
শেষ আপডেট: 17 April 2023 13:45
দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রকাশ্য রাস্তায় পুলিশের ঘেরাটোপের মধ্যেই গ্যাংস্টার-রাজনীতিবিদ আতিক আহমেদ (Atiq Ahmed) ও তাঁর ভাইকে গুলি করে খুন করার ছবি দেখে শিউরে উঠেছে গোটা দেশ। এই খুনের ঘটনায় তিনজনকে গ্রেফতার করেছে যোগীর পুলিশ। সেই লভলেশ (Lavlesh), সানি (Sunny) ও অরুণ (Arun) নামে তিনি অভিযুক্তকে নিয়ে তোলপাড় চলছে গোটা দেশে।
নিজেদের সাংবাদিক হিসেবে পরিচয় দিয়ে শনিবার রাতে অন্যান্য সাংবাদিকদের ভিড়ে ঢুকে পড়েছিল লভলেশরা। তারপরই সুযোগ বুঝে পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে গুলি করে তারা। সেই তিনজনকে গ্রেফতার করে প্রথমে পাঠানো হয় নৈনী জেলে। এখানেই ছিলেন আতিক। কিন্তু সোমবার দেখা গেল সেই জেল থেকে অভিযুক্তদের সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে প্রতাপগড় জেলে। পুলিশ জানিয়েছে, নিরাপত্তার কারণেই সরানো হল তাদের।
এক ঝলকে দেখে নেওয়া যাক এই তিন অভিযুক্তর অপরাধ জীবন
লভলেশ তিওয়ারি
লভলেশের বিরুদ্ধে রয়েছে ৪০৬টি মামলা। ছোটখাটো চুরি থেকে শুরু করে গুন্ডামি, মারামারি, খুন--- সব বিষয়েই পুলিশের খাতায় নাম রয়েছে তার। দরিদ্র পরিবারের ছেলে লভলেশের বাবা পেশায় ছিলেন গাড়ির চালক। দুই ভাই ও বাবা-মাকে নিয়ে একটি ভাড়া বাড়িতে থাকত লভলেশ। স্থানীয়দের কথায়, তিওয়ারি পরিবার এলাকায় সহজ সরল হিসেবে পরিচিত। লভলেশের দুই ভাইয়ের মধ্যে একজন পুরোহিত, অন্যজন ছাত্র।
কিন্তু পরিবারের বাকিদের থেকে একদম আলাদা ছিল লভলেশ। ছোট থেকেই অপরাধ জগতে হাত পাকিয়েছে। অপরাধের দুনিয়ায় তার কেউকেটা হওয়ার আকাঙ্খা ছিল বলে লভলেশের বন্ধু মহল সূত্রে খবর। গ্রেফতারের পর লভলেশের মা কাঁদতে কাঁদতে বলেছিলেন, 'জানি না এরপর ওর (লভলেশ) কী হবে, ভাগ্যে কী লেখা আছে।'
পরিবারের সঙ্গে লভলেশ যে কোনওভাবে যোগাযোগ রাখত না সেটাই জানান তার বাবা যজ্ঞ তিওয়ারি। ছেলের এমন কার্যকলাপ সম্পর্কে তিনি কিছুই বলতে চাননি। শুধু একটু জানান, লভলেশ কোনও কাজ করত না, মদের নেশায় চুর থাকত। ওর ব্যাপারে তিনি আর কিছু জানেন না।
মোহিত ওরফে সানি
আতিককে খুন করার অভিযোগে অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছে সানি। পুলিশ সন্দেহ করছে, সানি একটি বড় গ্যাংয়ের সঙ্গে যুক্ত ছিল। ৬ মাস আগে জেল থেকে মুক্তি পেয়েছিল সে। ১২ বছর আগে বাড়ি ছেড়ে দেয় মোহিত। কুখ্যাত সুন্দর ভাটির দলের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে সে।
কুরারা এলাকায় থাকত মোহিত। এলাকায় সানি নামে পরিচিত। কিন্তু প্রায়শই ঝগড়া-বিবাদের মধ্যে জড়িয়ে থাকত। স্থানীয়দের কথায়, রগচটা ছেলে ছিল সানি। কুরারা ছেড়ে চলে যায়। হারিমপুর জেলে ছিল সে। পুলিশ তাকে দাগি আসামি বলে উল্লেখ করেছে। তার বিরুদ্ধে মোট ১৪টি ফৌজদারি মামলা রয়েছে। যার মধ্যে খুনের অভিযোগ , ডাকাতি, মাদক পাচার, এবং খুনের চেষ্টা ইত্যাদি রয়েছে।
অরুণ মৌর্য
অরুণ মৌর্য, এলাকায় কালিয়া নামে পরিচিত। ২০১৪-১৫ সালে একজন পুলিশ কনস্টেবলকে খুন করার অভিযোগ ওঠে অরুণের বিরুদ্ধে। সেও জেল খেটেছে আগে। অরুণের বাবা-মা অনেকদিন আগেই মারা গেছেন। দুই ভাই দিল্লিতে ব্যবসা করেন।
একসময় কাশগঞ্জ গ্রামে থাকত অরুণ। সেখানেই মৌর্য পরিবারের আদিবাস। তবে গ্রামবাসীরা অরুণের এইসব কার্যকলাপ সম্পর্কে কিছুই জানতেন না। প্রায় এক দশক আগে গ্রাম ছেড়েছিল সে। তারপর আর গ্রামে ফেরেনি।
আততায়ী তিনজনই দাবি করেছিল, 'আতিককে খুন করে' অপরাধ জগতে নাম করতে চেয়েছিল তারা। পুলিশ তিনজনের বিরুদ্ধে খুন, খুনের চেষ্টা ও অস্ত্র আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ এনেছে। তদন্তকালে ঘটনাস্থল থেকে অন্তত দুটি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। এখন দেখার এই তিনজনের ভবিষ্যতে কী অপেক্ষা করছে।
কোন অভিশাপ ফলে গেল আতিকের জীবনে! ১৮ বছর আগে রাজু পালের সদ্যবিধবা স্ত্রী বলেছিলেন…