প্রথম দফার লিখিত পরীক্ষা দিয়ে অধিকাংশ পরীক্ষার্থী জানিয়েছেন, প্রশ্নপত্র সহজ ও মানানসই ছিল। তাঁদের মধ্যে অনেকেরই মত, এত দিনের অপেক্ষার পর নির্দিষ্ট সময়ে পরীক্ষা সম্পন্ন হওয়ায় স্বস্তি পেয়েছেন।

ব্রাত্য বসু
শেষ আপডেট: 7 September 2025 18:00
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court) নির্দেশ মেনে ৯ বছরে প্রথমবার লিখিত পরীক্ষা হল এসএসসি-র (SSC Written Exam)। রবিবার নবম-দশমে নিয়োগের জন্য পরীক্ষা দিলেন ৩ লক্ষ ১৯ হাজার ৯১৯ জন প্রার্থী। নির্ধারিত সময়ে পরীক্ষা শুরু হওয়ার পর তা নির্বিঘ্নেই শেষ হয়। আর এই ব্যাপারে পরীক্ষার্থী, আধিকারিকদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু (Bratya Basu)।
৩ লক্ষের বেশি পরীক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩১ হাজার পরীক্ষার্থী রাজ্যের বাইরের - উত্তরপ্রদেশ, বিহার সহ অন্যান্য রাজ্য থেকে এসেছেন। অর্থাৎ মোট পরীক্ষার্থীর প্রায় ১০ শতাংশই বাংলার বাইরে থেকে আসা। এত পরিমাণ পরীক্ষার্থীদের নিয়ে এসএসসি কোনও গন্ডগোল ছাড়াই পরীক্ষা সম্পন্ন করতে পেরেছে। বিষয়টি খুশি শিক্ষামন্ত্রী।
সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে ব্রাত্য বসু লিখেছেন - নবম ও দশম শ্রেণির এসএসসি পরীক্ষা নির্বিঘ্নে এবং সফলভাবে শেষ হয়েছে। আমি আশা করি আগামী রবিবারের একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির এসএসসি পরীক্ষাও স্বচ্ছভাবে হবে। প্রশাসনিক কর্তাব্যক্তিরা সেদিনও সফল হবেন।
Today, 3.5 lakh candidates appeared across 636 centres for the Assistant Teacher recruitment exam (Classes IX–X), which was conducted successfully. My sincere congratulations to all candidates, WBCSSC, the School Education Department, and all officials involved. The entire…
— Bratya Basu (@basu_bratya) September 7, 2025
প্রথম দফার লিখিত পরীক্ষা দিয়ে অধিকাংশ পরীক্ষার্থী জানিয়েছেন, প্রশ্নপত্র সহজ ও মানানসই ছিল। তাঁদের মধ্যে অনেকেরই মত, এত দিনের অপেক্ষার পর নির্দিষ্ট সময়ে পরীক্ষা সম্পন্ন হওয়ায় স্বস্তি পেয়েছেন। তাঁরা এও মনে করছেন, এবার হয়তো দুর্নীতির সুযোগ তেমন একটা থাকবে না। কিন্তু কেন?
এর মূল কারণ, এবার পরীক্ষার্থীরা প্রথমবারের জন্য প্রশ্নপত্রের কপি (Question Paper) বাড়ি নিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। শুধু তাই নয়, পরীক্ষা শেষে ওএমআর শিটের কার্বন কপিও (OMR Sheet Carbon Copy) হাতে পেয়েছেন তাঁরা। অনেক পরীক্ষার্থীর মতে, এই নিয়মে স্বচ্ছতা বাড়বে এবং ভবিষ্যতে নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন কোনও জালিয়াতির অভিযোগ ওঠার সম্ভাবনা অনেকটাই কমে যাবে।
যদিও কেউ কেউ এখনও দুর্নীতি নিয়ে সন্দেহ করছেন। এরপর ইন্টারভিউতে কিছু কারচুপি হবে কিনা, সেই প্রশ্ন রয়েছে অনেকের মনে।
যোগ্য চাকরিহারা প্রার্থীদের একাংশের অভিযোগ, রাজ্য সরকার বা শিক্ষা দফতর সৎ থাকলে আজ এই পরিস্থিতি তৈরি হত না। তাঁদের বক্তব্য, অভিজ্ঞ ও যোগ্য প্রার্থীদের আবার নতুনদের সঙ্গে সমানভাবে পরীক্ষায় বসতে হচ্ছে, যা একেবারেই অন্যায় ও অসম লড়াই। এদিকে চাকরিহারাদের সঙ্গে পরীক্ষা দিয়ে অসন্তুষ্ট নবাগতরাও। তাঁদের বক্তব্য, প্রশ্নপত্র সহজ হওয়া সত্ত্বেও প্রতিযোগিতায় সমান সুযোগ মিলছে না। কারণ, ২০১৬ সালের প্যানেলভুক্ত প্রার্থীরা অভিজ্ঞতার জেরে অতিরিক্ত ১০ নম্বর পাচ্ছেন। ফলে প্রথমবার পরীক্ষায় বসা প্রার্থীদের তুলনায় তাঁদের অবস্থান অনেকটাই সুবিধাজনক।