পরিস্থিতির উপর নজর রাখতে নবান্নে একটি কন্ট্রোল রুম খোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এটি ২৪ ঘণ্টাই চালু থাকবে। সেখান থেকেই রাজ্যের সর্বত্র গ্যাসের মজুত, সরবরাহ ও বিতরণ ব্যবস্থার উপর নজরদারি করা হবে।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
শেষ আপডেট: 12 March 2026 20:12
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পশ্চিম এশিয়ায় বাড়তে থাকা উত্তেজনার (Middle East Crisis) প্রভাব পড়তে শুরু করেছে ভারতের জ্বালানি সরবরাহেও। ইরান ও ইজরায়েলের সংঘাতের (Iran Israel Conflict) জেরে রান্নার গ্যাসের জোগান নিয়ে উদ্বেগ (LPG Gas Crisis) তৈরি হয়েছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। এই পরিস্থিতিতে সমস্যা মোকাবিলায় বৃহস্পতিবার নবান্নে সব দফতরের শীর্ষ আধিকারিকদের নিয়ে জরুরি বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। বৈঠকের পরই রাজ্যের তরফে একটি আদর্শ কার্যপদ্ধতি বা এসওপি (Gas Crisis SOP) জারি করা হয়েছে।
রাজ্যের মানুষ যাতে গ্যাসের সমস্যায় ভোগান্তিতে না পড়েন, তার জন্য একাধিক নির্দেশ জারি করেছে প্রশাসন। মুখ্যমন্ত্রী নিজেই সামাজিক মাধ্যমে এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। তিনি আশ্বাস দিয়েছেন, বিদ্যালয়ের মিড ডে মিল, হাসপাতালের রান্নাঘর বা রোগীদের খাবার তৈরির মতো জরুরি পরিষেবায় গ্যাস সরবরাহে কোনও ঘাটতি হতে দেওয়া হবে না।
পরিস্থিতির উপর নজর রাখতে নবান্নে একটি কন্ট্রোল রুম খোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এটি ২৪ ঘণ্টাই চালু থাকবে। সেখান থেকেই রাজ্যের সর্বত্র গ্যাসের মজুত, সরবরাহ ও বিতরণ ব্যবস্থার উপর নজরদারি করা হবে।
জেলা প্রশাসন, সরবরাহকারী সংস্থা এবং তেল সংস্থাগুলির সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। এই কাজে সমন্বয়ের জন্য তেল সংস্থার তরফে দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক নিয়োগ করা হতে পারে। পাশাপাশি সাধারণ মানুষের অভিযোগ বা তথ্য জানানোর জন্য একটি সাহায্য নম্বরও চালু করা হয়েছে। হেল্পলাইন নম্বর হিসেবে ১০৭০ এবং ০৩৩-২২১৪-৩৫২৬ জানানো হয়েছে।
গ্যাস পরিস্থিতি নিয়ে পর্যবেক্ষণের জন্য একটি বিশেষ কমিটিও গঠন করেছে রাজ্য। এই কমিটিতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দফতরের শীর্ষ আমলারা থাকবেন। জানা গেছে, এই কমিটিতে থাকছেন - স্কুল শিক্ষা দফতরের অতিরিক্ত মুখ্যসচিব, বিপর্যয় মোকাবিলা ও ত্রাণ দফতরের প্রিন্সিপাল সচিব, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ দফতরের প্রিন্সিপাল সচিব, শিল্প, বাণিজ্য দফতরের প্রিন্সিপাল সচিব, খাদ্য ও অসামরিক সরবরাহ দফতরের প্রিন্সিপাল সচিব, পর্যটন দফতরের সচিব, স্বরাষ্ট্র দফতরের সচিব, রাজ্য পুলিশের ডিরেক্টর জেনারেল, এডিজি (আইন ও শৃঙ্খলা), কলকাতার পুলিশ কমিশনার, এডিজি (এনফোর্সমেন্ট বিভাগ), এডিজি (আইবি)।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, রেস্তরাঁ, হকার এবং বাড়িতে খাবার পৌঁছে দেওয়ার পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত ব্যবসায়ীদের বিষয়েও বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। গ্যাস এজেন্সিগুলিতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সরবরাহ নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সরবরাহ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা বজায় রাখা এবং নিয়মিত জোগান নিশ্চিত করার উপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে।
প্রশাসনের তরফে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, কোথাও গ্যাস মজুত করা, অতিরিক্ত দাম নেওয়া বা কালোবাজারির চেষ্টা হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে অবৈধ মজুত থেকে গ্যাস বাজেয়াপ্ত করার কথাও জানিয়েছে রাজ্য সরকার।