কলকাতা হাইকোর্ট
শেষ আপডেট: 20 November 2024 08:41
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বুধবারই বেলডাঙার ঘটনায় কলকাতা হাইকোর্টে বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দেবে রাজ্য সরকার। বেলডাঙা-সহ মুর্শিদাবাদের মানুষের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এখনও পর্যন্ত কী কী পদক্ষেপ করা হয়েছে, রাজ্যেকে তা জানানোর নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্টের বিচারপতি ট্যান্ডন ও বিচারপতি ভট্টাচার্যের ডিভিশন বেঞ্চ।
উচ্চ পদমর্যাদার একজন অফিসারের মাধ্যমে এদিন ডিভিশন বেঞ্চে রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রিপোর্ট পাওয়ার পর পুঙ্খানুপুঙ্খ খুঁটিয়ে দেখে বেলডাঙায় কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হবে কিনা সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে আদালত।
শনিবার রাত থেকেই উত্তপ্ত মুর্শিদাবাদের বেলডাঙা। ইতিমধ্যে সেখানে ২৪ ঘণ্টার জন্য জারি হয়েছে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১৬৩ ধারা। ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ১৭ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তাদের মধ্যে অন্তত ৮ জনকে ইতিমধ্যেই আদালতে পেশ করা হয়েছিল। ধৃতদের ২৯ নভেম্বর পর্যন্ত পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ইতিমধ্যে কলকাতা হাইকোর্টে দুটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়েছে বলে খবর। তার জেরেই এদিন রাজ্যের কাছে রিপোর্ট চেয়ে পাঠানো হয়েছে। মামলাকারীদের অভিযোগ, এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা অভিযোগ করেছেন যে ঘটনার পর থেকে আতঙ্কে তাঁরা নিজেদের বাড়িতে থাকতে পারছেন না। সেই সঙ্গে বেলডাঙা-সহ পুরো মুর্শিদাবাদে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের দাবিও জানিয়েছেন।
যদিও রাজ্যের তরফে অ্যাডভোকেট জেনারেল কিশোর দত্ত হাইকোর্টে জানিয়েছেন, রবিবার থেকে বেলডাঙার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ঘটনার পরে এলাকায় প্রচুর পরিমাণে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। তবে ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়েছে, নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা প্রাথমিক কর্তব্য রাজ্য প্রশাসনের। এ ক্ষেত্রে কোনওরকম পক্ষপাতিত্ব মেনে নেওয়া হবে না। পাশাপাশি স্থানীয় মানুষকে নিরাপত্তার দায়িত্ব নিতে হবে পুলিশ প্রশাসনকেই।
হাইকোর্টের আরও নির্দেশ, যারা ঘটনার জেরে বাড়ি থেকে পালাতে বাধ্য হয়েছেন বা যাদের এখনও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না তাঁদের কীভাবে ফিরিয়ে আনা যায় তার দায়িত্বও প্রশাসনের উপরেই বর্তায়।
সোমবারই বেলডাঙায় অশান্তির ঘটনায় কলকাতা হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেন বিজেপির আইনজীবী নেতা কৌস্তভ চক্রবর্তী। প্রধান বিচারপতি টি এস শিবজ্ঞানমের ডিভিশন বেঞ্চের দ্বারস্থ হয়ে ঘটনার তদন্তভার কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনআইএ-র হাতে তুলে দেওয়ার আর্জি জানিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি যত দ্রুত সম্ভব অশান্তি থামাতে যেন সিএপিএফ (সেন্ট্রাল আর্মড পুলিশ ফোর্স) জওয়ানদের মোতায়েন করার দাবিও জানিয়েছেন কৌস্তভ।