বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, কমিটির চেয়ারম্যান করা হয়েছে তাপস রায়কে। আহ্বায়কের দায়িত্ব পেয়েছেন বিজেপি বিধায়ক অশোক লাহিড়ী। সহ-আহ্বায়ক হিসেবে থাকছেন বিধায়ক অগ্নিমিত্রা পাল।

গ্রাফিক্স: দ্য ওয়াল
শেষ আপডেট: 24 January 2026 20:18
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের (WB Assembly Election) আর বেশি দেরি নেই। ভোটের কথা মাথায় রেখে নির্বাচনী প্রস্তুতি আরও এক ধাপ এগোল বিজেপির (BJP News)। রাজ্যের জন্য নির্বাচনী সংকল্প পত্র বা ইস্তেহার (Manifesto) তৈরির লক্ষ্যে ১১ সদস্যের একটি রাজ্য সংকল্প পত্র কমিটি গঠন করল বঙ্গ বিজেপি (West Bengal BJP)। শনিবার দলের রাজ্য দফতর থেকে বিজ্ঞপ্তি জারি করে এই কমিটির ঘোষণা করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, কমিটির চেয়ারম্যান করা হয়েছে তাপস রায়কে। আহ্বায়কের দায়িত্ব পেয়েছেন বিজেপি বিধায়ক অশোক লাহিড়ী। সহ-আহ্বায়ক হিসেবে থাকছেন বিধায়ক অগ্নিমিত্রা পাল। কমিটির অন্য সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন চিত্তরঞ্জন মণ্ডল, সাংসদ মনোজ টিগ্গা, স্বপন দাশগুপ্ত, শিশির বাজোরিয়া, অমলকান্তি রায়, বৈশালী ডালমিয়া, অনির্বাণ গঙ্গোপাধ্যায় এবং আইনজীবী দেবজিৎ সরকার।
দলীয় সূত্রে খবর, রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতা মাথায় রেখেই সংকল্প পত্র তৈরি করবে এই কমিটি। বিভিন্ন শ্রেণি ও পেশার মানুষের মতামত নিয়ে, উন্নয়ন, কর্মসংস্থান, শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং আইনশৃঙ্খলা-সহ একাধিক ইস্যুকে গুরুত্ব দেওয়া হবে ম্যানিফেস্টোতে।
এর আগে বঙ্গ বিজেপির রাজ্য কমিটি ঘোষণা করা হয়েছিল। তাৎপর্যপূর্ণভাবে সেই তালিকায় জায়গা হয়নি দিলীপ ঘোষের। বরং তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে আসা উত্তর কলকাতার বর্ষীয়ান নেতা তাপস রায়কে রাজ্য কমিটিতে জায়গা দেওয়া হয়। শুধু আনা হয়েছিল যে তাই নয়, তাঁকে দেওয়া হয় রাজ্য সহ-সভাপতির পদও।
তবে দিলীপ, সুকান্তদের নাম রাজ্য কমিটিতে না থাকা নিয়ে বিজেপির একটি সূত্রের দাবি, বিজেপির সাংগঠনিক গঠন প্রক্রিয়া অনুযায়ী যদি কেউ অতীতে রাজ্য সভাপতির পদে থাকেন বা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হন তাহলে তাঁকে রাজ্য কমিটিতে রাখা হয় না। তাছাড়া দুটো টার্মে রাজ্য সভাপতি থাকার পর দিলীপ ঘোষ সরে যাওয়ার কিছুটা পরেই তাঁকে সর্বভারতীয় সহ সভাপতি করা হয়েছিল। সেই অর্থে বিজেপির সাংগঠনিক স্ট্রাকচার মেনে দিলীপ ঘোষকে কোনও মতেই আর রাজ্য কমিটিতে ফেরানো সম্ভব ছিল না।
কিন্তু, শনিবার যখন নির্বাচনী সংকল্প পত্র তৈরির কমিটি গঠন করা হল, সেখানেও ব্রাত্য থেকে গেলেন দিলীপ। বরং চেয়ারম্যান করা হয়েছে সেই তাপসকে।
রাজনৈতিক মহলের মতে, লোকসভা নির্বাচনের পর রাজ্যে সংগঠনকে আরও মজবুত করতে এবং ২০২৬-এর ভোটে স্পষ্ট রাজনৈতিক বার্তা দিতে এই সংকল্প পত্র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে চলেছে। অন্যদিকে, তৃণমূলের টানা তিনবারের শাসনের বিরুদ্ধে কী কী প্রতিশ্রুতি নিয়ে বিজেপি মানুষের কাছে যাবে, তা নিয়ে কৌতূহল বাড়ছে রাজনৈতিক মহলে। নতুন গঠিত এই কমিটির কাজের দিকেই এখন নজর রাজ্য রাজনীতির।