তৃণমূলের তরফে ফিরহাদ হাকিম কার্যত বিস্ফোরক মন্তব্য করেন। বলেন - বাংলার একটাও প্রকৃত ভোটারের নাম বাদ দিলে বৃহত্তর প্রতিবাদ হবে। নির্বাচন কমিশন আর বিজেপি ভাই ভাই হয়ে একসঙ্গে চলতে চায়।

সুজন চক্রবর্তী, অরূপ বিশ্বাস এবং ফিরহাদ হাকিম
শেষ আপডেট: 28 October 2025 18:31
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পশ্চিমবঙ্গে (West Bengal) এসআইআর (SIR) নিয়ে মঙ্গলবার সর্বদল বৈঠক হয় রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (CEO West Bengal) মনোজকুমার আগরওয়ালের দফতরে। সেই বৈঠক শেষে কার্যত কমিশনের ওপরই ক্ষোভ উগরে দিলেন বিজেপি বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতারা। এমনিতেই বৈঠক উত্তপ্ত হয়েছিল আধার কার্ড (Aadhar Card) এবং এনুমেরেশন ফর্ম ইস্যুতে। পরবর্তী সময়ে সাংবাদিক বৈঠকে কমিশনকে বিঁধেছেন তাঁরা।
তৃণমূলের (TMC) তরফে ফিরহাদ হাকিম (Firhad Hakim) কার্যত বিস্ফোরক মন্তব্য করেন। বলেন - বাংলার একটাও প্রকৃত ভোটারের নাম বাদ দিলে বৃহত্তর প্রতিবাদ হবে। নির্বাচন কমিশন আর বিজেপি (BJP) ভাই ভাই হয়ে একসঙ্গে চলতে চায়। চক্রান্ত হলে দরকার হলে পা ভেঙে দেওয়া হবে!
পানিহাটির এক প্রৌঢ় এনআরসি (NRC) আতঙ্কে আত্মহত্যা করেছেন বলে তৃণমূল কংগ্রেস দাবি করেছে। সেই প্রসঙ্গে অরূপ বিশ্বাসের (Arup Biswas) সংযোজন, সিএএ বা এনআরসির আতঙ্কে একজন মানুষ আত্মহত্যা করেছে। এর দায় কমিশনকে নিতে হবে। ভারতের নাগরিক কে, এই মান্যতা কমিশন দিতে পারে না। তিনি এও দাবি করেন, এসআইআর হল এনআরসি ও সিএএ চালু করার প্রি-প্ল্যান।
সিপিএম-এর তরফে সুজন চক্রবর্তী (Sujan Chakraborty) বলেন, সিইও অফিস বিষয়টি নিয়ে প্রস্তুত ছিল না। তাঁর কথায়, নির্ভুল ভোটার তালিকা তৈরির দায়িত্ব কমিশনের। তাই BLO যদি এলাকার বাইরের হন তাহলে কেন BLA-রা এলাকার বাইরের হবে না, সেটা বলতে হবে। পাশাপাশি তাঁর সংযোজন, যে এগারোটি তালিকা নথি হিসাবে দেওয়া হয়েছে সেগুলিই যে নাগরিকত্ব প্রমাণের আসল দলিল, সেটা কমিশনকে স্থির করার দায়িত্ব কে দিল, সেটাও স্পষ্ট নয়।
বাংলাদেশি ইস্যুতে সুজনের বক্তব্য, অনুপ্রবেশ বলে তাড়িয়ে দিয়ে গরিব মানুষের ক্ষতি করা হোক বা আরেকটি দল বেআইনি ভোটারদের নাম তালিকায় রাখুক, এটাও তারা চান না। একইসঙ্গে এও বলেন, বাংলাদেশি বলে বাংলাভাষীদের দাগিয়ে দেওয়া চলবে না।
তবে বিজেপির শিশির বাজোরিয়া (Sisir Bajoria) স্পষ্ট বলেন, তৃণমূলের সুর পাল্টে গেছে। এনআরসি-র জুজু তারাই দেখিয়েছে, তাই ওই ব্যক্তির আত্মহত্যার জন্য মুখ্যমন্ত্রীই দায়ী। শিশিরের কটাক্ষ, তৃণমূল নিজে মানছে এবার হেরে ভূত হবে। তাই এসআইআরকে ভয় পাচ্ছে।
এনুমেরেশন ফর্ম নিয়েও প্রশ্ন তোলে রাজনৈতিক দলগুলি। ২০০২ সালের এসআইআরের সময় এনুমেরেশন ফর্ম ছিল না। আজ হঠাৎ করে কেন এই ফর্ম নিয়ে আসা হল, কীসের ভিত্তিতে, প্রশ্ন তোলে কংগ্রেস। শুধু তাই নয়, এসআইআর হয়ে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ হওয়ার পর অন্তত এক বছর এনুমেরাশেন ফর্ম প্রিজার্ভ করতে হবে বলে দাবি তাঁদের।