জাতীয় সঙ্গীত (national anthem) ‘জন গণ মন’-র মতোই এবার জাতীয় গান (national song) ‘বন্দে মাতরম’ (Vande Mataram) পরিবেশনের সময়ও দাঁড়িয়ে সম্মান জানানো বাধ্যতামূলক হতে পারে।

শেষ আপডেট: 26 January 2026 15:24
দ্য ওয়াল ব্যুরো: জাতীয় সঙ্গীত (national anthem) ‘জন গণ মন’-র মতোই এবার জাতীয় গান (national song) ‘বন্দে মাতরম’ (Vande Mataram ) পরিবেশনের সময়ও দাঁড়িয়ে সম্মান জানানো বাধ্যতামূলক হতে পারে। এ ব্যাপারে একটি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা শুরু করেছে কেন্দ্র সরকার। সূত্রের খবর, ‘বন্দে মাতরম’ রচনার ১৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে এই জাতীয় গানটির জন্য নতুন প্রোটোকল আনার বিষয়টি খতিয়ে দেখছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক।
এখনও পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। তবে সরকারিভাবে আলোচনা যে চলছে, তা নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিষ্ট সূত্রেরা। ওই সূত্রে এও জানা যাচ্ছে, বাংলায় বিধানসভা ভোটের (West Bengal Assembly Election 2026) আগেই এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে পারে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা।
‘বন্দে মাতরম’-এর মর্যাদা বাড়াতে উদ্যোগ?
‘বন্দে মাতরম’ গানটি জাতীয়তাবাদ ও স্বাধীনতা আন্দোলনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। আনন্দমঠ উপন্যাসে (Anandamath) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের (Bankim Chandra Chattopadhyay) লেখা এই গান স্বাধীনতা সংগ্রামে বিপ্লবীদের অন্যতম প্রেরণাস্রোত ছিল। স্বাধীনতার পর ১৯৫০ সালে ‘বন্দে মাতরম’কে জাতীয় গান হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
আইন কী বলছে এখন?
বর্তমান আইন (The Prevention of Insults to National Honour Act, 1971) শুধুমাত্র জাতীয় সঙ্গীত ‘জন গণ মন’-র ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। সংবিধানের ৫১(ক) অনুচ্ছেদেও জাতীয় সঙ্গীতের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের কথা বলা হয়েছে। কিন্তু ‘বন্দে মাতরম’ পরিবেশনের সময় উঠে দাঁড়ানো বা গান গাওয়া বাধ্যতামূলক—এমন কোনও আইনি বিধান এখনো নেই।
এই নিয়ম ‘বন্দে মাতরম’-এর ক্ষেত্রেও প্রয়োগ করার দাবিতে সুপ্রিম কোর্ট ও বিভিন্ন হাই কোর্টে একাধিক আবেদন জমা পড়েছে। যদিও এতদিন সরকার জানিয়ে এসেছে, এই আইন কেবল জাতীয় সঙ্গীতের জন্যই প্রযোজ্য।
কেন নতুন করে বিতর্ক?
গত বছর ‘বন্দে মাতরম’ ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক ও ধর্মীয় বিতর্ক তৈরি হয়। কিছু মুসলিম সংগঠন এই গান আবৃত্তির বিরোধিতা করে। সংসদের শীতকালীন অধিবেশনে বিজেপি অভিযোগ তোলে, কংগ্রেস ‘তুষ্টিকরণের রাজনীতি’ করে মূল ছয় স্তবকের বদলে গানটির কেবল প্রথম দুই স্তবক ব্যবহার করছে।
বর্তমানে জাতীয় গান হিসেবে ‘বন্দে মাতরম’-এর ছয়টি স্তবকের মধ্যে শুধু প্রথম দুইটি গাওয়া হয়। বাকি স্তবকগুলিতে দুর্গাসহ একাধিক হিন্দু দেবীর উল্লেখ রয়েছে। বিজেপির দাবি, এই অংশগুলি বাদ দেওয়ার পিছনে ঐতিহাসিক রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত রয়েছে। ১৯৩৭ সালে তৎকালীন কংগ্রেস নেতৃত্ব, বিশেষ করে জওহরলাল নেহরুর লেখা চিঠির কথাও তারা সামনে আনে, যেখানে গানটির ধর্মীয় প্রেক্ষাপট মুসলিম সমাজকে বিরক্ত করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছিল।
রাজনীতির রঙ?
বিতর্ক চলাকালীন বিজেপি সভাপতি জেপি নাড্ডা দাবি করেছিলেন, জাতীয় পতাকা ও জাতীয় সঙ্গীতের মতোই জাতীয় গানকেও সমান মর্যাদা দেওয়া উচিত। অন্যদিকে কংগ্রেসের পাল্টা যুক্তি—আসন্ন পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনকে (West Bengal Election 2026) সামনে রেখেই এই ইস্যুকে নতুন করে উসকে দেওয়া হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, ‘বন্দে মাতরম’-এর জন্য যদি জাতীয় সঙ্গীতের মতোই প্রোটোকল চালু হয়, তবে তা শুধু আইনি নয়, রাজনৈতিক ও সামাজিক দিক থেকেও বড়সড় প্রভাব ফেলতে পারে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।