কমিশন ও নবান্ন-র এই পদক্ষেপের মধ্যে আপাত দর্শনে কোথাও কনফ্লিক্ট বা দ্বন্দ্ব নেই। তবু পর্যবেক্ষকদের অনেকের মন, সন্দেহপ্রবণ। তাঁরা বলছেন, ব্যাপারটা কেমন কেমন ঠেকছে! তার আরও কারণ রয়েছে।
.jpeg.webp)
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
শেষ আপডেট: 3 December 2025 20:08
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলায় ভোটার তালিকার (SIR - West Bengal Voter List) সংশোধনের কাজ চলছে। তার উপর নজরদারির জন্য গত সপ্তাহে হঠাৎ করেই ১৩ জন পর্যবেক্ষক নিয়োগ করেছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন (ECI)। তাঁদের মধ্যে একজন অবসরপ্রাপ্ত আইএএস (EX IAS), বাকিরা পশ্চিমবঙ্গ ক্যাডারের সিনিয়র আইএএস। এই ১৩ জন আমলা যখন জেলা ধরে ধরে ভোটার তালিকায় সংশোধন প্রক্রিয়ায় ফাঁক ও গলদ খুঁজছেন, ঠিক তারই মধ্যে নবান্নও চোখে পড়ার মতো এক নির্দেশ জারি করে দিল। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) নির্দেশ, প্রবীণ আমলা তথা ১২ জন আইএএস অফিসার (IAS Officer) এবার সরকারি প্রকল্পের কাজের তদারকির জন্য জেলায় জেলায় যাবেন। তাৎপর্যপূর্ণ হল, এই ১৩ জন অফিসারের মধ্যে অনেকেই এক বা একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দফতরের সচিব। যেমন তালিকায় গ্রামোন্নয়ন সচিব, বিদ্যুৎ ও তথ্য সংস্কৃতি সচিব, খাদ্য সচিব প্রমুখের নাম রয়েছে।
কমিশন ও নবান্ন-র এই পদক্ষেপের মধ্যে আপাত দর্শনে কোথাও কনফ্লিক্ট বা দ্বন্দ্ব নেই। তবু পর্যবেক্ষকদের অনেকের মন, সন্দেহপ্রবণ। তাঁরা বলছেন, ব্যাপারটা কেমন কেমন ঠেকছে! তার আরও কারণ রয়েছে। নির্বাচন কমিশনের একটি সূত্র দাবি করেছিল, জেলায় জেলায় পর্যবেক্ষকদের পাঠানোর ব্যাপারে যখন তাঁরা নবান্নর কাছে অফিসারদের নাম চেয়েছিলেন, তাঁর মধ্যে অনেক সচিবের নাম ছিল। সেই সব নাম তাঁরা বাদ দিয়েছেন। ঘটনাচক্রে নবান্নের এদিনের নির্দেশিকায় সেই সচিবদের নাম রয়েছে।
নবান্ন তথা মুখ্য সচিব মনোজ পন্থ যে নির্দেশ (অর্ডার নং ৯৮-CS/২০২৫ (তারিখ: ২ ডিসেম্বর ২০২৫) জারি করেছেন তাতে বলা হয়েছে, রাজ্যে চলতি বাংলার বাড়ি, পথশ্রী–রাস্তারশ্রীর মতো প্রকল্পগুলির দ্রুত ও সময়বদ্ধ বাস্তবায়ন চাইছে সরকার। তাই সিনিয়র আইএএস-দের একটি বড় দলকে রাজ্যের বিভিন্ন জেলা ও কলকাতা পুরসভায় সরেজমিন পরিদর্শন ও তদারকির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
কোন প্রকল্প নিয়ে এই নজরদারির সিদ্ধান্ত?
বাংলার বাড়ি প্রকল্প (Banglar Bari Scheme)। পথশ্রী–রাস্তারশ্রী স্কিম তথারাস্তা মেরামত–উন্নয়ন। এবং আমাদের পাড়া আমাদের সমাধান।নবান্ন জানিয়েছে, এত বৃহৎ পরিসরে কাজ চলায় প্রত্যেকটি প্রকল্প সঠিক গতিতে এগোচ্ছে কি না, কোথায় সমস্যা তৈরি হচ্ছে, কোথায় দ্রুত সমাধান প্রয়োজন — তা জানতে ও পর্যবেক্ষণ করতে শীর্ষ আমলাদের মাঠে পাঠানো হচ্ছে।
কোন কোন জেলায় কোন আমলা?
অর্ডারের প্রথম পাতায় বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করা হয়েছে কোন জেলার দায়িত্বে কোন আইএএস আধিকারিক থাকবেন। উদাহরণস্বরূপ:
কলকাতা পুরসভা — শ্রী শান্তনু বসু, IAS
পশ্চিম মেদিনীপুর — শ্রী মনীশ জৈন, IAS
পুরুলিয়া — শ্রী সঞ্জয় বানসাল, IAS
আলিপুরদুয়ার — শ্রী কৌশিক ভট্টাচার্য, IAS
জলপাইগুড়ি — শ্রী দুষ্যন্ত নারিয়ালা, IAS
দার্জিলিং —মৌমিতা গোদারা বসু, IAS
মালদা — ডঃ পি. উলাগানাথন, IAS
দক্ষিণ দিনাজপুর — শ্রী সুরেন্দ্র গুপ্ত, IAS
উত্তর ২৪ পরগনা — শ্রী পারভেদ আহমেদ সিদ্দিকী, IAS
হুগলি — শ্রী অঙ্কুর সিংহ মীনা, IAS
বীরভূম — শ্রী শরদ কুমার দুবে, IAS
পূর্ব বর্ধমান —বন্দনা যাদব, IAS
পশ্চিম বর্ধমান — শ্রী বরুণ কুমার রায়, IAS
জেলায় গিয়ে কী করবেন এই অফিসাররা?
নবান্নের নির্দেশে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট জেলার জেলাশাসকের সঙ্গে তাঁরা সমন্বয় করবেন। প্রকল্পগুলির কাজ নির্ধারিত সময়সীমা অনুযায়ী হচ্ছে কি না তা পর্যবেক্ষণ করবেন। কোথাও বিলম্ব বা জনঅভিযোগ থাকলে তার সমাধান দ্রুত নিশ্চিত করতে হবে। প্রয়োজন হলে নবান্নে ফিডব্যাক, রিপোর্ট ও সুপারিশ পাঠাবেন। নির্দেশিকায় উল্লেখ রয়েছে— জনঅভিযোগের নিষ্পত্তি যাতে সঠিক সময়ে ও যথাযথভাবে হয়, তা বিশেষভাবে নজরদারি করতে হবে।
কেন এত বড় পদক্ষেপ?
প্রকল্পগুলির গতি বাড়াতে এবং গ্রাউন্ড লেভেলে বাস্তব চিত্র সরাসরি জানার জন্যই এই সিদ্ধান্ত বলে জানা যাচ্ছে। প্রশাসনিক মহলের দাবি, আমলাদের এমন প্রত্যক্ষ নজরদারি থাকলে কাজের মান ও গতি দুটোই বাড়ে। এই অফিসারদের রিপোর্ট ও সুপারিশ সরাসরি মুখ্যসচিবের দফতরে জমা পড়বে। সংশ্লিষ্ট তথ্য জেলা প্রশাসন, কলকাতা পুরসভা ও বিভাগীয় কমিশনারদের কাছেও পাঠানো হবে।