কমিশনের তরফে গত ৮ অগস্ট মুখ্যসচিব মনোজ পন্থকে একটি চিঠি পাঠিয়ে অভিযুক্ত আধিকারিকদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

কমিশনের নির্দেশে চার আধিকারিককে সাসপেন্ড করল নবান্ন
শেষ আপডেট: 21 August 2025 23:16
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভোটার তালিকায় (Voter List) অবৈধ ভাবে নাম তোলা-সহ একাধিক অনিয়মের অভিযোগে রাজ্যের চার সরকারি আধিকারিককে সাময়িক সাসপেন্ড (Suspend) করল নবান্ন (Nabanna)। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ মেনেই এই পদক্ষেপ করা হয়েছে বলে বৃহস্পতিবার সরকারি সূত্রে খবর মিলেছে। তবে কমিশন যে এফআইআর করার নির্দেশ দিয়েছিল, আপাতত তা কার্যকর হচ্ছে না। তবে ওই চারজনের বিরুদ্ধে বিচারবিভাগীয় তদন্ত করবে নবান্ন।
কমিশনের তরফে গত ৮ অগস্ট মুখ্যসচিব মনোজ পন্থকে একটি চিঠি পাঠিয়ে অভিযুক্ত আধিকারিকদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। জানানো হয়, দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও পূর্ব মেদিনীপুরের চার আধিকারিক— যাঁদের মধ্যে দু’জন ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার (ইআরও) এবং দু’জন অ্যাসিস্ট্যান্ট ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার (এইআরও)—কে শুধু সাসপেন্ড নয়, এফআইআরে নাম নথিভুক্ত করতে হবে। সেই সঙ্গে বিভাগীয় তদন্তও শুরু করতে হবে। এই সব পদক্ষেপ করার জন্য ৭২ ঘণ্টার সময়সীমা বেঁধে দেয় কমিশন।
যদিও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রকাশ্যে জানিয়ে দিয়েছিলেন, তিনি সরকারি আধিকারিকদের শাস্তি হতে দেবেন না মানে না। তাঁর বক্তব্য ছিল, নির্বাচনের এখনও ঢের দেরি। এদিকে কমিশন এখন থেকেই অকারণে আধিকারিকদের সাসপেন্ড করতে বলছে।

আধিকারিকদের যে চিঠি পাঠানো হয়েছে তার একটি দ্য ওয়ালের হাতে
এর মধ্যেই মুখ্যসচিব মনোজ পন্থ কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী রিপোর্ট পাঠান। প্রথমদিকে কমিশনকে জানানো হয়, পূর্ব মেদিনীপুরের ময়না বিধানসভা কেন্দ্রের এইআরও সুদীপ্ত দাস এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুর পূর্ব বিধানসভার ডেটা এন্ট্রি অপারেটর সুরজিৎ হালদারকে নির্বাচন সংক্রান্ত কাজ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। বাকিদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব নয় বলেই জানানো হয়েছিল।
তবে ১৩ অগস্ট কমিশনের ডাকে মুখ্যসচিব দিল্লিতে যান। প্রায় এক ঘণ্টার বৈঠক শেষে তিনি মুখে কিছু না বললেও, কমিশনের চাপে অবশেষে রাজ্য সরকারকে চার আধিকারিকের বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নিতে হয়। নবান্ন সূত্রে বৃহস্পতিবার নিশ্চিত করা হয়েছে, চারজনকেই সাসপেন্ড করা হয়েছে এবং তাঁদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত চলবে। তবে এফআইআর দায়ের আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে।