়িতে থাকতে শুরু করেন দম্পতি।
শেষবার নাকি দম্পতির মধ্যে ঝামেলার সূত্রপাত হয় ২০২৩ সালের জানুয়ারি মাসে। তার আগে প্রেমচাঁদ নিজের মানিব্যাগ এবং মোবাইল খুঁজে পাচ্ছিলেন না। সেই নিয়ে স্ত্রীকে গালমন্দ করতে শুরু করেন তিনি। সোনু জানান, তিনি এ ব্যাপারে কিছুই জানেন না। ব্যস, আবার শুরু হয় ঝামেলা। ফের মারামারি, থানা-পুলিশ, জেলযাপন এবং ৪ জুলাই সোনুর কৃপায় জেলমুক্তি।
তবে এবার নাকি আর একসঙ্গে থাকছেন না তাঁরা। প্রেমচাঁদ থাকছেন নিজের মায়ের বাড়িতে। অন্যদিকে ছেলেকে নিয়ে আলাদা থাকছেন সোনু। শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, এবার স্ত্রী এবং সন্তানের বিরুদ্ধে তাঁকে হেনস্থা করার অভিযোগ জানিয়ে মামলা দায়ের করেছেন প্রেমচাঁদ।
বাংলা ভাগ চান অনন্ত, পশ্চিমবঙ্গ থেকে তাঁকেই রাজ্যসভায় তাদের প্রথম প্রার্থী করল বিজেপি