
শেষ আপডেট: 11 November 2023 14:18
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিহারের পশুখাদ্য দুর্নীতির সঙ্গেও বাংলার রেশন দুর্নীতির যোগ থাকতে পারে বলে মনে করছিলেন তদন্তকারীরা। তদন্তকারীদের এমন ভাবনাকে ১৬ আনা সমর্থন জানালেন প্রাক্তন সিবিআই কর্তা উপেন বিশ্বাস।
বিহারের পশু খাদ্য কেলেঙ্কারির তদন্ত করেছিল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। ওই টিমের প্রধান দায়িত্বে ছিলেন প্রাক্তন সিবিআই কর্তা উপেন বিশ্বাস। শনিবার সংবাদ মাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে উপেন বিশ্বাসের দাবি, “বিহারের পশু খাদ্য কেলেঙ্কারির সঙ্গে বাংলার রেশন কেলেঙ্কারির কিছু মিল রয়েছে।”
এদিন উপেনবাবু আরও বলেন, “বিহারে পশু খাদ্য কেলেঙ্কারিতে এই দীপেশের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। রেশন কাণ্ডেও তাঁর যোগ সামনে আসায় কোনও সম্ভাবনায় উড়িয়ে দেওয়া যায় না।”
সূত্রের খবর, রেশন দুর্নীতির তদন্তে নেমে রাজ্যের প্রাক্তন খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক ঘনিষ্ঠ একাধিক ব্যবসায়ীর বাড়িতে তল্লাশি চালান তদন্তকারীরা। সেই তালিকায় ছিলেন কলকাতার ব্যবসায়ী হিতেশ চান্দাক ও অঙ্কিত চান্দাকও। সম্প্রতি হিতেশ ও অঙ্কিতের অফিস এবং বাড়িতে তল্লাশি চালান তদন্তকারীরা। এই হিতেশ ও অঙ্কিতের পরিবারের সদস্য দীপেশ চান্দাক।
কে এই দীপেশ? তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, ২০০৪ সালে বিহারে লালুপ্রসাদ যাদবের সময়ে পশুখাদ্য কেলেঙ্কারিতে গ্রেফতার করেছিল তদন্তকারীরা। পরে পশু খাদ্য দুর্নীতি মামলায় রাজসাক্ষী হয়েছিলেন দীপেশ। মুক্তির পর ফের ২০১৮ সালে রেশন গণবন্টনে দুর্নীতির জন্য এক আধিকারিককে ঘুষ দিতে গিয়ে সিবিআইয়ের হাতে গ্রেফতার হয় দীপেশ।
ওই সময় দীপেশের পরিবারের তরফে তাঁকে অপহরণের অভিযোগ আনা হয়েছিল। তাঁকে মুক্ত করতে এরাজ্যে পুলিশি সক্রিয়তা নিয়েও উঠেছিল প্রশ্ন। ওই সময় দীপেশের মাথায় রাজ্যের কোনও প্রভাবশালীর হাত রয়েছে বলে গুঞ্জন শোনা গিয়েছিল। ওই প্রভাবশালী জ্যোতিপ্রিয় কিনা, তাও খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
এহেন দীপেশের আত্মীয়র সঙ্গে মন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের ঘনিষ্ঠতা সামনে আসায় পশুখাদ্য কেলেঙ্কারির সঙ্গে রেশন দুর্নীতির যোগসূত্র থাকতে পারে বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা।
সূত্রের খবর, মন্ত্রীর প্রাক্তন আপ্ত সহায়ক অভিজিৎ দাসের বাড়ি থেকে মেরুন ডায়েরি উদ্ধারের পর সেখান থেকে একাধিক চাঞ্চল্যকর তথ্য মেলে। একই সঙ্গে সম্প্রতি মন্ত্রী ঘনিষ্ট এক চার্টাড অ্যাকাউন্টের বাড়ি থেকে তিনটি নোটবুক উদ্ধার করেন তদন্তকারীরা। সেই সূত্রেই কলকাতার ওই চান্দাক পরিবারের সঙ্গে মন্ত্রীর ঘনিষ্ঠতা জানতে পারেন তদন্তকারীরা। তারপরই চালানো হয় তল্লাশি।