রমজান মাসে তাঁদের ধর্মগুরু আয়াতুল্লা আলি খামেনেইয়ের (Ayatollah Ali Khamenei) মৃত্যুর খবরের পর থেকেই এলাকায় চলছে ৪০ দিনের শোকপালন। পাড়ার মোড়ে টাঙানো হয়েছে কালো পতাকা। উৎসবের মরসুম হলেও ইদের আনন্দ কার্যত ফিকে হয়ে গিয়েছে। বয়স্ক থেকে তরুণ—সবাই নজর রাখছেন ইরান, আমেরিকা ও ইজরায়েলের সংঘাতের খবরে।

পাণ্ডবেশ্বরের ইরানি পাড়া
শেষ আপডেট: 11 March 2026 21:20
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের (Iran war) আগুন ছড়িয়ে পড়তেই তার অভিঘাত এসে পৌঁছেছে পশ্চিম বর্ধমানের পাণ্ডবেশ্বরেও। ইরানে লাগাতার মিসাইল ও বোমা হামলার খবর ছড়িয়ে পড়তেই শোকের ছায়া নেমে এসেছে পাণ্ডবেশ্বরের ‘ইরানি পাড়া’-য় (Irani Para)। বহু দশক ধরে বসবাস করা শতাধিক ইরানি পরিবারের মানুষ উদ্বেগ আর দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন। রমজান মাসে তাঁদের ধর্মগুরু আয়াতুল্লা আলি খামেনেইয়ের (Ayatollah Ali Khamenei) মৃত্যুর খবরের পর থেকেই এলাকায় চলছে ৪০ দিনের শোকপালন।
পাড়ার মোড়ে টাঙানো হয়েছে কালো পতাকা। উৎসবের মরসুম হলেও ইদের আনন্দ কার্যত ফিকে হয়ে গিয়েছে। বয়স্ক থেকে তরুণ—সবাই নজর রাখছেন ইরান, আমেরিকা ও ইজরায়েলের সংঘাতের খবরে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বহু বছর আগে ব্যবসার সূত্রে ভারতের বিভিন্ন শহরে এসেছিলেন বহু ইরানি পরিবার। কেউ কেউ দেশে ফিরে গেলেও অনেকেই ভারতেই স্থায়ীভাবে থেকে যান। আগ্রা, দিল্লি, মুর্শিদাবাদসহ দেশের নানা জায়গায় আজও তাঁদের বসবাস রয়েছে। পশ্চিম বর্ধমানের পাণ্ডবেশ্বরেও কয়েক দশক ধরে গড়ে উঠেছে একটি ছোট ইরানি সম্প্রদায়।
বর্তমানে এলাকার অনেকেই চশমা তৈরি, গ্রহরত্ন বা ছোটখাটো ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। দীর্ঘদিন ধরে বাংলায় বসবাস করলেও জন্মভূমির প্রতি তাঁদের আবেগ এখনও অটুট। তাই ইরানে চলা যুদ্ধের খবরে গভীরভাবে ব্যথিত তাঁরা।
এলাকার বাসিন্দা আমজাদ আলি বলেন, “বাংলায় আমরা ভালোভাবেই আছি। রাজ্য সরকার আমাদের জল, বিদ্যুৎ, বাসস্থানসহ নানা সুবিধা দিয়েছে। এখানে কোনও অসুবিধা নেই। কিন্তু আমাদের দেশের উপর যেভাবে হামলা চলছে তা মেনে নেওয়া কঠিন।”
আর এক প্রবীণ বাসিন্দা গোলাম হোসেন আলির কথায়, “আমার জন্ম এখানেই। কিন্তু ধর্মগুরু হিসেবে আমরা আয়াতুল্লা খামেনেইকেই মানি। তাঁর মৃত্যু আমাদের কাছে বড় আঘাত। সাধারণ মানুষকে রক্ষা করতে তিনি শহিদ হয়েছেন বলেই আমরা মনে করি।”
স্থানীয় বাসিন্দা রুস্তম আলিও জানান, ধর্মগুরুর স্মরণে এলাকায় ৪০ দিনের শোকপালন চলছে।
এলাকার মহিলারাও এই পরিস্থিতিতে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। তাঁদের কথায়, বাংলায় বসবাসের অনেক সুবিধা থাকলেও ইরানের উপর হামলার খবরে মন ভারাক্রান্ত হয়ে রয়েছে। জীবিকার তাগিদে অনেকেই হাতে তৈরি সামগ্রী ফেরি করেন। কিন্তু যুদ্ধের খবর তাঁদের মনে আনন্দের জায়গা প্রায় মুছে দিয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত যত বাড়ছে, ততই উদ্বেগ বাড়ছে পাণ্ডবেশ্বরের এই ইরানি পাড়ায়। জন্মভূমি থেকে বহু দূরে থেকেও যুদ্ধের প্রতিটি খবর যেন তাঁদের হৃদয়ে আঘাত করে চলেছে।