
শেষ আপডেট: 26 August 2020 18:30
ডক্টর আকিকো ইওয়াসাকি[/caption]
জার্মানির হ্যামবার্গের ইউনিভার্সিটি অব মেডিক্যাল সেন্টারের গবেষক ডক্টর মার্কাস আটফেল্ড বলেছেন, পুরুষরা কেন বেশি ভাইরাস আক্রান্ত হচ্ছেন তার সম্ভাব্য কিছু কারণ পাওয়া গেছে। মূলত দুটি কারণ সামনে এসেছে—
এক, যৌন হরমোনের প্রভাব। গবেষণায় দেখা গেছে স্ত্রী যৌন হরমোন ইস্ট্রোজেন এই ACE-2 রিসেপটর প্রোটিনের উপর প্রভাব খাটাতে পারে। ওয়াশিংটনের জর্জটাউন ইউনিভার্সিটির গবেষকরা বলেছেন, এই রিসেপটর প্রোটিন পুরুষ ও স্ত্রীয়ের শরীরে ভিন্ন রকম ভাবে কাজ করে। পরীক্ষা করে দেখা গেছে ইস্ট্রোজেন কিডনিতে এসিই-২ রিসেপটর প্রোটিনের কাজ করার ক্ষমতা কমিয়ে দেয়। এই প্রোটিনের প্রকাশ যদি কমে তাহলেই ভাইরাস আর এই রিসেপটরকে চিহ্নিত করতে পারবে না। ফলে কোষে ঢোকার রাস্তাটাই খুঁজে পাবে না। যৌন হরমোনের তত্ত্বে যদিও সব বিজ্ঞানীরা সম্মতি দেননি। জন হপকিনস ইউনিভার্সিটির গবেষকদের দাবি, স্ত্রী যৌন হরমোনের কারণেই যদি মহিলারা কম সংক্রমিত হন, তাহলে বয়স্ক মহিলাদের মধ্যেও সংক্রমণের হার কম কেন। মেনোপজ হয়ে গেছে এমন মহিলারাদের থেকে বয়স্ক পুরুষরা বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন কোভিড সংক্রমণে। অনেক গবেষকেরই তাই দাবি, শুধু স্ত্রী যৌন হরমোন নয়, ধূমপানে আসক্তি, জীবনযাপনের ধরন, পরিচ্ছন্নতা ও নেশার মাত্রা, অনেককিছুই ফ্যাক্টর রয়েছে নারী-পুরুষ সংক্রমণ হারের এই ফারাকের পিছনে।
দুই, টি-কোষের সক্রিয়তা। গবেষকরা দাবি করেছেন, মহিলাদের তুলনায় পুরুষদের টি-কোষের সক্রিয়তা কম। বিশেষত, ভাইরাসের মোকাবিলা করতে মহিলাদের টি-কোষ যতটা সক্রিয়, পুরুষদের ততটা নয়। অথচ এই টি-কোষই শরীরের রোগ প্রতিরোধের মূল অস্ত্র। সিডি৮ রিসেপটর যুক্ত টি-কোষ ভাইরাল প্রোটিন শুধু নয় ভাইরাস সমেত সংক্রামিত কোষকেও নষ্ট করে ফেলতে পারে। টিকার ডোজে অ্যান্টিবডি তৈরি করার পাশাপাশি এই টি-কোষকেও জাগিয়ে তোলার চেষ্টা করছেন গবেষকরা। দেখা গেছে, ৯০ বছরের মহিলারও টি-কোষ অ্যাকটিভ হতে পারে, পুরুষদের ক্ষেত্রে সে সম্ভাবনা কম। যৌন হরমোনের প্রভাব যদি না থাকে তাহলে টি-কোষের সক্রিয়তাও একটা কারণ হতে পারে বলেই দাবি করছেন বিজ্ঞানীরা।