দ্য ওয়াল ব্যুরো : মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আপনি এখন নির্বাচিত সরকার ফেলতে ব্যস্ত। তাই হয়তো আপনার চোখ এড়িয়ে গিয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমেছে ৩৫ শতাংশ। আপনি কি এই লাভটুকু সাধারণ ভারতীয়দের সঙ্গে ভাগ করে নেবেন? তাহলে এক লিটার পেট্রলের দাম ৬০ টাকার নীচে নামবে। অর্থনীতি চাঙ্গা হবে।
বুধবার এভাবেই সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে কটাক্ষ করলেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। মধ্যপ্রদেশে জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া ও তাঁর অনুগামী ২১ জন বিধায়ক বিদ্রোহ করেছেন। কমলনাথ সরকার ভেঙে পড়ার মুখে। মধ্যপ্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী শিবরাজ সিং চহ্বণ অবশ্য বলেছেন, এটা কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ ব্যাপার। কিন্তু পর্যবেক্ষকদের ধারণা, বিজেপিই ঠিক ১৫ মাসের মাথায় কমলনাথ সরকারকে ফেলে দিতে চলেছে। মঙ্গলবার মোদীর সঙ্গে দেখা করার পরেই সিন্ধিয়া কংগ্রেস ছাড়েন। সেজন্যই রাহুল বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত কংগ্রেস সরকারকে ফেলে দিতে ব্যস্ত।
https://twitter.com/RahulGandhi/status/1237615604040781829
আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমতে শুরু করেছে গত সপ্তাহ থেকে। ওপেক গোষ্ঠীভুক্ত দেশগুলি রাশিয়াকে প্রস্তাব দেয়, তেল উৎপাদন দৈনিক ১৫ লক্ষ ব্যারেল কমানো হোক। রাশিয়া সেই অনুরোধ মানেনি। তখন তাদের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে তেলের দাম কমাতে থাকে সৌদি আরব। সৌদি আরবের তেল কোম্পানি আরামকো জানায়, তারা ব্যারেল পিছু তেলের দাম কমিয়ে দেবে ছয় ডলার। এর ফলে রবিবার রাতে অপরিশোধিত তেলের প্রতি ব্যারেলের দাম ৩২ শতাংশ কমে দাঁড়ায় ২৮ ডলার। আশঙ্কা করা হচ্ছে, তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ২০ ডলার পর্যন্ত নামতে পারে।
১৯৯১ সালে প্রথমবার উপসাগরীয় যুদ্ধ শুরু হওয়ার পরে আর কখনও তেলের দাম এত কমেনি। এর ফলে ইরাক ও নাইজেরিয়ার মতো যে দেশগুলির অর্থনীতি তেলের ওপরে নির্ভরশীল, তারা বিপদে পড়তে পারে। আন্তর্জাতিক রাজনীতিতেও বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে এর ফলে। সৌদি আরবের মতো তেল উৎপাদনকারী দেশগুলির গুরুত্ব কমতে পারে। তেল এত সস্তা হওয়ায় আগামী দিনে বিকল্প এনার্জির বদলে পেট্রোল, ডিজেল ব্যবহারের প্রবণতা বাড়বে। ফলে পরিবেশ বাঁচানোর লড়াইও ধাক্কা খাওয়ার সম্ভাবনা আছে।
এমনিতে বিশ্ব জুড়ে করোনাভাইরাস সংক্রমণের ফলে তেলের চাহিদা কমেছে। তার ওপরে তেলের দাম স্থিতিশীল রাখার যে ব্যবস্থা ছিল, তাও কার্যত ভেঙে পড়েছে।