তালিকা প্রকাশ হলেও বিতর্ক ও অনিশ্চয়তা পুরোপুরি কাটেনি। কারণ, তালিকায় নাম থাকা সত্ত্বে এখনও ৬০ লক্ষ ৬ হাজার ৬৭৫ জন ভোটারের ভাগ্য ঝুলে রয়েছে ‘বিচারাধীন’ হিসেবে।

মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার ও রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল
শেষ আপডেট: 28 February 2026 21:29
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের (West Bengal Assembly Election 2026) আগে বহু প্রতীক্ষিত ‘বিশেষ নিবিড় সংশোধন’ (SIR) প্রক্রিয়ার চূড়ান্ত ভোটার তালিকা (Final Voter List 2026) প্রকাশ করল নির্বাচন কমিশন (Election Commission)। শনিবার বিকেলে প্রকাশিত এই তালিকায় দেখা যাচ্ছে, খসড়া পর্ব থেকে চূড়ান্ত পর্যায় পর্যন্ত রাজ্যে মোট বাদ পড়া ভোটারের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৩ লক্ষ ৬৬ হাজার ৯৫২। তবে তালিকা প্রকাশ হলেও বিতর্ক ও অনিশ্চয়তা পুরোপুরি কাটেনি। কারণ, তালিকায় নাম থাকা সত্ত্বে এখনও ৬০ লক্ষ ৬ হাজার ৬৭৫ জন ভোটারের ভাগ্য ঝুলে রয়েছে ‘বিচারাধীন’ হিসেবে।
এক নজরে পরিসংখ্যানের খতিয়ান
৬০ লক্ষ নাম নিয়ে ‘সংশয়’ ও বিচারবিভাগীয় হস্তক্ষেপ
কমিশন জানিয়েছে, তালিকায় যাঁদের নাম রয়েছে তাঁদের তিনটি বিভাগে ভাগ করা হয়েছে— ‘অ্যাপ্রুভড’ (অনুমোদিত), ‘ডিলিটেড’ (বাদ পড়া) এবং ‘বিচারাধীন’ (Adjudication)। এই তৃতীয় বিভাগটিই এখন সবথেকে বড় মাথাব্যথার কারণ। প্রায় ৬০ লক্ষ ভোটারের নথি নিয়ে কমিশনের অন্দরেই মতপার্থক্য তৈরি হয়েছিল। ইআরও (ERO) এবং এইআরও (AERO)-দের সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত হতে পারেনি কমিশন। শেষ পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে এই ৬০ লক্ষ ভোটারের নথি যাচাইয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বিচারকদের। মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন পর্যন্ত ধাপে ধাপে এই নামগুলির নিষ্পত্তি হবে। ফলে ভবিষ্যতে ভোটার সংখ্যা আরও কমার সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছে না কমিশন।
যান্ত্রিক ত্রুটি ও সিইও-র স্বীকারোক্তি
এ দিন সাংবাদিক বৈঠকে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (CEO) মনোজ আগরওয়াল স্বীকার করে নেন যে, এই বিশাল কর্মযজ্ঞে ‘কিছু ভুলভ্রান্তি’ হয়েছে। তবে তিনি একে ‘সামান্য’ বলে দাবি করেছেন। বিকেল সাড়ে ৫টা থেকে অনলাইনে এপিক নম্বর দিয়ে তালিকা দেখার সুযোগ করে দিলেও সফটওয়্যার বিভ্রাটের কারণে যাদবপুর এবং বিধাননগর— এই দুই বিধানসভা কেন্দ্রের তালিকা আপলোড করতে সমস্যায় পড়তে হয় কমিশনকে।
১ কোটি ৫২ লক্ষের শুনানি ও ‘নো-ম্যাপিং’ জটিলতা
কমিশন সূত্রে খবর, ১ কোটি ৪২ লক্ষ ভোটারের শুনানি নেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে ৩১ লক্ষ ৬৮ হাজার ৪২৬ জন ভোটার ২০০২ সালের শেষ এসআইআরের (SIR News) সঙ্গে নিজেদের কোনও লিঙ্ক বা সূত্র দেখাতে পারেননি, যাদের ‘নো-ম্যাপিং’ ক্যাটাগরিতে রাখা হয়েছে। বাকি ১ কোটি ২০ লক্ষ ভোটারের তথ্যে অসঙ্গতি ছিল। ৮২ লক্ষ ভোটারের ক্ষেত্রে নথি সঠিক বলে মনে করলেও বাকি ৬০ লক্ষ নাম নিয়েই মূলত আইনি লড়াই ও প্রশাসনিক টানাপড়েন চলছে।
আপাতত এই তালিকাটিকেই ‘চূড়ান্ত’ বলে গণ্য করা হচ্ছে, তবে এর সঙ্গে যুক্ত হওয়া বিচারবিভাগীয় সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে কয়েক লক্ষ মানুষের ভোটাধিকারের ভবিষ্যৎ।