.jpeg)
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক।
শেষ আপডেট: 21 January 2025 20:03
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রেশন দুর্নীতি কাণ্ডে এক বছরেরও কিছু বেশি সময় জেল হেফাজতে ছিলেন প্রাক্তন খাদ্য ও বনমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক। গত বুধবার জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। তার পর এক সপ্তাহও কাটেনি। পর পর দু’দিন বিধানসভায় এলেন জ্যোতিপ্রিয়। এ পর্যন্ত কোনও সমস্যা নেই। কিন্তু সূত্রের খবর, জ্যোতিপ্রিয় আকা (অলসো নোন অ্যাজ) বালু কবে মন্ত্রিসভায় ফিরবেন তা নিয়ে উতলা হয়ে রয়েছেন তাঁর ঘনিষ্ঠ বৃত্তের অনেকেই।
বালুর ঘনিষ্ঠ সূত্রে জানা গিয়েছে, জামিনে বেরিয়ে আসার পর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে একবার ফোন করেছিলেন তিনি। মমতা তাঁর কুশল সংবাদ নেন। এবং বিশ্রাম নিয়ে সুস্থ হয়ে উঠতে বলেন। তবে চোখে পড়ার মতো বিষয় হল, চার পাঁচ দিন পর থেকেই বালু মাঠে নেমে পড়েছেন। তাঁর বিধানসভা কেন্দ্র হাবড়ার স্থানীয় নেতাদের ডেকে কথা বলেছেন। এমনকি বকেয়া বেতন, বিধানসভায় তাঁর ঘর ফিরে পাওয়ার ব্যাপার নিয়ে পর পর দু’দিন সেখানে গিয়েছেন।
বস্তুত লোকসভা ভোটের পর থেকেই রাজ্য মন্ত্রিসভায় সম্ভাব্য রদবদল নিয়ে তৃণমূলের ঘরোয়া মহলে একটা আলোচনা চলছে। তাকে নিছক জল্পনা বললে হয়তো লঘু করা হবে। কারণ, এ ব্যাপারে উপরের সারিতে একটা চর্চা রয়েছে বলেই খবর। অবশ্য এ নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বাইরে কিছু বলেননি। মন্ত্রিসভায় রদবদল হবে কিনা তাঁর অগ্রাধিকার ও এক্তিয়ারের মধ্যেই পড়ে। তবে তৃণমূলের একাংশে ধারণা রয়েছে যে দিদির সঙ্গে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের যে মতান্তরের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তাতেই গোটা ব্যাপারটা পিছিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু এ মাসে না হলেও পরের মাসে একটা রদবদলের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
বাংলায় তৃণমূল সরকার গঠনের পর থেকেই মন্ত্রিসভায় গুরুত্বপূর্ণ দফতরের দায়িত্বে ছিলেন বালু। উত্তর চব্বিশ পরগনার জেলা সভাপতি থাকার পাশাপাশি খাদ্য মন্ত্রী ছিলেন তিনি। তবে একুশের বিধানসভা ভোটের পর তাঁর দায়িত্ব অনেকটাই কমিয়ে দেওয়া হয়। জেলা সভাপতি পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় বালুকে। সেই সঙ্গে মন্ত্রিসভাতেও তাঁর কদর কমে। খাদ্য দফতর থেকে বন দফতরে পাঠিয়ে দেওয়া হয় তাঁকে। এহেন বালুকে ইডি হেফাজতে নেওয়ার পরও কিছুদিন তাঁকে মন্ত্রিসভা থেকে সরানো হয়নি। পরে বালুকে মন্ত্রিসভা থেকে সরিয়ে বন দফতরের প্রতি মন্ত্রী বীরবাহা হাঁসদাকে স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতি মন্ত্রী করা হয়।
এখন কৌতূহলের বিষয় হল, জ্যোতিপ্রিয়কে কি মন্ত্রিসভায় ফেরানো হবে?
এর স্পষ্ট কোনও উত্তর তৃণমূলের শীর্ষ সারির নেতার কাছেও রয়েছে কিনা সন্দেহ। পুরোটাই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্থির করবেন। তবে হ্যাঁ, এ ব্যাপারে অনেকে পুরনো দৃষ্টান্ত হাতড়ে দেখছেন।
প্রসঙ্গত, এক সময় রাজ্যের ক্রীড়া ও পরিবহণ মন্ত্রী ছিলেন কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্র। তবে সারদা চিট ফাণ্ড কাণ্ডে জেলে যাওয়া এবং জেল মুক্তির পর মদনকে আর মন্ত্রিসভায় ফেরাননি মুখ্যমন্ত্রী। দলেরও কোনও গুরুত্বপূর্ণ পদে ফেরাননি। তবে জ্যোতিপ্রিয়র গ্রেফতারি নিয়ে অতীতে বিভিন্ন সভা, সমাবেশ থেকে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার নিরপেক্ষতা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। ফলে শেষ পর্যন্ত বালুর ভাগ্যে আবার মন্ত্রিত্ব ফিরবে কিনা, তার সদুত্তর মিলবে সময়েই।