নির্যাতিতার আইনজীবীর দাবি, হাইকোর্টের গঠিত মেডিক্যাল বোর্ড ইতিমধ্যেই জানিয়েছে যে আসারামের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল (Asaram bail cancellation plea)।

স্বঘোষিত ধর্মগুরু আসারাম বাপু
শেষ আপডেট: 1 December 2025 15:05
দ্য ওয়াল ব্যুরো: স্বঘোষিত ধর্মগুরু আসারাম বাপুর জামিন বাতিলের দাবি (Asaram bail cancellation plea), সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court) দ্বারস্থ হল ধর্ষণের শিকার এক নাবালিকা (Minor Rape case Asaram)। রাজস্থান হাইকোর্ট (Rajasthan High Court) চলতি বছরের অক্টোবরে এবং নভেম্বর মাসে গুজরাত হাইকোর্টের (Gujrat High Court) নির্দেশে চিকিৎসাজনিত কারণে আসারামকে জামিন পেয়েছিলেন ওই ধর্মগুরু (Asaram medical bail controversy)।
‘অসুস্থ নন, দেশজুড়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন’ - মন্তব্য নির্যাতিতার আইনজীবীর
নির্যাতিতার আইনজীবী আলজো জোসেফের অভিযোগ, চিকিৎসার নামে বিশেষ সুবিধা পেলেও আসারাম কোথাও স্থায়ীভাবে চিকিৎসা করাচ্ছেন না। বরং আহমেদাবাদ, যোধপুর, ইন্দোর থেকে ঋষিকেশ হয়ে মহারাষ্ট্র - দেশের নানা প্রান্তে অবাধে ভ্রমণ করছেন তিনি। তাই অবিলম্বে তাঁর জামিন বাতিল করা হোক - এই দাবি তুলেছেন তিনি (Minor rape victim plea against Asaram)।
জোসেফের দাবি, হাইকোর্টের গঠিত মেডিক্যাল বোর্ড ইতিমধ্যেই জানিয়েছে যে আসারামের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল। তাঁর হাসপাতালে ভর্তি থাকা বা দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার প্রয়োজন নেই। তবুও ‘গুরুতর অসুস্থতা’-র দোহাই দিয়ে তিনি বারবার জামিন পাচ্ছেন। বর্তমানে তিনি যোধপুরে আয়ুর্বেদিক চিকিৎসার আওতায় রয়েছেন, তবে কোনও গুরুতর রোগেও ভুগছেন না বলে দাবি আইনজীবীর।
দুই রাজ্যের হাইকোর্টে জামিন
গত ২৯ অক্টোবর রাজস্থান হাইকোর্ট আসারামকে ছ’মাসের জামিন দেয়। তাঁর আইনজীবীর যুক্তি ছিল, জেলে সঠিক চিকিৎসা সম্ভব নয়, তাই হেফাজতের বাইরে চিকিৎসার প্রয়োজন। তার এক সপ্তাহ পর, ৬ নভেম্বর গুজরাত হাইকোর্টও রাজস্থানের নির্দেশ অনুসরণ করে জামিন মঞ্জুর করে।
আসারামের আইনজীবী জানান, ৮৬ বছরের আসারাম হৃদরোগে ভুগছেন এবং চিকিৎসার অধিকার তাঁর প্রাপ্য। তাই জামিন জরুরি।
১২ বছর ধরে কারাবন্দি, একাধিক মামলায় দোষী সাব্যস্ত
২০১৩ সালের আগস্টে যোধপুরের মানাই আশ্রমে ১৬ বছরের এক কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেফতার হন আসারাম। এরপর গুজরাতের সুরাতে দুই বোনকে ধর্ষণের অভিযোগেও তাঁকে ও তাঁর ছেলে নারায়ণ সাইকে অভিযুক্ত করা হয়।
২০১৮ সালের ২৫ এপ্রিল যোধপুর আদালত তাঁকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়। সহযোগী শরদ ও শিল্পীর ২০ বছরের সাজা হয়। ২০০২ সালের আরেক ধর্ষণ মামলাতেও আসারাম দোষী সাব্যস্ত হন এবং ২০ বছরের কারাদণ্ডের সাজা পান।
১২ বছর কারাদণ্ডের পর, ২০২৫ সালের ৭ জানুয়ারি চিকিৎসার ভিত্তিতে প্রথম অন্তর্বর্তী জামিন পান আসারাম। পরে জুলাই ও অগস্টে সেই জামিন বাড়ানো হয়। তবে ২৭ অগস্ট জামিন বাড়ানোর আবেদন খারিজ হওয়ায় ৩০ অগস্ট তাঁকে ফের আত্মসমর্পণ করতে হয়।
নির্যাতিতার দাবি, জামিন খারিজ করুক দেশের শীর্ষ আদালত
নির্যাতিতার আইনজীবীর বক্তব্য, একাধিক গুরুতর মামলায় দোষী সাব্যস্ত হওয়া সত্ত্বেও চিকিৎসার অজুহাতে আসারামকে বারবার ছাড় দেওয়া অন্যায়কে প্রশয় দেওয়ার পরিচয়। তাঁর জামিন অব্যাহত থাকলে নির্যাতিতার নিরাপত্তা ও বিচার প্রক্রিয়া, দুই-ই প্রশ্নের মুখে পড়বে।
এখন সুপ্রিম কোর্ট কী সিদ্ধান্ত নেয়, সেই দিকেই তাকিয়ে দেশ।