দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার নোদাখালিতে বাড়ির পাশের জঙ্গল থেকে অর্ধনগ্ন অবস্থায় উদ্ধার মহিলার দেহ। ধর্ষণ ও খুনের অভিযোগে স্থানীয় এক বিজেপি নেতা-সহ দু’জনকে আটক করেছে পুলিশ।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 7 December 2025 14:31
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার নোদাখালির জঙ্গল থেকে উদ্ধার এক মহিলার রক্তাক্ত অর্ধনগ্ন দেহ। শনিবার গভীর রাতে বিদিরা অঞ্চলে বছর চল্লিশের মহিলাকে দেখতে পান স্থানীয়রা। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করেন। পরিবারের দাবি, ধর্ষণের পর খুন করা হয়েছে তাঁকে।
শনিবার রাতে নোদাখালি থানার রানিয়ার বিদিরা এলাকার বাসিন্দারা প্রথম ওই মহিলাকে বাড়ির লাগোয়া জঙ্গলে পড়ে থাকতে দেখেন। অর্ধনগ্ন এবং রক্তাক্ত অবস্থায় দেখে তাঁরা খবর দেন পুলিশকে। নোদাখালি থানার আধিকারিকরা দ্রুত পৌঁছে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করেন।
পরিবারের অভিযোগ, জঙ্গলে ডেকে নিয়ে গিয়ে মহিলাকে প্রথমে ধর্ষণ করা হয়, তারপর খুন করা হয়েছে। তাঁদের দাবি, ঘটনাস্থল বলে জঙ্গলের ভেতর রক্তের দাগও পাওয়া গিয়েছে। এলাকাবাসীর বক্তব্য, ‘মৃতা বাড়ির কাজ শেষ করে বাইরে বেরিয়েছিলেন। তারপরই তাঁকে জঙ্গলে টেনে নিয়ে যাওয়া হয়।’
ঘটনার গুরুত্ব বুঝে সাজোয়া মোতায়েন করে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। দু’জনকে আটক করা হয়েছে, যার মধ্যে এক জন স্থানীয় বিজেপি নেতা বলে শোনা যাচ্ছে। আরেকজন অপ্রাপ্তবয়স্ক। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করছেন আধিকারিকরা।
এদিকে, ঘটনার পর থেকেই উত্তেজনা ছড়িয়েছে বিদিরা অঞ্চলে। এলাকার বহু বাসিন্দার দাবি, বহুদিন ধরেই আটক হওয়া বিজেপি নেতার বিরুদ্ধে নানা অসদাচরণের অভিযোগ ছিল। তবে পুলিশ এখনও এই অভিযোগ নিয়ে মুখ খুলতে নারাজ। তাঁদের বক্তব্য, ‘জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। তদন্তের স্বার্থে এখনই কিছু বলা সম্ভব নয়।’
মৃতার পরিবারের দাবি, দোষীদের দ্রুত গ্রেফতার করে কঠোর শাস্তি দেওয়া হোক। তাঁরা বলছেন, 'ওকে ওরা একা পেয়ে নিয়ে গিয়েছিল। নির্যাতন করে খুন করেছে। আমরা বিচার চাই।'
পুরো ঘটনার তদন্তে একটি বিশেষ দল গঠন করা হয়েছে। পুলিশের অনুমান, মহিলাকে পরিচিত কেউই ডেকে নিয়ে গিয়েছিল। ফরেন্সিক রিপোর্ট হাতে এলে মৃত্যুর সঠিক কারণ ও সময় আরও স্পষ্ট হবে বলেই মনে করা হচ্ছে।