.webp)
ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 9 October 2024 23:37
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ষষ্ঠীর রাত। কলকাতা থেকে জেলা সারা শহর যখন উৎসবে ব্যস্ত তখন স্বাস্থ্যভবনে বসেছে রুদ্ধদ্বার বৈঠক। মুখ্যসচিব মনোজ পন্থর ডাকে সাড়া দিয়ে অবশেষে বুধবার রাত সাড়ে ন'টা নাগাদ স্বাস্থ্যভবনে পৌঁছন আন্দোলনকারী জুনিয়র চিকিৎসকরা। প্রায় ২ ঘণ্টা হতে চলল। এখনও বৈঠক চলছে।
প্রশাসনের তরফে বৈঠকে মুখ্যসচিবের পাশাপাশি উপস্থিত রয়েছেন স্বরাষ্ট্রসচিব নন্দিনী চক্রবর্তী এবং ডিজি রাজীব কুমার। অন্যদিকে আন্দোলনকারীদের তরফে ২০ জন জুনিয়র চিকিৎসক উপস্থিত রয়েছেন বলে খবর।
বৈঠক থেকে কি সমাধান সূত্র বের হবে? আপাতত সেদিকেই তাকিয়ে সব মহল। স্বচ্ছতার সঙ্গে দ্রুত নির্যাতিতার ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা, স্বাস্থ্যসচিবের পদ থেকে নারায়ণস্বরূপ নিগমকে অপসারণ করা, হাসপাতালগুলিতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা-সহ ১০ দফা দাবিতে গত শনিবার থেকে ধর্মতলায় অনশন শুরু করেছেন আন্দোলনকারী জুনিয়র চিকিৎসকরা।
প্রসঙ্গত, সোমবারই নবান্ন থেকে রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজ পন্থ সাংবাদিক বৈঠক করে ঘোষণা করেন, ডাক্তারদের সুরক্ষার বিষয়টি অগ্রাধিকার দিয়েই দেখছে সরকার। 'রাত্তিরের সাথী' প্রকল্পে ইতিমধ্যে ১১৩ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে। ৪৫ শতাংশের বেশি সিসিটিভির কাজ হয়ে গেছে। এছাড়া ওয়াশরুম সংক্রান্ত ৬৫ শতাংশ কাজ এগিয়ে গেছে বলেও জানিয়েছেন তিনি। আগামী ১০ অক্টোবরের মধ্যে ৯০ শতাংশ কাজ হয়ে যাবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যসচিব। তিনি এও বলেন, ১৫ অক্টোবর থেকে পাইলট প্রজেক্টের কাজ শুরু হবে। সব ঠিক হলে প্যানিক বটন-এর কাজ শুরু হবে পয়লা নভেম্বর থেকে।
যদিও পাল্টা হিসেবে সেদিনই আন্দোলনকারীদের তরফে জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল, শুধু মৌখিক আশ্বাস নয়, দাবি পূরণে নির্দিষ্ট সময়সীমা দিতে হবে। জানা যাচ্ছে, বৈঠকে এনিয়েই মূলত আলোচনা চলছে। জুনিয়র ডাক্তারদের কাজে ফেরার বার্তা দেন মুখ্যসচিব। তিনি এও বলেন, সবাই মিলে হাসপাতালের পরিষেবা আরও ভাল করার কাজ করছেন। আশা করা হচ্ছে দ্রুত পরিস্থিতি বদলাবে।
নিরাপত্তার নিরিখে হাসপাতালগুলিতে ইতিমধ্যে যে কিছু কাজ হয়েছে তা স্পষ্ট। একান্ত আলোচনায় বিষয়টি মানছেন আন্দোলনকারীদের একাংশও। তবে স্বাস্থ্য সচিবের পদত্যাগের দাবিতে অনড় তাঁরা। তাঁদের বক্তব্য, 'এই স্বাস্থ্য সচিবই সুপ্রিমকোর্টে দাঁড়িয়ে বলেছিলেন, যে সাগরদত্তে রোগী মৃত্যুর জন্য দায়ী চিকিৎসকরা। অর্থাৎ উনি সরকারিভাবে আমাদের গণশত্রু বানাতে চাইছেন নাকি?'
এর আগে আন্দোলনকারীদের চাপে কলকাতার পুলিশ কমিশনার পদ থেকে বিনীত গোয়েল এবং রাজ্য স্বাস্থ্য দফতরের অন্যতম দুই শীর্ষ কর্তাকে পদ থেকে সরিয়েছিল নবান্ন। এক্ষেত্রে কি আন্দোলনকারীদের দাবি মেনে শেষ পর্যন্ত স্বাস্থ্যসচিবকে সরাতে রাজি হবে রাজ্য? নাকি রাজ্যকে আরও কিছুটা সময় দেবেন আন্দোলনকারীরা? এখন দেখার জট কাটে কি না।