
ছবি- দ্য ওয়াল।
শেষ আপডেট: 14 January 2025 20:02
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মঙ্গলবার ছিল মকর সংক্রান্তি। একসময় এই মকর সংক্রান্তিকে কেন্দ্র করে তার কয়েকদিন আগে থেকেই বাড়িতে বাড়িতে বেড়ে যেত ব্যস্ততা। বিশেষত মকর সংক্রান্তির আগের দিন তো দম নেওয়ার ফুরসত পেতেন না বাড়ির মেয়ে বউরা!
গরম জলে চালের গুঁড়ো মাখা, ক্ষীরের পুর, নারকেল পুর, তিলের পুর তৈরি করা। তা দিয়ে পিঠে বানানো। সেদ্ধ থেকে দুধ, কত রকমের পিঠেতেই না ভরে উঠত বাঙালির রন্ধনশালা। পরের ক'দিন বাড়িতে বাড়িতে দু'বেলার টিফিনে বাধ্যতামূলকভাবে জায়গা পেত এই পিঠে। কালের নিয়মে তা এখন অতীত। পিঠে থাকলেও পিঠে তৈরির সেই ব্যস্ততা আর দেখা যায় না বাড়িতে বাড়িতে।
এর জন্য নানা বিধও কারণও রয়েছে। 'খিড়কি থেকে সিংহ দুয়ারের বেড়া জাল' টপকে বাড়ির মেয়ে, বধূরাও এখন ছেলেদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কর্মরত। বাকি যারা রয়েছেন, তাঁদের একাংশও এখন নেটদুনিয়ায় মগ্ন। অগত্যা, চুকেছে বাড়িতে পিঠে বানানোর পাঠ। পরিবর্তে মিষ্টির দোকানে এখন হরেক রকমবা পিঠের পসরা। কলকাতা থেকে জেলা, মকর সংক্রান্তিতে প্রতিবারের মতো এবারও মিষ্টির দোকানে পিঠে কেনার ভিড় দেখা গিয়েছে।
কী নেই সেই তালিকায়? ক্ষীর, নারকেল, তিল, দুধ, ভাজা পিঠে থেকে শুরু করে পাটিসাপটা, মশলা - হাজারও পিঠের ভিড় মিষ্টির দোকানে। শহরতলির প্রবীণ বাসিন্দা অনিমেষ দত্তর কথায়, "একসময় মকর সংক্রান্তি উপলক্ষ্যে বাড়িতে পিঠে বানানোর উৎসব শুরু হয়ে যেত! বাড়ির বানানো সেই পিঠে নলেন গুড় দিয়ে খাওয়ার তৃপ্তিই ছিল আলাদা। এখন সবাই ব্য়স্ত। অত সময় কারও নেই। অগত্যা মিষ্টির দোকান ভরসা।"
দমদমের এক মিষ্টি বিক্রেতা অঞ্জন ভট্টাচার্যর কথায়, "বছর দশেক আগেও সেই অর্থে মিষ্টির দোকানে পিঠে তৈরির চল ছিল না। কিন্তু ক্রেতাদের চাহিদা মেনে এখন মকর সংক্রান্তির অনেক আগে থেকেই পিঠে বানানোর চল শুরু হয়েছে। এতে বাড়তি লাভও হচ্ছে।" গৃহবধূ অমৃতা রায়ের কথায়, "আমরা শুধু ফেসবুক, হোয়াটস অ্যাপ নিয়ে ডুবে থাকি, এমনটা ভাবাও ঠিক নয়। একটা সময়, বাড়িতে কত লোক থাকতো। এখন সবই ছোট ছোট পরিবার। লোকবল ছাড়া তো একা একা পিঠেও বানানো যায় না। ফলে দোকানই ভরসা!"