এই সুবিধা পেতে হলে রাজ্য সরকারের প্যানেলভুক্ত হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে হবে। হাসপাতালটি সরকারি বা বেসরকারি - তা বাধ্যতামূলক নয়, শুধুমাত্র প্যানেলে থাকা হাসপাতাল হলেই এই সুবিধা মিলবে।
.jpeg.webp)
ছবি - এআই
শেষ আপডেট: 5 February 2026 19:33
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বৃহস্পতিবার রাজ্যের অন্তর্বর্তী বাজেটে (West Bengal Budget 2026) অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারীদের (Retired Employees) জন্য বড়রকমের ঘোষণা করেছে রাজ্য সরকার। সরকারি কর্মীদের পাশাপাশি পেনশনভোগীদের চিকিৎসা সংক্রান্ত ব্যয় কমাতে ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল হেল্থ স্কিম’-এর (West Bengal Health Scheme) আওতায় ক্যাশলেস চিকিৎসা পরিষেবার পরিসর আরও বাড়ানো হচ্ছে।
এতদিন পর্যন্ত এই প্রকল্পে সর্বোচ্চ দু’লক্ষ টাকা পর্যন্ত ক্যাশলেস চিকিৎসার (Cashless Treatment) সুবিধা মিলত। নতুন বাজেট অনুযায়ী, সেই সীমা কার্যত আরও বিস্তৃত করা হল।
বাজেট নথিতে স্পষ্ট করা হয়েছে, পেনশনভোগী সরকারি কর্মচারীদের চিকিৎসার খরচ যদি দু’লক্ষ টাকা ছাড়িয়ে যায়, তাহলে অতিরিক্ত ব্যয়ের ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত ক্যাশলেস সুবিধা মিলবে। অর্থাৎ দু’লক্ষ টাকা পর্যন্ত আগের মতোই পুরোপুরি ক্যাশলেস পরিষেবা পাওয়া যাবে। তার পরে যে অতিরিক্ত খরচ হবে, তার মাত্র ২৫ শতাংশ পকেট থেকে দিতে হবে সংশ্লিষ্ট পেনশনভোগীকে।
তবে এই সুবিধা পেতে হলে রাজ্য সরকারের প্যানেলভুক্ত হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে হবে। হাসপাতালটি সরকারি বা বেসরকারি - তা বাধ্যতামূলক নয়, শুধুমাত্র প্যানেলে থাকা হাসপাতাল হলেই এই সুবিধা মিলবে।
অর্থ দফতরের তরফে জানানো হয়েছে, খুব শীঘ্রই এই সংক্রান্ত বিস্তারিত নির্দেশিকা ও বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে। বর্তমানে শুধু রাজ্যের ভিতরেই নয়, রাজ্যের বাইরেও মোট ১১টি প্যানেলভুক্ত হাসপাতালে ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল হেল্থ স্কিম’-এর আওতায় চিকিৎসার সুবিধা পাওয়া যায়। সেই ব্যবস্থাও বহাল থাকছে।
রাজ্যের সরকারি কর্মচারী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি পেনশনভোগীরাও দীর্ঘদিন ধরেই এই স্বাস্থ্য প্রকল্পের সুবিধা পেয়ে আসছেন। তবে চিকিৎসার ব্যয় ক্রমশ বাড়তে থাকায় দু’লক্ষ টাকার সীমা অনেক ক্ষেত্রেই যথেষ্ট হচ্ছিল না বলে দাবি ছিল। সেই প্রেক্ষিতেই নতুন এই সিদ্ধান্তকে অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী মহলে ইতিবাচক বলেই দেখা হচ্ছে।
অন্তর্বর্তী বাজেটে শুধু স্বাস্থ্য পরিষেবাই নয়, একাধিক সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পেও জোর দিয়েছে রাজ্য সরকার। ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পে মাসিক অনুদান ৫০০ টাকা করে বাড়ানোর ঘোষণা করা হয়েছে, যা নতুন ও পুরনো - সব উপভোক্তাই পাবেন। পাশাপাশি আশাকর্মীদের ভাতা ১,০০০ টাকা বৃদ্ধি করা হয়েছে। অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী ও অঙ্গনওয়াড়ি সহায়কদের ভাতাও ১,০০০ টাকা করে বাড়ানোর কথা জানানো হয়েছে।
যুব সমাজের জন্য ‘বাংলার যুবসাথী’ নামে নতুন প্রকল্পের ঘোষণা করেছে সরকার। মাধ্যমিক পাশ বেকার যুবকদের মাসে ১,৫০০ টাকা ভাতা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে এই প্রকল্পে। এ ছাড়াও রাজ্যের সরকারি কর্মচারীদের জন্য ৪ শতাংশ মহার্ঘ ভাতা বৃদ্ধির ঘোষণা বাজেটের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক।
সব মিলিয়ে, এই অন্তর্বর্তী বাজেটে কর্মচারী, পেনশনভোগী এবং সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পগুলিকেই অগ্রাধিকার দিয়েছে রাজ্য সরকার।