
শেষ আপডেট: 7 February 2024 12:11
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শুভেন্দু অধিকারীর হুঁশিয়ারির পর রাজ্যের মন্ত্রী শশী পাঁজার কি সুর নরম হয়ে গেল! শুধু বিরোধী শিবিরে নয়, তৃণমূলের মধ্যেও অনেকে তা বোঝার চেষ্টা করছেন।
সোমবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহর সঙ্গে দেখা করেছিলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। সন্ধ্যায় কলকাতায় ফিরে তিনি বলেছিলেন, অ্যাকশন হবে। ঘটনাচক্র মঙ্গলবার সকাল থেকে রাজ্যের ৬ জায়গায় ইডির তল্লাশি শুরু হয়। তা নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিলেন, শিল্প এবং মহিলা ও শিশু কল্যাণ মন্ত্রী শশী পাঁজা। শশী পাঁজা পেশায় চিকিৎসক ছিলেন। ইংরেজি, হিন্দি ও বাংলা তিনটি ভাষায় স্বচ্ছন্দ বলে দল তাঁকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মুখপাত্র হিসাবে কাজে লাগায়।
মঙ্গলবার ইডির তল্লাশি প্রসঙ্গে শশী রেড রোডে ধর্নাস্থলে দাঁড়িয়ে বলেছিলেন, ক্রোনোলজি বোঝার চেষ্টা করুন। শুভেন্দু অধিকারী দিল্লিতে কারও সঙ্গে দেখা করে এলেন তার পরই তল্লাশি শুরু হয়ে গেল। উনিই কলকাঠি নাড়ছেন।
শুভেন্দু সে সময়ে ছিলেন বিধানসভায়। শশী পাঁজার এ কথার জবাবে শুভেন্দু বলেন, “শশী পাঁজার দফতরের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। ভাল পরিবারের উনি একজন সম্মানীয়া মহিলা। আপনার পিএ-র সঙ্গে প্রমোদ আগরওয়ালের যে সম্পর্ক, আইসিডিএসের টেন্ডার কেলেঙ্কারি নিয়ে যে কাগজ আমাদের হাতে আছে... দয়া করে বেশি ঘাঁটাবেন না। আপনার অবস্থা জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক, সুজিত বসুর মতো হবে।”
এখানে বলে রাখা ভাল, গত ১২ জানুয়ারি দমকল মন্ত্রী সুজিত বসুর বাড়িতে ইডি তল্লাশি চালায়। সন্ধের পর ইডি অফিসাররা বেরিয়ে যেতেই সুজিত শুভেন্দুর উদ্দেশে তীব্র আক্রমণ করেন। দমকল মন্ত্রী বোঝাতে চান, তাঁর বাড়িতে ইডির তল্লাশির নেপথ্যে শুভেন্দুরই হাত রয়েছে।
শুভেন্দু বিধানসভায় বসে ওই হুঁশিয়ারি দেওয়ার পর শশী পাঁজার কী বক্তব্য তা নিয়ে কৌতূহল তৈরি হয়। এ ব্যাপারে প্রশ্ন করা হলে শশী বলেন, “আমরা কারও বিরুদ্ধে ব্যক্তি আক্রমণ করি না। দলগত ভাবে আরেকটি দল ও কেন্দ্র সরকারের সমালোচনা করেছি। উনি যদি এটা বলে থাকেন, তাহলে এটা নিয়ে আমার কোনও উক্তি নেই, কোনও প্রতিক্রিয়াও নেই।”
শশীর এই মন্তব্য নিয়েই ময়নাতদন্ত শুরু হয়েছে রাজ্য রাজনীতিতে। শুভেন্দু সরাসরি শশী পাঁজার দফতর, তাঁর পিএ-র বিরুদ্ধে প্রশ্ন তুলেছেন। টেন্ডার কেলেঙ্কারির অভিযোগ তুলেছেন। তার চেয়ে বড় কথা হল, জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের মতো অবস্থা হবে বলেছেন। জ্যোতিপ্রিয় এখন জেলে রয়েছেন। এর পরেও শশী কোনও জবাব দিলেন না তা নিয়ে কৌতূহল তৃণমূলেরও অনেকের মধ্যে রয়েছে।
পর্যবেক্ষকদের অনেকের মতে, শুধু বাংলা নয়, সর্বভারতীয় স্তরে বিরোধী দলগুলির একাংশ নেতা নেত্রীর বিরুদ্ধে যেভাবে ইডি-সিবিআই তদন্তে নেমে পড়েছে, তা ভয়ের পরিবেশ তৈরি করেছে। রাষ্ট্র যদি কাউকে হেনস্তা করবে বলে মনে করে, তাহলে ব্যক্তি স্বাভাবিক ভাবেই অসহায় হয়ে পড়তে পারে। এই পরিবেশ এখন গোটা দেশেই রয়েছে। বাংলাও তার থেকে বিচ্ছিন্ন নয়।