
কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, রত্না চট্টোপাধ্যায় ও শোভন চট্টোপাধ্যায়।
শেষ আপডেট: 28 February 2025 16:12
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দলের সাংসদ-আইনজীবীর আনা অভিযোগ প্রসঙ্গে আদালতে দাঁড়িয়ে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইলেন তৃণমূল বিধায়ক রত্না চট্টোপাধ্যায় (Ratna Chatterjee)।
গত আট বছর ধরে বিবাহ বিচ্ছেদের মামলা চলছে কলকাতার প্রাক্তন মহা নাগরিক শোভন চট্টোপাধ্যায় ও তৃণমূল বিধায়ক রত্না চট্টোপাধ্যায়ের। নিম্ন আদালত ছাড়িয়ে সম্প্রতি ওই মামলা গড়িয়েছে কলকাতা হাইকোর্টেও। ওই মামলায় শোভনের হয়ে হাইকোর্টে লড়ছেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় ((Kalyan Banerjee))। তাঁর অভিযোগ, এই মামলা প্রসঙ্গে আদালতের বাইরে রত্না তাঁকে নানাভাবে আক্রমণ করছেন, হুমকি দিচ্ছেন।
এ নিয়ে দলের বিধায়ক রত্নার বিরুদ্ধে হাইকোর্টে মামলা ঠুকেছিলেন তৃণমূল সাংসদ ও আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় । ওই মামলায় রত্নার কৈফিয়ত তলব করেছিলেন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি হিরন্ময় ভট্টাচার্য।
আদালত সূত্রের খবর, এ ধরনের মন্তব্য করার জন্য বিচারপতির সামনে দাঁড়িয়ে নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়ে রত্না চট্টোপাধ্যায় বলেন, "আবেগের বশে বলে ফেলেছি!"
কল্যাণবাবুর বিরুদ্ধে কী বলেছিলেন রত্না?
গত ২২ ফেব্রুয়ারি শোভনের হয়ে হাইকোর্টে ডিভোর্স মামলায় সওয়াল করতে গিয়ে তৃণমূলের সাংসদ-আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেছিলেন, 'রত্না প্রভাবশালী, ইচ্ছে করে শোভনকে ডিভোর্স দিচ্ছে না'!
এর পাল্টা হিসেবে দ্য ওয়ালকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে একাধিক মন্তব্য করেছিলেন রত্না। রত্না দাবি করেছিলেন, "কল্যাণদাই বলেছিলেন শোভনকে ডিভোর্স দিবি না।" ওই প্রসঙ্গ টেনে এদিন আদালতে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনজীবী বলেন, "একজন আইনজীবী তার ক্লায়েন্টকে পরামর্শ দিয়েছেন। সেগুলো নিয়ে এখন তার বদনাম করা হচ্ছে। এটা আইনের দৃষ্টিতে ফৌজদারি অপরাধের সমান। অবিলম্বে আদালত অবমাননার রুল জারি করুন।"
এরপরই এ বিষয়ে রত্নার কৈফিয়ত জানতে চায় আদালত। তাতেই নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়ে নিয়েছেন রত্নাদেবী। এই ধরনের মন্তব্য পুনরায় না করার জন্য তাঁকে সতর্কও করে দিয়েছেন বিচারপতি।
আদালতের নির্দেশ, শুক্রবার বিকেল ৪টের মধ্যে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে লিখিতভাবে ক্ষমা চাইতে হবে রত্নাকে। একইসঙ্গে বিবাহ বিচ্ছেদ মামলায় রত্নার স্থগিতাদেশ অর্জি খারিজ করে নিম্ন আদালতকে দ্রুত তদন্ত শেষ করার নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি।