দ্য ওয়াল ব্যুরো : আদালত অবমাননার দায়ে আইনজীবী তথা সমাজকর্মী প্রশান্ত ভূষণকে সোমবার একটাকা জরিমানা করেছে সুপ্রিম কোর্ট। সেই টাকা না দিলে তাঁর তিন মাস জেল হবে। অথবা আদালতে তিন বছর তাঁকে প্র্যাকটিস করতে দেওয়া হবে না। এই দণ্ডাদেশের পরে প্রশান্ত ভূষণ জানিয়েছিলেন, তিনি সকলের সঙ্গে কথা বলে সিদ্ধান্ত নেবেন, জরিমানার টাকা দেবেন কিনা। তার কয়েক ঘণ্টা পরে আইনজীবী জানালেন, সুপ্রিম কোর্টকে সম্মান করেন বলেই এক টাকা জরিমানা দেবেন।
প্রশান্ত ভূষণ বলেন, তাঁর বিশ্বাস, দুর্বল ও অত্যাচারিতের শেষ ভরসা হল সুপ্রিম কোর্ট। তিনি কখনই বিচার বিভাগকে আঘাত করতে চাননি। কিন্তু সর্বোচ্চ আদালত 'নিজের পথ থেকে সরে যাচ্ছে' দেখে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন।
প্রশান্ত ভূষণ একটি টুইটে মন্তব্য করেন, গত ছ'বছরে যে চারজন ভারতের প্রধান বিচারপতি হয়েছেন, তাঁরা গণতন্ত্রকে ধ্বংস করার চেষ্টা করে গিয়েছেন। অপর এক টুইটে তিনি প্রধান বিচারপতি এস এ বোবদের ছবি দেন। ছবিতে তাঁকে একটি হার্লে ডেভিডসন বাইকের ওপরে বসে থাকতে দেখা গিয়েছিল। প্রশান্ত ভূষণ মন্তব্য করেন, প্রধান বিচারপতি নিজে হেলমেট বা মাস্ক ব্যবহার করছেন না। এদিকে তিনি কোর্টে লকডাউন করে রেখেছেন। নাগরিকদের ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার থেকে বঞ্চিত করছেন।
সুপ্রিম কোর্ট এর আগে প্রশান্ত ভূষণকে বলেছিল, আদালত অবমাননার জন্য তাঁকে নিঃশর্তে ক্ষমা চাইতে হবে। এদিন সেকথা উল্লেখ করে বিচারপতিরা বলেন, "প্রশান্ত ভূষণ যাতে ভুল স্বীকার করেন, সেজন্য আমরা তাঁকে কয়েকটি সুযোগ দিয়েছিলাম। কিন্তু তিনি নিজের বিবৃতির জোরে ব্যাপক প্রচার পেয়েছেন। বিভিন্ন মিডিয়াকে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন।"
প্রশান্ত ভূষণ এক বিবৃতিতে বলেছিলেন, তিনি নিজের বক্তব্য থেকে সরবেন না। ক্ষমাও চাইবেন না। কারণ তিনি মনে করেন, বিতর্কিত টুইট করে নিজের দায়িত্ব পালন করেছেন। এখন ক্ষমা চাইলে তিনি আদালত ও নিজের বিবেকের কাছে অপরাধী হয়ে থাকবেন। প্রশান্ত ভূষণ দাবি করেন, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে রক্ষা করার জন্যই প্রকাশ্যে সমালোচনা করার অধিকার থাকা উচিত।
সুপ্রিম কোর্ট এই বিবৃতির প্রেক্ষিতে এদিন মন্তব্য করে, "বিচারবিভাগকে প্রভাবিত করার জন্যই এমন বলা হয়েছে।" বিচারপতিরা মনে করিয়ে দেন, বাকস্বাধীনতা নিশ্চয় গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু অন্যের অধিকারকেও সম্মান জানানো উচিত।
এর আগে যেদিন এই মামলার শুনানি হয়েছিল, অ্যাটর্নি জেনারেল কে কে বেণুগোপাল বলেছিলেন, প্রশান্ত ভূষণকে সতর্ক করে ছেড়ে দেওয়া হোক। তাঁর কথায়, "বিচারবিভাগের উন্নতির জন্যই প্রশান্ত ভূষণ টুইট করেছিলেন। এক্ষেত্রে গণতান্ত্রিক মনোভাব দেখানো উচিত। কোর্ট যদি এই ব্যাপারটা নিয়ে আর না এগোয়, সকলেই প্রশংসা করবে।"
প্রশান্ত ভূষণের আইনজীবী রাজীব ধাওয়ান বলেন, "সর্বোচ্চ আদালত যেভাবে নিঃশর্তে ক্ষমা চাইবার জন্য তাঁর মক্কেলকে সময় বেঁধে দিয়েছে, তা অত্যাচারের শামিল।"