শুধু আনন্দ নন, এবারের নবম-দশমের এসএসসি নিয়োগ পরীক্ষায় ভিনরাজ্য থেকেও বহু পরীক্ষার্থী অংশ নিয়েছেন।

আনন্দ কুমার বিন্দ
শেষ আপডেট: 7 September 2025 15:02
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলার এসএসসি-র পরীক্ষায় (SSC Exam) অংশ নিতে উত্তরপ্রদেশ (Uttar Pradesh) থেকে হুগলি (Hooghly) এসেছিলেন আনন্দ কুমার বিন্দ (Anand Kumar bind)। কিন্তু পরীক্ষার আগেই তাঁর সঙ্গে যা ঘটল তা এক ভয়াবহ অভিজ্ঞতা। টাকা ও মোবাইল চুরি গেছে আনন্দের। পরীক্ষা দিতে এসে সর্বস্ব খুইয়ে ফেললেন তিনি।
উত্তরপ্রদেশের রামপুর গোপীগঞ্জের বাসিন্দা আনন্দ কুমার। তাঁর দাবি, বিভূতি এক্সপ্রেসে (Vibhuti Exp) হাওড়া এসে সেখান থেকে লোকাল ট্রেনে হুগলি পৌঁছেছিলেন তিনি। স্টেশনে নামতেই এক অচেনা ব্যক্তির সঙ্গে আলাপ হয় তাঁর। ওই ব্যক্তিই তাঁকে হোটেলে নিয়ে গিয়ে সেখানে খাবার খাইয়ে গঙ্গায় স্নান করতে নিয়ে যান আনন্দকে। এরপর আর কিছু মনে নেই বলে দাবি করেছেন ওই পরীক্ষার্থী। জানান, অজ্ঞান হয়ে গেছিলেন তিনি কোনও সময়ে। পরে জ্ঞান ফেরে চুঁচুড়া হাসপাতালে। ততক্ষণে বুঝে যান, তাঁর টাকা-পয়সা ও মোবাইল খোয়া গেছে।
তবুও হাল ছাড়েননি আনন্দ। হাসপাতাল থেকে সোজা পরীক্ষাকেন্দ্রে গিয়ে তিনি এসএসসি-র পরীক্ষা দেন। তাঁর কেন্দ্র ছিল হুগলির এইচইটিসি কলেজ (HETC College)।
শুধু আনন্দ নন, এবারের নবম-দশমের এসএসসি নিয়োগ পরীক্ষায় ভিনরাজ্য থেকেও বহু পরীক্ষার্থী অংশ নিয়েছেন। বারাণসী, প্রয়াগরাজ, জৌনপুরের মতো উত্তরপ্রদেশের শহর ছাড়াও বিহার থেকেও বহু পরীক্ষার্থী এসেছেন। কলকাতার নানা কলেজের মতো একাধিক কেন্দ্রেও দেখা গেছে ভিনরাজ্যের প্রার্থীদের ভিড়।
এই বিষয়টি নিয়ে অবশ্য কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকে খোঁচা দেন তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ। বলেন, 'বাংলার এসএসসি-র পরীক্ষা দিতে হাজির যোগীরাজ্য সহ ভিনরাজ্য, ডবল ইঞ্জিন সরকারের রাজ্যের কর্মপ্রার্থীরা। অনেকে বলছেন ওখানে চাকরি নেই। ঠিক মতো পরীক্ষা হয় না। বারবার স্থগিত হয়েছে। ইত্যাদি। তাঁরা এখানে পরীক্ষা দিতে এসেছেন।'
বিগত কয়েক মাস ধরে ভিনরাজ্যে বাঙালি হেনস্থার ঘটনা নিয়ে সরব হয়েছে তৃণমূল। অভিযোগ, বাংলায় কথা বললেই অত্যাচার করা হচ্ছে। কিন্তু বিজেপি শাসিত রাজ্য থেকে পরীক্ষা দিতে আসা পরীক্ষার্থীদের যে কোনও রকম হেনস্থা করা হচ্ছে না বা হবে না, সেটাও নিজের পোস্টে স্পষ্ট করেছিলেন কুণাল ঘোষ। তবে এ হেন ঘটনা রাজ্যের শাসক দলেরও যে অস্বস্তি বাড়িয়েছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না।
প্রসঙ্গত, রবিবার দুপুর ১২টায় রাজ্যের মোট ৬৩৬টি কেন্দ্রে একযোগে পরীক্ষা শুরু হয়ে দেড়টায় শেষ হয়। তবে বিশেষভাবে সক্ষম পরীক্ষার্থীরা আধঘণ্টা অতিরিক্ত সময় পান, তাঁদের পরীক্ষা শেষ হয় দুপুর ২টোয়। এদিন কোনও রকম অনিয়ম বা বিশৃঙ্খলার খবর মেলেনি।
পরীক্ষা শেষে অধিকাংশ পরীক্ষার্থী জানিয়েছেন, প্রশ্নপত্র সহজ ও মানানসই ছিল। তাঁদের মধ্যে অনেকেরই মত, এত দিনের অপেক্ষার পর নির্দিষ্ট সময়ে পরীক্ষা সম্পন্ন হওয়ায় স্বস্তি পেয়েছেন। যদিও কেউ কেউ এখনও দুর্নীতি নিয়ে সন্দেহ করছেন। এরপর ইন্টারভিউতে কিছু কারচুপি হবে কিনা, সেই প্রশ্ন রয়েছে অনেকের মনে।