রাজ্যের দায়িত্বপ্রাপ্ত স্পেশ্যাল রোল অবজারভার সুব্রত গুপ্ত (Subrata Gupta) এরই মধ্যে জাতীয় নির্বাচন কমিশনকে (ECI) চিঠি লিখেছেন। সেই চিঠিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘লজিকাল ডিসক্রিপেন্সি’ বলতে ঠিক কী বোঝানো হচ্ছে, তা নিয়ে নিচুতলায় আধিকারিকদের মধ্যে চরম বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।

শেষ আপডেট: 18 January 2026 12:51
ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়াকে (SIR) ঘিরে নির্বাচন কমিশনের (ECI) ‘লজিকাল ডিসক্রিপেন্সি’ (Logical Discrepancy) তত্ত্ব এখন রাজ্যের ভোটারদের কাছে বড় প্রশ্নচিহ্ন হয়ে উঠেছে। যে যুক্তির ভিত্তিতে ভোটারের নাম যাচাই-বাছাই হচ্ছে, সেই যুক্তি নিয়েই ক্রমশ ঘনীভূত হচ্ছে ধোঁয়াশা। শুধু সাধারণ মানুষই নন- এই অস্পষ্টতার প্রভাব পড়েছে রাজ্যের সিইও অফিসের (CEO Office) অন্দরেও। সূত্রের মতে, এই মুহূর্তে রাজ্যে ‘লজিকাল ডিসক্রিপেন্সি'র আওতায় পড়া ভোটারের সংখ্যা প্রায় ১ কোটি, যা আগামী দিনে আরও বাড়তে পারে।
সূত্র জানাচ্ছে, এ ব্যাপারে রাজ্যের দায়িত্বপ্রাপ্ত স্পেশ্যাল রোল অবজারভার সুব্রত গুপ্ত (Subrata Gupta) এরই মধ্যে জাতীয় নির্বাচন কমিশনকে (ECI) চিঠি লিখেছেন। সেই চিঠিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘লজিকাল ডিসক্রিপেন্সি’ বলতে ঠিক কী বোঝানো হচ্ছে, তা নিয়ে নিচুতলায় আধিকারিকদের মধ্যে চরম বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। ফলে দ্রুত একটি স্পষ্ট, লিখিত গাইডলাইন (logical discrepancy guideline) জারি করার আবেদন জানানো হয়েছে কমিশনের কাছে।
ডিসক্রিপেন্সি নিয়ে ডিসক্রিপেন্সি?
অভিযোগ আরও গুরুতর। নাম, বয়স, ঠিকানা বা পারিবারিক তথ্যের সামান্য অমিলকেই অনেক ক্ষেত্রে ‘ডিসক্রিপেন্সি’ হিসেবে ধরা হচ্ছে। কোথাও যাচাই ছাড়াই ভোটারদের কাছে নোটিস যাচ্ছে, আবার একই ধরনের তথ্য থাকা সত্ত্বেও এক বুথে নাম বহাল থাকছে, অন্য বুথে বাদ পড়ছে—যা কমিশনের অভ্যন্তরীণ সমন্বয় ও প্রক্রিয়ার ধারাবাহিকতা নিয়েই প্রশ্ন তুলছে।
এই প্রেক্ষিতে কমিশনের অবস্থান জানতে ‘দ্য ওয়াল’ যোগাযোগের চেষ্টা করেছিল জাতীয় নির্বাচন কমিশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত অফিসার সীমা খান্না-র (Seema Khanna) সঙ্গে। বর্তমানে তিনি কমিশনের আইটি বিভাগের দায়িত্বে রয়েছেন। হোয়াটসঅ্যাপ বার্তাও পাঠানো হয়, তবে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
এদিকে রাজনৈতিক মহলের একাংশের দাবি, ‘লজিকাল ডিসক্রিপেন্সি’র ঘটনা সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকাতেই তুলনামূলক বেশি দেখা যাচ্ছে। যদিও নির্বাচন কমিশনের তরফে বারবার বলা হচ্ছে—সংখ্যালঘু বা সংখ্যাগুরু বলে তাঁদের দৃষ্টিতে কোনও ভেদ নেই, সবাই সমান ভোটার। তবু বাস্তব অভিজ্ঞতা ও কমিশনের বক্তব্যের মধ্যে ফারাক থেকেই যাচ্ছে বলে অভিযোগ।
সব মিলিয়ে প্রশ্নটা থেকেই যাচ্ছে—যে যুক্তির ভিত্তিতে ভোটারের অধিকার নির্ধারিত হচ্ছে, সেই যুক্তিই যদি শুরু থেকেই স্পষ্ট না থাকে, তাহলে দায় নেবে কে? ‘লজিকাল ডিসক্রিপেন্সি’ খুঁজতে গিয়ে আদৌ কি কমিশন নিজের লজিকটাই হারিয়ে ফেলছে না, এই প্রশ্নই এখন প্রশাসনিক মহল থেকে সাধারণ মানুষের আলোচনায়।