গত দু’বছরের অবহেলায় চারটি ক্লাসরুমের মধ্যে অর্ধেকই কার্যত ধসে পড়েছে। বাকি তিনটিরও ভগ্নপ্রায় দশা। এর মধ্যেই চলছে ক্লাস।

শেষ আপডেট: 20 June 2025 15:38
দ্য ওয়াল ব্যুরো: টানা বৃষ্টিতে চুঁইয়ে পড়ছে ছাদ থেকে জল, আর সেই জল আটকাতে ছাতা মাথায় চলছে ক্লাস। ঘটনাটি হুগলির একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের। যে ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে সেই ক্লাসের সবার বয়স ৫ থেকে ১০ বছরের মধ্যে। সব মিলিয়ে ৬৮ জন ছোট ছোট পড়ুয়া কোনওরকমে ছাতা মাথায় দিয়ে পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছে।
স্কুলটি ১৯৭২ সালে স্থাপিত। কিন্তু গত দু’বছরের অবহেলায় চারটি ক্লাসরুমের মধ্যে অর্ধেকই কার্যত ধসে পড়েছে। বাকি যে তিনটি ঘর রয়েছে, সেগুলিরও প্রায় ভগ্নপ্রায় দশা। এই দুর্দশার মধ্যেই চলছে ক্লাস।
এহেন চিত্র দেখে সোশ্যাল মিডিয়ায় রীতিমতো শিউরে উঠছেন সকলে, একটি ক্লাসরুমে গাদাগাদি করে বসে ছাতা ধরে রেখেছে শিশুরা।
ওই প্রাথমিক স্কুলের প্রধান শিক্ষক জয়ন্ত গুপ্ত বলেন, ‘এই পরিস্থিতি পড়ুয়াদের জন্য বিপজ্জনক। যে কোনও সময় কোনও বিপদ ঘটে যেতে পারে।’ তিনি জানিয়েছেন, ব্লক ডেভেলপমেন্ট অফিসারের (BDO) কাছে অনুরোধ করার পরে একবার পরিদর্শন হলেও, কোনও ব্যবস্থা এখনও পর্যন্ত নেওয়া হয়নি।
প্রধান শিক্ষক বারবার স্কুল কর্তৃপক্ষ, পঞ্চায়েত ও জেলা প্রশাসনের কাছে লিখিত এবং মৌখিকভাবে অনুরোধ করেছেন ছাদ মেরামতির জন্য। লিখিত অভিযোগ পাঠানো হয়েছে বিডিও অফিসে এবং জেলাশিক্ষা পরিদর্শকের (প্রাইমারি) কাছেও। এমনকী স্থানীয় সাংসদ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও জানানো হয়েছে বিষয়টি।
কিন্তু বারবার আবেদনেও আজ পর্যন্ত কোনও কাজ হয়নি। এখনও ছাদ চুঁইয়ে জল পড়েই চলেছে। বাচ্চারা স্কুলে এসে যেন নিজেরাই নিজেদের মাথার উপর ছাতা ধরে ‘সুরক্ষা’র ব্যবস্থা করছে।
এই ঘটনায় জেলা শিক্ষা পরিদর্শক দীপঙ্কর রায় যদিও এখনও পর্যন্ত কোনও প্রতিক্রিয়া জানাননি।
প্রশাসন কী বলছে? পাণ্ডুয়া ব্লকের বিডিও শেবন্তী বিশ্বাস জানিয়েছেন, স্কুলের আবেদন রাজ্য সরকারের কাছে পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে অর্থ বরাদ্দের অপেক্ষা চলছে।