
সাংবাদিক বৈঠক পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ
শেষ আপডেট: 6 December 2024 19:45
দ্য ওয়াল ব্যুরো: জয়নগরে নাবালিকা ধর্ষণ-খুনের ঘটনায় মাত্র ৬২ দিনের মাথায় সাজা ঘোষণা হয়েছে। আসামিকে ফাঁসির সাজা দিয়েছে আদালত। পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ জানিয়েছে, এই রায় নজিরবিহীন। নাবালিকাকে ধর্ষণ-খুনের মামলায় ঘটনার মাত্র ৬২ দিনের মধ্যে অভিযুক্তের ফাঁসির আদেশ এর আগে পশ্চিমবঙ্গে কখনও ঘটেনি। কিন্তু কোন পথে এগিয়েছে এই ঘটনার তদন্ত, তা বিস্তারিত জানানো হয়েছে।
শুক্রবার সাজা ঘোষণার পর সাংবাদিক বৈঠক করা হয় পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের তরফে। এডিজি দক্ষিণবঙ্গ সুপ্রতিম সরকার জানিয়েছেন, এই ঘটনায় এমন একটি প্রমাণ ছিল যা তদন্তে সচারচর ব্যবহার করা হয় না। কিন্তু এই মামলাটি এত গুরুত্বপূর্ণ ছিল যে, সেই প্রমাণ ব্যবহার করা হয়েছে। তা হল, 'গেট প্যাটার্ন অ্যানালেসিস'। এই প্রমাণ থেকে কার্যত পুরোপুরি নিশ্চিত হয়ে যায় যে, নাবালিকার ধর্ষণ-খুনের ঘটনায় মুস্তাকিন সর্দারই দোষী।
পুলিশ জানিয়েছে, তাড়াতাড়ি বাড়ি নিয়ে যাওয়ার কথা বলে মুস্তাকিন সর্দার নাবালিকাকে ঘটনার দিন স্কুল ছুটির পর রাস্তা থেকে নিজের নীল রঙের সাইকেল করে নিয়ে গেছিল। তদন্তে ৩ জন গুরুত্বপূর্ণ প্রত্যক্ষদর্শীর থেকে এই তথ্য মিলেছিল কারণ তাঁরা সকলে দুজনকে একসঙ্গে যেতে দেখেছিল। এটা জানার পর এলাকার যত সিসিটিভি ফুটেজ সব খতিয়ে দেখা শুরু করা হয়েছিল।
এই সিসিটিসি ফুটেজ থেকে সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ ৩টি ভিডিও পেয়েছিল পুলিশ। তার মধ্যে একটিতে সাইকেল সহ ধৃত হাঁটছে। একটিতে সে সাইকেলে চড়ছে এবং আরেকটিতে সে সাইকেল করে মেয়েটির পিছু নিচ্ছে। প্রত্যেকটি ফুটেজের ফরেন্সিক পরীক্ষা করে সত্যতা যাচাই করা হয়। পাশাপাশি মুস্তাকিনের ফোনের টাওয়ার লোকেশন দেখে গুগলের সাহায্য ঘটনার দিনের তার উপস্থিতি সম্পর্কেও যথেষ্ট তথ্য পায় পুলিশ।
তদন্ত চলাকালীন ঘটনাস্থলে পড়ে থাকা নাবালিকার ব্যাগ, বাজেয়াপ্ত করা মুস্তাকিনের সাইকেল থেকে মেলা চুল এবং ময়নাতদন্তে নাবালিকার যৌনাঙ্গ থেকে সংগ্রহ করার তরলের যাবতীয় পরীক্ষা করে পুলিশ নিশ্চিত হয়ে যায় যে এই ঘটনা মুস্তাকিন ছাড়া কেউ ঘটায়নি। তবে শেষ পর্যন্ত 'গেট প্যাটার্ন' প্রমাণের মাধ্যমেই তদন্ত যে ১০০ শতাংশ ঠিক তা বুঝে যায় পুলিশ।
'গেট প্যাটার্ন' কী?
এডিজি দক্ষিণবঙ্গ জানান, প্রত্যেকেরই হাঁটাচলা, দৌড়নো, সাইকেলে ওঠা, বাইক চালানোর নিজস্ব ভঙ্গি রয়েছে। নির্দিষ্ট ছন্দ রয়েছে। একটা বিশেষ আচরণ থাকে। এটাকেই বলে 'গেট প্যাটার্ন'। মুস্তাকিন সর্দারের এই প্যাটার্ন পরীক্ষা করা হয়েছিল।
বারুইপুর সংশোধনাগারে থাকাকালীন মুস্তাকিনকে একই সাইকেলে হাঁটানো হয়েছিল, চড়ানো হয়েছিল এবং বলা হয়েছিল সাইকেল চালাতে। পুরো প্রক্রিয়ার ভিডিওগ্রাফি করা হয়। ঘটনার দিনে পাওয়া সিসিটিসি ফুটেজ এবং এই ভিডিও ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞর কাছে পাঠানো হয়। তাঁরা রিপোর্ট দেন, দুটো 'গেট প্যাটার্ন' এক।
পুলিশ বলছে, ''এই মামলার তদন্তে আমাদের একটাই উদ্দেশ্য ছিল, যত দ্রুত সম্ভব নির্যাতিতা এবং তার পরিবারকে ন্যায়বিচার দেওয়া। মেয়েটি আর ফিরবে না, কিন্ত অভূতপূর্ব দ্রুততায় যে তাকে এবং তার পরিবারকে আমরা 'জাস্টিস' দিতে পেরেছি, দীর্ঘদিন বিচারহীন থাকতে হয়নি, এটুকুই আমাদের সান্ত্বনা, আমাদের প্রাপ্তি।''