চলতি বছরের মে মাসে রাজ্য সরকার ঘোষণা করে, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে চাকরি হারানো গ্রুপ সি প্রার্থীদের প্রতি মাসে ২৫ হাজার টাকা এবং গ্রুপ ডি-দের ২০ হাজার টাকা ভাতা দেওয়া হবে।
.jpeg.webp)
ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 19 June 2025 22:26
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এসএসসিতে নিয়োগ দুর্নীতিকাণ্ডে (SSC Recruitment Scam) চাকরি হারানো গ্রুপ সি (Group C) ও গ্রুপ ডি (Group D) প্রার্থীদের ভাতা দেওয়া হবে কিনা সেই নিয়ে চূড়ান্ত রায় দিতে চলেছে কলকাতা হাইকোর্ট (Kolkata High Court)। শুক্রবার সকাল ১১টা নাগাদ রায় দেবেন বিচারপতি অমৃতা সিনহা (Justice Amrita Sinha)। রাজ্যের ঘোষিত ভাতা কি বহাল থাকবে? নাকি স্থগিতাদেশ পড়বে— সেদিকেই তাকিয়ে হাজার হাজার চাকরিহারা শিক্ষাকর্মী।
চলতি বছরের মে মাসে রাজ্য সরকার ঘোষণা করে, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে চাকরি হারানো গ্রুপ সি প্রার্থীদের প্রতি মাসে ২৫ হাজার টাকা এবং গ্রুপ ডি-দের ২০ হাজার টাকা ভাতা দেওয়া হবে। এই সিদ্ধান্ত ঘিরেই শুরু হয় আইনি লড়াই। হাইকোর্টে চ্যালেঞ্জ করে মামলা দায়ের করে একাধিক পক্ষ। তাদের দাবি, এই ভাতা দেওয়া সুপ্রিম কোর্টের রায়ের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।

বিচারপতি সিনহা শুনানির সময় প্রশ্ন তোলেন, “হঠাৎ করেই কেন এত তাড়াহুড়ো করে ভাতা ঘোষণা করা হল? আর ২৫ হাজার বা ২০ হাজার—এই অঙ্ক কীভাবে ঠিক হল? কীসের ভিত্তিতে নির্ধারিত?” তাঁর বক্তব্য, কোনও আলোচনাই হয়নি, কোনও স্ক্রুটিনিও হয়নি। তাহলে এত দ্রুত সিদ্ধান্ত কেন?
পাল্টা রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল কিশোর দত্ত যুক্তি দেন, ভাতা ঘোষণার সিদ্ধান্ত আইনের পরিপন্থী নয় এবং মামলা গ্রহণযোগ্য কি না, সেটাই প্রথমে বিবেচনা করা উচিত। এর উত্তরে মামলাকারীদের আইনজীবী বলেন, “কে মামলা করবে তা কি রাজ্য ঠিক করে দেবে?”
ঘটনা হল, ২০১৬ সালের এসএসসি প্যানেল থেকে প্রায় ২৬ হাজার নিয়োগ বাতিল করে সুপ্রিম কোর্ট। তাঁদের মধ্যে অনেকেই ছিলেন গ্রুপ সি ও ডি-তে কর্মরত। সেই নিয়োগ বাতিল হওয়ার পর রাজ্য সরকার ওই ভাতা দেওয়ার কথা ঘোষণা করে।
এর আগেও এই ভাতা নিয়ে হাইকোর্টে প্রশ্ন ওঠে। ওয়েটিং লিস্টে থাকা চাকরিপ্রার্থীরা মামলায় জানান, রাজ্য সিদ্ধান্ত নিয়েছে শুধুই চাকরি হারানোদের স্বার্থে, কিন্তু অপেক্ষমান বা ওয়েটিং লিস্টে যাঁরা আছেন তাঁদের কথা ভাবেনি। তখনও বিচারপতি সিনহা ভাতা দেওয়ার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। এখন দেখার শুক্রে কী রায় দেন বিচারপতি।