
শেষ আপডেট: 11 October 2023 12:09
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সন্ধে পর্যন্ত তাঁর নথি জমা পড়েনি আদালতে। শুধু তাই নয়, ইডির তলব সত্ত্বেও হাজিরা দেননি তৃণমূলে সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। যদিও মঙ্গলবার রাতেই একেবারে ইলেভেন্থ আওয়ারে তাঁর নথি জমা পড়ে ইডির দফতরে। তারপরের দিন অর্থাৎ আজ বুধবার ইডি তলব করেছে অভিষেকের স্ত্রী রুজিরা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও। আর সেই কারণেই সকাল থেকে সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্স রীতিমতো কড়া নিরাপত্তায় ঘিরে ফেলা হয়েছে। তবে এদিন সকাল ১০টার পরেই ইডির দফতরের উদ্দেশে রওনা হয়ে গিয়েছিলেন রুজিরা। ইতিমধ্যেই সেখানে পৌঁছেও গেছেন তিনি।
শুধু অভিষেক-রুজিরাই নয়, তার আগে গত সপ্তাহে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মা লতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং বাবা অমিত বন্দ্যোপাধ্যায়কেও তলব করেছিল ইডি। যদিও তাঁরা কেউই সেখানে হাজিরা দেননি। তারপর ৯ তারিখ অভিষেককে এবং ১১ তারিখ বন্দ্যোপাধ্যায়কে ডেকে পাঠায় ইডি। তার আগে ৩ অক্টোবরও অভিষেককে তলব করেছিল কেন্দ্রীয় এজেন্সি। ৩ তারিখ তৃণমূলের কর্মসূচি নিয়ে দিল্লিতে ছিলেন অভিষেক। রাজ্যে ফেরার পর ৯ তারিখও তিনি হাজিরা দেননি সিজিও কমপ্লেক্সে। আজ ইডির ডাকে তাঁর স্ত্রী রুজিরা হাজিরা দেবেন কিনা তা নিয়ে জল্পনা শুরু হলেও শেষমেশ দেখা গেল, কেন্দ্রীয় সংস্থার ডাকে সাড়া দিলেন তিনি।
এর আগে বেআইনি কয়লা পাচার মামলায় অভিষেকের স্ত্রী রুজিরা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কয়েকবার জিজ্ঞাসাবাদ করেছে ইডি। কিন্তু নিয়োগ দুর্নীতি কাণ্ডে অভিষেকের সংস্থা লিপস অ্যান্ড বাউন্ডসের ভূমিকাও এখন ইডির আতসকাচের নিচে রয়েছে। ওই সংস্থায় অন্যতম অধিকর্তা ছিলেন রুজিরা। কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি অমৃতা সিনহা নির্দেশ দিয়েছিলেন, লিপস অ্যান্ড বাউন্ডসের সমস্ত ডিরেক্টরের সম্পত্তির হিসাব পেশ করতে হবে ইডিকে। প্রয়োজনে বাকি ডিরেক্টরদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করতে হবে। সেই সূত্রেই রুজিরাকে তলব করা হয়েছে বলে সূত্রের খবর।
এদিন রুজিরা আসতে পারেন অনুমান করেই বুধবার সকাল থেকেই কড়া প্রহরায় মুড়ে ফেলা হয়েছে সিজিও কমপ্লেক্স। মোতায়েন করা হয়েছে পুলিশ বাহিনী।
মঙ্গলবার গোপনীয়তা ভঙ্গের অভিযোগে রক্ষাকবচ চেয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন রুজিরা। তাঁর অভিযোগ, সিবিআই এবং ইডির তদন্তকে সামনে রেখে এক শ্রেণির সংবাদমাধ্যম অতিসক্রিয় হয়ে এমন সংবাদ প্রচার করছে যাতে সম্মানহানি হচ্ছে তাঁর এবং তাঁর পরিবারের। যদিও সেই মামলার শুনানিতে কেন্দ্রের আইনজীবী দাবি করেন, রুজিরা যেহেতু ভারতের নাগরিকই নন, তিনি থাইল্যান্ডের নাগরিক, তাই গোপনীয়তার অধিকার আইন তাঁর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।