
ববিতা সরকার ও ফিরদৌস শামিম।
শেষ আপডেট: 12 April 2025 16:13
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ২০১৬ সালের এসএসসির (SSC 2016) নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল। ওই মামলায় গত ৩ এপ্রিল আস্ত প্যানেল বাতিল করেছে সুপ্রিমকোর্ট (Supreme Court)। চাকরিহারা হয়েছেন প্রায় ২৬ হাজার শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী। আদালতের রায় বেরানোর পরও একাংশ শিক্ষক, শিক্ষিকা ও শিক্ষাকর্মী স্কুলে যাচ্ছেন।
কীভাবে তাঁদের স্কুলে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে, রাজ্যের শিক্ষা দফতর চুপ কেন? এই প্রশ্ন তুলে রাজ্যের শিক্ষা দফতরের সচিব, শিক্ষা দফতরের কমিশনার, স্কুল সার্ভিস কমিশনের (এসএসসি) চেয়ারম্যান এবং মধ্যশিক্ষা পর্ষদের সভাপতিকে আদালত অবমাননার আইনি নোটিস পাঠানো হল। নোটিস দিলেন এসএসসি মামলার মূল মামলাকারী ববিতা সরকার, নাসরিন খাতুন, লক্ষ্মী তুঙ্গা, আব্দুল গনি আনসারিরা। তাঁদের হয়ে শিক্ষা কর্তাদের এই আইনি নোটিস পাঠিয়েছেন আইনজীবী ফিরদৌস শামিম এবং গোপা বিশ্বাস।
প্রসঙ্গত, হাইকোর্টের নির্দেশে চাকরি গিয়েছিল প্রাক্তন শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী পরেশ অধিকারীর কন্যা অঙ্কিতা অধিকারীর। সেই চাকরি পেয়েছিলেন ববিতা। পরে দেখা যায় ববিতার চেয়েও যোগ্য প্রার্থী রয়েছেন। তখন ববিতার পরিবর্তে সেই চাকরি পান শিলিগুড়ির অনামিকা রায়। গত ৩ এপ্রিল সুপ্রিম নির্দেশে চাকরি হারিয়েছেন সেই অনামিকাও।
আইনজীবী মারফৎ পাঠানো চিঠিতে ববিতাদের অভিযোগ, সুপ্রিমকোর্ট ২৫,৭৩৫ জনের চাকরি বাতিল করার পরও তাঁদের স্কুলে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে। এর অর্থ রাজ্যে শিক্ষা দফতরের আধিকারিকরা জেনে বুঝে শীর্ষ আদালতের নির্দেশকে ভঙ্গ করতে সহযোগিতা করছেন। সে কারণেই আদালত অবমাননার নোটিস ধরানো হয়েছে। একই সঙ্গে প্রকৃত ওওমআর শিট প্রকাশের দাবিও জানানো হয়েছে।
তবে চাকরিহারা শিক্ষকদের বক্তব্য, সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পরে শিক্ষা দফতরের পক্ষ থেকে শিক্ষকদের স্কুলে যোগদানের বিষয়ে কোথাও স্পষ্ট ভাবে কিছু জানানো হয়নি। ফলে স্কুলে যাওয়ার মধ্যে চাকরিহারারা আদালত অবমাননার কোনও বিষয় দেখছেন না। এমনকী গত ৭ এপ্রিল নেতাজি ইনডোর থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চাকরিহারাদের স্কুলে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন। তবে আদালত অবমাননার নোটিস সম্পর্কে শিক্ষা দফতরের কোনও কর্তার প্রতিক্রিয়া এখনও জানা যায়নি।