বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী দুটি আলাদা নোটিসের জবাবে একটি যৌথ চিঠি লিখে জানিয়েছেন, এই দুই বৈঠকেই তিনি যোগ দেবেন না (Suvendu Adhikari boycott meetings)।

ছবি - সংগৃহীত
শেষ আপডেট: 30 November 2025 21:31
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মানবাধিকার কমিশন (Human Rights Commission) ও লোকায়ুক্ত নির্বাচন কমিটির (Lokayukta selection committee) ডাকা বৈঠককে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতি সরগরম (West Bengal politics)। পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Leader of Opposition Suvendu Adhikari) দুটি আলাদা নোটিসের জবাবে একটি যৌথ চিঠি লিখে জানিয়েছেন, এই দুই বৈঠকেই তিনি যোগ দেবেন না (West Bengal Leader of Opposition boycott meetings)।
রাজনীতির রেকর্ড বলছে, গত সাড়ে চার বছরে এমন বৈঠকে কখনও যাননি শুভেন্দু (Suvendu Adhikari)। তাই সেই নিয়ে চাপা একটা উত্তেজনা ছিলই ওয়াকিবহাল মহলে। এবার সেই জল্পনাতেই শিলমোহর দিলেন বিরোধী দলনেতা। বৈঠকের আগেরদিন নবান্নের ঠিকানায় পৌঁছল চিঠি (formal letter sent to Nabanna)।
তাঁর অভিযোগ, রাজ্যের শাসক দলের শীর্ষ নেতৃত্ব এবং প্রশাসনিক আচরণ ‘‘সংবিধানিক শিষ্টাচারকে ধারাবাহিকভাবে অবমাননা’’ করেছে, ফলে তাঁদের ডাকা বৈঠকে অংশ নেওয়া মানেই ‘‘অসাংবিধানিক প্রক্রিয়াকে বৈধতা দেওয়া’’।
চিঠিতে তিনি এও লেখেন, সাংবিধানিক দফতর এবং আইন-নির্ধারিত নির্বাচন প্রক্রিয়ার প্রতি তাঁর সর্বোচ্চ সম্মান রয়েছে। কিন্তু বর্তমান সরকার সেই কাঠামো ‘‘ভেঙে দিয়েছে’’, যার ফলে এই ধরনের বৈঠকে উপস্থিত থাকা বাস্তবে একপ্রকার অর্থহীন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ বিরোধী দলনেতার
প্রসঙ্গত, দুটি বৈঠকই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর সভাপতিত্বে হওয়ার কথা। বিরোধী দলনেতার অভিযোগ, ‘‘বছরের পর বছর মুখ্যমন্ত্রীর আচরণ সংবিধানিক মূল্যবোধ ও প্রশাসনিক ন্যায়শাসনের প্রতি স্পষ্ট অবজ্ঞা দেখিয়েছে।’’
তিনি এই প্রসঙ্গে কয়েকটি সাম্প্রতিক উদাহরণ তুলে ধরেন -
২০২১–এর ভোট-পরবর্তী হিংসা নিয়েও অভিযোগের তীর
তিনি লেখেন, ২০২১ সালের ভোট-পরবর্তী হিংসা এখনও রাজ্যের মানুষের স্মৃতিতে তাজা। তখন হাইকোর্টও রাজ্য প্রশাসনকে কঠোর ভাষায় সতর্ক করেছিল। তাঁর দাবি, সেই সময় 'প্রশাসন প্রতিরোধ না করে উল্টে হিংসাকে প্রশ্রয় দিয়েছিল।'
এমনকী, একটি কালীপুজো অনুষ্ঠানে তাঁর ওপর হামলার কথাও উল্লেখ করেন, বলেন সেই আক্রমণ দেখিয়েছে 'আইন-শৃঙ্খলার অবস্থা কতটা নীচে নেমেছে'।
AI দিয়ে বিকৃত ছবির ঘটনাও তোলেন শুভেন্দু
সাম্প্রতিক AI–বিকৃত অশ্লীল ছবি ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় কেয়া ঘোষ ও রেখা পাত্রর নাম উল্লেখ করে তিনি বলেন, মুখ্যমন্ত্রী 'অভিযুক্তদের আড়াল করার চেষ্টা' করেছেন, যা 'নারী মর্যাদার প্রতি ভয়াবহ আঘাত'।
‘মানবাধিকার আলোচনা তাঁর চেয়ারম্যানশিপে সম্ভব নয়’
বিরোধী দলনেতার অভিযোগ, রাজ্যের ‘‘মানবাধিকার লঙ্ঘন ঘটনাচক্রে নয়, বরং পদ্ধতিগত’’। শুভেন্দু এখানে বেশ কয়েকটি অভিযোগ জানিয়েছেন,
তাঁর ভাষায়, ‘‘যিনি নিজে এই কাঠামোকে বারবার ভেঙেছেন, তাঁর সভাপতিত্বে মানবাধিকার বা দুর্নীতি-নিরোধ নিয়ে সত্যিকারের আলোচনা অসম্ভব।’’
১ ডিসেম্বরের দুই বৈঠকেই অনুপস্থিতির ঘোষণা
শুভেন্দু স্পষ্ট জানান, ১ ডিসেম্বর, ২০২৫–এর মানবাধিকার কমিশন ও লোকায়ুক্ত নির্বাচন কমিটির কোনও বৈঠকেই তিনি যোগ দেবেন না। তবে তিনি বলেন, বৈঠকের অন্য সদস্যরা চাইলে তাঁদের মতো করে প্রক্রিয়া চালিয়ে যেতে পারেন। কমিটি প্রস্তাবিত নিয়োগের তালিকা চূড়ান্ত করার পর তা তাঁর কাছে পাঠালে তিনি ‘‘যথাযথ পর্যালোচনা করে’’ মন্তব্য পাঠাবেন।