
ব্রাত্য বসু
শেষ আপডেট: 4 April 2025 16:11
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কলকাতা হাইকোর্টের রায় বহাল রেখে বৃহস্পতিবার ২০১৬ সালের এসএসসিতে নিয়োগের পুরো প্যানেল (SC Recruitment Case) বাতিল করেছে সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)। যার জেরে চাকরি হারিয়েছেন প্রায় ২৬ হাজার শিক্ষক। বৃহস্পতিবার সকালে প্রধান বিচারপতি সঞ্জীব খান্না এবং বিচারপতি সঞ্জয় কুমারের বেঞ্চ জানিয়েছে, পুরো প্রক্রিয়ায় কারচুপি করা হয়েছে। নিয়োগপ্রক্রিয়ার কোনও বিশ্বাসযোগ্যতা নেই। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই রায় শোনার পরপরই তড়িঘড়ি নবান্নে বৈঠক সারেন রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু, মুখ্যসচিব মনোজ পন্থদের নিয়ে। তার পরই সুপ্রিম কোর্টের রায় শুনিয়ে মমতা বলেন, রাজ্য সরকার বঞ্চিত-যোগ্যদের পাশে আছে। ঠিক একই কথা শোনা গেল এদিন ব্রাত্য বসুর (Bratya Basu) গলাতেও।
সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, "মুখ্যমন্ত্রী যা বলেছেন, আমরা যোগ্য-বঞ্চিত যাঁরা আছেন, তাঁদের পাশে আমরা থাকব। মানবিকভাবে থাকব। রাজনৈতিকভাবেও থাকব। যেটা বলা হচ্ছে টেইন্টেড এবং আনটেইন্টেড, বা একজনের বেতন ফেরত দেওয়া হবে আর একজনের বেতন ফেরত দেওয়া হবে না, এই কথাগুলো তো আমার কথা নয়। এগুলো মহামান্য বিচারপতির রায়ের প্রতিটি পাতায় আছে। আঠাশ নম্বর অণুচ্ছেদে স্পষ্ট করে আছে। অর্থাৎ যা বলা হচ্ছে, তা তো এসএসসির দেওয়া তথ্য থেকেই বলা হয়েছে। অর্থাৎ যোগ্য-অযোগ্যের তালিকা যে এসএসসি ভাগ করতে পারেনি, সেই কথাটা ঠিক নয়। এটা ঠিক সেই তথ্যে আদালত সন্তুষ্ট হতে পারেননি। কিন্তু নিশ্চিতভাবে প্রধান বিচারপতির রায়ের পর আমরা বুঝতে পারছি। এবং যাঁরা যোগ্য-বঞ্চিত তাঁদের প্রতি একটা মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি যাতে সব তরফ থেকে বেরোয়, আমি সেই আবেদনও করব। আমি শুধু একটাই কথা বলব, মাননীয় মুখমন্ত্রীর উপর ভরসা রাখুন।"
বস্তুত, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে শেষমেশ চাকরি বাতিল হয়ে যাওয়ায় হাজার হাজার শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মচারীর হতাশায় ভেঙে পড়ার ছবি এদিন দিনভর সংবাদমাধ্যমে দেখা গিয়েছিল। সেই প্রসঙ্গ টেনে মুখ্যমন্ত্রী কাল সাংবাদিক বৈঠক করে বলেছিলেন, "যাঁরা চাকরি হারিয়েছেন, তাঁরা ৭ এপ্রিল নেতাজি ইনডোর স্টেডিয়ামে একটি সভা ডেকেছেন। আমি জানিয়েছি, তাঁদের সভায় যাব। তবে আবারও বলছি, মানসিক চাপ নেবেন না, ধৈর্য্য হারাবেন না।"
প্রায় ২৬ হাজার চাকরি, পরিবার পিছু ৫ জন ধরলে প্রায় ১৫০ লক্ষ মানুষ। আদালতের নির্দেশ ঘিরে তাদের মধ্যে নেমে এসেছে হাহাকার। চাকরিহারাদের অনেকে ব্যাঙ্ক থেকে লোন নিয়েছেন। তাঁদেরও সংসার রয়েছে। মনে করিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, "এভাবে কয়েকলক্ষ পরিবারকে অচল করে দিল। এই পরিবারগুলোর কোনও অঘটন ঘটলে তার দায়ভার কিন্তু সিপিএম-বিজেপিকে নিতে হবে।"