দ্য ওয়াল ব্যুরো: নাগরিকত্ব আইনের বিরোধিতায় গোটা দেশে যখন তোলপাড় চলছে, ঠিক সেই পরিস্থিতিতেই কাল সোমবার ঝাড়খণ্ডে বিধানসভা ভোটের ফল ঘোষণা হতে চলেছে। যে ফলাফলের প্রভাব বিজেপির দীর্ঘমেয়াদি রাজনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ হোক বা না হোক, এই মুহূর্তের রাজনীতির জন্য খুবই প্রাসঙ্গিক হতে চলেছে বলেই মনে করা হচ্ছে। বড় কথা হল, ঝাড়খণ্ডে ভোট গ্রহণ মিটে যাওয়ার পর বুথ ফেরত সমীক্ষায় বিজেপির জন্য শুভ ইঙ্গিত নেই বললেই চলে।
২০১৫ সাল থেকে যে সমীক্ষা সংস্থা প্রায় সব ভোটের ফলাফলের সঠিক পূর্বানুমান করেছে, সেই অ্যাক্সিস জানিয়েছে ঝাড়খণ্ডে পতন হতে পারে বিজেপি সরকারের। ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চা ও কংগ্রেসের জোট পেতে পারে ৩৮ থেকে ৫০ টি আসন। তুলনায় বিজেপি পেতে পারে ২২ থেকে ৩২ টি আসন। অন্যদিকে টাইমস নাও-য়ের সমীক্ষায় বলা হয়েছে, ত্রিশঙ্কু হতে পারে ঝাড়খণ্ডে। তবে বিজেপির তুলনায় এগিয়ে থাকতে পারে কংগ্রেস-জেএমএম জোট। তারা পেতে পারে ৪৪টি আসন।
অথচ লোকসভা ভোটে এই ঝাড়খণ্ডেই ১৪ টি লোকসভা আসনের মধ্যে ১১টি জিতে নিয়েছিল বিজেপি। তাদের শরিক দল আজসু জিতেছিল ১টি আসনে। কিন্তু গত পাঁচ বছর বিজেপির সঙ্গে জোটে থাকার পর এবার ভোটের আগে আজসু জোট ছাড়ে। একই ভাবে বিজেপির জোট ছাড়ে রামবিলাস পাসোয়ান।
প্রসঙ্গত, লোকসভা ভোটে বিপুল সাফল্য পাওয়া সত্ত্বেও পর পর দুই বিধানসভা ভোটে ধাক্কা খেয়েছে বিজেপি। হরিয়ানায় একক সংখ্যাগরিষ্ঠতাই অর্জন করতে পারেনি। মহারাষ্ট্রে বৃহত্তম দল হলেও পুরনো শরিকের সঙ্গে বনিবনার অভাবে সরকার হাতছাড়া হয়েছে। এই অবস্থায় ঝাড়খণ্ডও বিজেপির হাতছাড়া হলে স্বাভাবিকভাবেই উল্লসিত হবেন বিরোধীরা। বিশেষ করে সেই বিপর্যয়কে নাগরিকত্ব আইন নিয়ে একাংশ মানুষের ক্ষোভের সঙ্গে জুড়ে দেখানোর চেষ্টা করবেন তাঁরা।
ফলে অনেকদিন পর ঝাড়খণ্ডের মতো ছোট রাজ্যের ভোট গণনাও প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে জাতীয় রাজনীতিতে। এখন দেখা যাক ঝাড়খণ্ড কী রায় দেয়!