
শেষ আপডেট: 23 February 2024 14:07
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ফের সন্দেশখালি গেলেন রাজ্য পুলিশের ডিজি রাজীব কুমার। বৃহস্পতিবার রাত থেকে ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে সন্দেশখালির বিভিন্ন এলাকা। নতুন করে বেশ কয়েকটি জায়গায় ১৪৪ ধারা জারি হয়েছে। অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি সামাল দিতে এদিন সন্দেশখালি পৌঁছন রাজীব কুমার। গ্রামবাসীদের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের আশ্বস্ত করেন তিনি। সঙ্গে বলেন, ''আইন হাতে তুলে নেবেন না। যা অভিযোগ আছে সব ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
বুধবার দিনভর সন্দেশখালিতে টহল দিয়েছিলেন রাজীব কুমার, ছিলেন সেদিন রাতেও। বৃহস্পতিবার সকালেও এলাকা ঘুরে তারপর কলকাতা ফিরেছিলেন রাজ্য পুলিশের ডিজি। এরপর ফের উত্তপ্ত হয় সন্দেশখালি। শুক্রবার সকাল থেকে শাহজাহানের ভাইয়ের বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফেটে পড়েন গ্রামবাসীরা। সেই আবহে এদিন সন্দেশখালির বেরমজুড়ে পৌঁছন রাজীব কুমার। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে তিনি টহল দেন এলাকায়। এদিন সকালে গ্রামবাসীদের সঙ্গে কথা বলেছিলেন এডিজি দক্ষিণবঙ্গ সুপ্রতিম সরকার। রাজীব কুমার সন্দেশখালিতে যাওয়ার পর তাঁর সঙ্গেও ছিলেন তিনি।
এদিন সন্দেশখালি দুই নম্বর ব্লকের এক নম্বর বেরমজুর গ্রামের কাছারি অঞ্চল থেকে শুরু করে একাধিক গ্রামে ঘুরে দেখেন ডিজি। সাধারণ মানুষের অভাব অভিযোগ শোনেন তিনি। সঙ্গে আইন হাতে তুলে না নেওয়ার আর্জি জানান।
শুক্রবার সন্দেশখালিতে বানানো হয় একাধিক পুলিশ ক্যাম্প। সেখানেই নির্যাতিত গ্রামবাসীরা অভিযোগ জানাতে পারবেন বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। গ্রামবাসীদের প্রতি রাজ্য পুলিশের ডিজি রাজীব কুমারের আবেদন, "আইন নিজের হাতে তুলে নেবেন না।"
প্রসঙ্গত, শেখ শাহজাহানের ভাই শেখ সিরাজুদ্দিনের গ্রেফতারের দাবিতে শুক্রবার সকাল থেকে ফের উত্তপ্ত হয়ে ওঠে সন্দেশখালির বেড়মজুরের কাছারি এলাকা। শেখ শাজাহান ঘনিষ্ঠ তৃণমূল কংগ্রেস নেতা অজিত মাইতির বাড়িতে ভাঙচুর করল ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীরা। অভিযোগ, কলাগাছি নদীর ধারে সাধারণ চাষিদের সমস্ত জমি জোর করে ভয় দেখিয়ে দখল নেয় অজিত মাইতি। সেই অভিযোগেই তার বাড়িতে চড়াও হয়ে ভাঙচুর চালায় গ্রামবাসীরা।
গরিব চাষিদের জমি দখলের অভিযোগে শেখ শাহজাহানের ভাই শেখ সিরাজউদ্দিনের ভেড়ির আলাঘরেও আগুন ধরিয়ে দেয় উত্তেজিত গ্রামবাসী। তাঁদের অভিযোগ, প্রায় ৪০ বিঘা জমি জোর করে দখল করে নিয়েছে শেখ সিরাজউদ্দিন। চাষের জমিতে রাতারাতি সামুদ্রিক নোনা জল ঢুকিয়ে বানানো হয় মেছো ভেড়ি। প্রতিবাদ করতে গিয়ে জখম হতে হয়েছে অনেককে। সন্দেশখালি থানার পুলিশের কাছে অভিযোগ জানিয়েও কোনও ফল হয়নি। উল্টে প্রতিবাদী গ্রামবাসীদের কপালে জুটেছে অত্যাচার, লাঞ্ছনা। গন্ডগোলের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় বিশাল পুলিশ বাহিনী। তাদের ঘিরে ধরে বিক্ষোভ দেখাতে থাকে ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামবাসীরা।