স্বাভাবিকভাবে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। বাংলার শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা কুণাল ঘোষ সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে খোঁচা দিয়েছেন পদ্ম শিবিরকে। কী লিখেছেন তিনি?
.jpg.webp)
ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 7 September 2025 12:20
দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রায় ন’বছর পর সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court) নির্দেশে রবিবার নতুন নিয়মে এসএসসি-র (SSC) প্রথম দফার লিখিত পরীক্ষা। প্রায় ৫ লক্ষ ৬৫ হাজার চাকরিপ্রার্থী এই পরীক্ষা দিতে চলেছেন। তবে এদের মধ্যে শুধু বাংলার নয়, রাজ্যের বাইরের পরীক্ষার্থীরাও রয়েছেন।
বিজেপি শাসিত (BJP States) উত্তরপ্রদেশ (Uttar Pradesh) ও বিজেপি জোট শাসিত বিহার (Bihar) থেকে এ রাজ্যে স্কুল সার্ভিস কমিশনের পরীক্ষা (SSC Exam) দিতে এসেছেন পরীক্ষার্থীরা। উত্তরবঙ্গের কোচবিহারে (Cooch behar) ধরা পড়েছে এমনই ছবি। আর এই নিয়ে স্বাভাবিকভাবে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। বাংলার শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা কুণাল ঘোষ (Kunal Ghosh) সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে খোঁচা দিয়েছেন পদ্ম শিবিরকে। কী লিখেছেন তিনি?
কুণাল বলছেন, 'বাংলার এসএসসি-র পরীক্ষা দিতে হাজির যোগীরাজ্য সহ ভিনরাজ্য, ডবল ইঞ্জিন সরকারের রাজ্যের কর্মপ্রার্থীরা। অনেকে বলছেন ওখানে চাকরি নেই। ঠিক মতো পরীক্ষা হয় না। বারবার স্থগিত হয়েছে। ইত্যাদি। তাঁরা এখানে পরীক্ষা দিতে এসেছেন। কিছু বুঝলেন?' খুব স্পষ্টভাবেই তিনি বিজেপিকে মনে করিয়ে দিলেন যে, চাকরির ইস্যু নিয়ে শুধু বাংলাকে অপদস্ত করা চলবে না, তাঁদের নিজের রাজ্যেও কী চলছে, তা দেখতে হবে।
বিগত কয়েক মাস ধরে ভিনরাজ্যে বাঙালি হেনস্থার ঘটনা নিয়ে সরব হয়েছে তৃণমূল। অভিযোগ, বাংলায় কথা বললেই অত্যাচার করা হচ্ছে। কিন্তু বিজেপি শাসিত রাজ্য থেকে পরীক্ষা দিতে আসা পরীক্ষার্থীদের যে কোনও রকম হেনস্থা করা হচ্ছে না বা হবে না, সেটাও নিজের পোস্টে স্পষ্ট করেছেন কুণাল ঘোষ। লিখেছেন, 'এখানে কেউ বলেনি বাংলার চাকরির পরীক্ষা শুধু বঙ্গবাসী দিতে পারবে। কেউ হয়রান করেনি। অপমান করেনি। বাধা দেয়নি।'
এমনিতেই এই পরীক্ষাকে 'অসম লড়াই' বলে অভিহিত করছেন যোগ্য চাকরিহারারা (Jobless Teachers)। পরীক্ষা দিতে এসেও কালো পোশাক পরে অভিনব প্রতিবাদ (Protest) করেছেন। তাঁদের বক্তব্য, পরীক্ষা দিতে এসে তাঁরা এমন অনেককে দেখছেন যাঁরা ছাত্র। কোনও কোনও সহকর্মী বা ছাত্র ইনভিজিলেটর হিসেবেও থাকবেন। এই বিষয়টিই তাঁদের মানসিক চাপ বাড়িয়ে দিচ্ছে।
প্রসঙ্গত, নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে প্রায় ২৬ হাজার শিক্ষকের চাকরি বাতিল হয়ে গিয়েছিল। এরপর আদালতের নির্দেশেই ফের নতুন পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে। ইতিমধ্যেই অযোগ্য প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ করেছে কমিশন। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, এঁদের কেউই নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পারবেন না।
দুই ধাপে মিলিয়ে স্বাভাবিকভাবেই এই পরীক্ষা রাজ্য প্রশাসনের কাছেও এক বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এসএসসি নতুন পরীক্ষাবিধি জারি করেছে, যাতে স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা বজায় থাকে।