
পার্থ চট্টোপাধ্যায়, কুন্তল ঘোষ এবং অর্পিতা মুখোপাধ্যায়।
শেষ আপডেট: 29 November 2024 14:23
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইডির পর সিবিআইয়ের মামলাতেও জামিন পেয়েছেন শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতিতে অভিযুক্ত কুন্তল ঘোষ। গত সপ্তাহেই জামিন পেয়েছেন নিয়োগ মামলার অন্যতম প্রধান অভিযুক্ত অর্পিতা মুখোপাধ্যায় (পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের বান্ধবী, যার বাড়ি থেকে পাওয়া গিয়েছিল নগদ টাকার পাাহাড়)!
এরও আগে এই নিয়োগ মামলায় জামিন পেয়েছেন পলাশীপাড়ার তৃণমূল বিধায়ক মানিক ভট্টাচার্য, বড়ঞার তৃণমূল বিধায়ক জীবনকৃষ্ণ সাহা-সহ আরও কয়েকজন। বস্তুত, নিয়োগ মামলায় একের পর এক অভিযুক্তর জামিন হয়ে যাওয়ায় এর পর পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের পালা কিনা, তা নিয়ে বিভিন্ন মহলে কৌতূহল তৈরি হয়েছে।
আইনজীবীদের একাংশের মতে, এমন কৌতূহল তৈরির নেপথ্যে যথেষ্ট কারণও রয়েছে। বুধবার নিয়োগ মামলায় পার্থর জামিনের প্রশ্নে সুপ্রিমকোর্টের তীব্র ভর্ৎসনার মুখে পড়ে ইডি। আদালত সূত্রের খবর, সেদিন ইডিকে কার্যত ধমক দিয়ে শীর্ষ আদালতের পর্যবেক্ষণ, ''আপনাদের সাজা ঘোষণার হার কত? ৬০-৭০ শতাংশ হলেও বুঝতাম।''
এমনকী পার্থকে দীর্ঘ সময়ে জেলে রাখা নিয়েও সেদিন প্রশ্ন তুলেছিল সর্বোচ্চ আদালত। পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে জামিন দিলে কী সমস্যা হবে, কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার কাছে তাও জানতে চেয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট।
তাৎপর্যপূর্ণভাবে, যে নিয়োগ দুর্নীতির মামলায় পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে গ্রেফতার করা হয়েছে, তাতে সর্বোচ্চ সাজা সাত বছর হতে পারে বলে আদালতে জানিয়েছিলেন পার্থর আইনজীবী মুকুল রোহতগী। তিনি এও বলেন, "পার্থ চট্টোপাধ্যায় ইতিমধ্যে আড়াই বছর জেল খেটে ফেলেছেন। তাও বিচারপ্রক্রিয়াই শুরু হয়নি। এদিকে যার বাড়িতে টাকা পাওয়া গেল, সেই অর্পিতা জামিন পেয়েছেন।"
অতীতে প্রভাবশালী তত্ত্ব খাড়া করে একাধিকবার পার্থর জামিনের বিরোধিতা করেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। তবে পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে নিয়োগ মামলায় একের পর এক অভিযুক্ত জামিন পেয়েছেন, সেদিক থেকে পার্থও শীঘ্রই জামিন পেতে পারেন বলে মনে করছেন তাঁর ঘনিষ্ঠ মহল। পরবর্তী শুনানিতে আদালত এ ব্যাপারে কী পদক্ষেপ করে, সেদিকে তাকিয়ে সব মহল।