মুখ্যমন্ত্রী বলেন, দাঙ্গা এবং বন্যায় মানুষের সবচেয়ে বেশি ক্ষোভ থাকে। এটা হওয়াটা স্বাভাবিক। ঠান্ডাভাবে সেই পরিস্থিতি সামলাতে হয়। আমরা সেটাই করছি।

সাংবাদিক বৈঠকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
শেষ আপডেট: 7 October 2025 17:56
দ্য ওয়াল ব্যুরো: উত্তরবঙ্গের (North Bengal) ভয়াবহ দুর্যোগের মধ্যে রবিবার কলকাতায় কেন দুর্গাপুজোর কার্নিভালের অনুষ্ঠান করা হল (Durga puja Carnival), কেন ওই দিনই উত্তরবঙ্গ সফরে না এসে মুখ্যমন্ত্রী কার্নিভালে উপস্থিত ছিলেন তা নিয়ে গত কয়েকদিন ধরে বিরোধীরা হাজারও কটাক্ষ ছু়ড়ে দিয়েছে।
সোমবার দুপুর থেকে মঙ্গলবার দুপুর, উত্তরের বিপর্যয়গ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনের পর এদিন বিকেলে উত্তরকন্যার সাংবাদিক বৈঠক থেকে যাঁর জবাব দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, যাঁরা কার্নিভাল নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন তাঁরা আসলে রাজনীতি করছেন।
এরপরই নিজস্ব স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, "তাছাড়া দুর্গাপুজোর অনুষ্ঠানটাও আমাদের ঐতিহ্যের স্বীকৃতি, আমাদের গর্ব। সবকিছু আগে থেকে ঠিক করা হয়েছিল। ফলে রাতারাতি এভাবে ক্যান্সেল করা সম্ভব! তাছাড়়া আমরা যদি ওই দিনই আসতাম, এসে কী করতাম? পুলিশ, প্রশাসন কাকে সামলাত? হোয়াট ইজ দ্য প্রায়োরিটি। বিপদের সময় মানুষের পাশে থাকা, তাঁদের উদ্ধার করা নাকি ভিআইপি সামলানো, কোন কাজটা করবে প্রশাসন।"
গত শনিবার অতিবৃষ্টি এবং ধসে বিপর্যস্ত হয় উত্তরবঙ্গের বিস্তীর্ণ এলাকা। শনিবার রাত থেকেই তিনি এবং তাঁর টিম প্রতিমুহূর্তে খোঁজখবর নিচ্ছিলেন বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, রবিবার ভোর পাঁচটায় আমি প্রশাসনের সঙ্গে মিটিং করি। ততক্ষণে স্থানীয় প্রশাসন স্পটে। অর্থাৎ উদ্ধারকাজে কোনও খামতি ছিল না। প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই তা শুরু করা হয়েছিল।
এরপরই বন্যার ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে তোপ দেগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, বন্যা ত্রাণে বাংলাকে এক টাকাও দেওয়া হয়নি। তা সত্ত্বেও আমরা তো লড়াই করে যাচ্ছি। দুটো দিন অপেক্ষা করলে তো মহাভারত অশুদ্ধ হয়ে যাবে না, জীবনটা তো আগে। তাই সবার আগে আমরা উদ্ধার কাজে নজর দিয়েছি।
নাম না করে প্রধানমন্ত্রীকে কটাক্ষ করে মুখ্যমন্ত্রী এও বলেন, ''নির্বাচিত সরকারের কথা না শুনে দোষারোপ চলছে! মৃত্যু হয়েছে প্রাকৃতিক দুর্যোগে বলা হল ব্রিজ ভেঙে!"
প্রসঙ্গত, শিলিগুড়িতে ব্রিজ ভেঙে মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে টুইট করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী। পরোক্ষে মোদীর ওই টুইটকে এদিন কটাক্ষ করেন রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান।
দুর্য়োগে মানুষের ক্ষোভের প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, দাঙ্গা এবং বন্যায় মানুষের সবচেয়ে বেশি ক্ষোভ থাকে। এটা হওয়াটা স্বাভাবিক। ঠান্ডাভাবে সেই পরিস্থিতি সামলাতে হয়। আমরা সেটাই করছি। নেপাল, ভুটান থেকে দেহ ভেসে এ রাজ্যে ঢুকছে বলেও জানান রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান।
নিহতদের পরিবারের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিটি পরিবারকে যথাযথ ক্ষতিপূরণ তুলে দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী। পরিস্থিতির ওপর আরও একদিন নজরদারির পর আগামিকাল কলকাতায় ফিরবেন বলে জানান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।