দ্য ওয়াল ব্যুরো : ২০০৭ সালে ভারতে হাচিসন হোয়াম্পোয়া কোম্পানির মোবাইল নেটওয়ার্ক কিনে নেয় ভোডাফোন। ভারত সরকার দাবি করে, ওই নেটওয়ার্ক কেনার জন্য কর দিতে হবে ভোডাফোনকে। তারা কর দিতে অস্বীকার করে। সরকার ভোডাফোনের থেকে ৭৯০০ কোটি টাকা জরিমানা চায়। তার ওপরে করের সুদ বাবদ দিতে বলে ১২ হাজার কোটি টাকা। ভোডাফোন তখন ভারত সরকারের বিরুদ্ধে হেগ শহরে ইন্টারন্যাশনাল আরবিট্রেশন ট্রাইব্যুনালে যায়। শুক্রবার সেই ট্রাইব্যুনালের রায়ে জয় হয়েছে ভোডাফোনের।
ট্রাইব্যুনাল রায় দিয়েছে, ভারত ও নেদারল্যান্ডসের মধ্যে বিনিয়োগ নিয়ে যে চুক্তি হয়েছিল, সেই অনুযায়ী ভারত সরকার ভোডাফোনের থেকে কর আদায় করতে পারে না। ট্রাইব্যুনাল স্পষ্ট বলেছে, সরকার যেন আর ভোডাফোনের থেকে বকেয়া কর না চায়। বরং আইনি লড়াই চালাতে ভোডাফোনের যে খরচ হয়েছে, সেই বাবদ সরকারই তাদের দিক ৪০ কোটি টাকা।
ভোডাফোন এবং ভারতের অর্থমন্ত্রক, কেউই এখনও এই রায় নিয়ে মন্তব্য করেনি। ২০১২ সালে ভারতে সুপ্রিম কোর্ট ভোডাফোনের পক্ষে রায় দিয়েছিল। সেই বছরের শেষেই সরকার কয়েকটি বিধি পরিবর্তন করে। এরপরে সরকার ফের ভোডাফোনের থেকে কর আদায়ের চেষ্টা করে। ২০১৪ সালের এপ্রিলে ভোডাফোন সরকারের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালে যায়।
ভারত এখন বিভিন্ন কোম্পানির সঙ্গে এক ডজনের বেশি আন্তর্জাতিক মামলায় জড়িয়ে আছে। মামলাকারীদের অন্যতম হল কায়রন এনার্জি। অভিযোগ, সরকার তাদের সঙ্গে চুক্তি বাতিল করে দিয়েছে। এই মামলায় যদি সরকার হেরে যায়, তাকে কয়েক হাজার কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে হতে পারে।
চলতি মাসে সুপ্রিম কোর্টের রায়ে ঋণগ্রস্ত মোবাইল কোম্পানিগুলি কিছু সুবিধা পায়। শীর্ষ আদালত বলেছিল, কয়েক হাজার কোটি টাকা কর দেওয়ার জন্য কোম্পানিগুলি ১০ বছর সময় পাবে।
ভারতে টেলিকম প্রোভাইডার সংস্থাগুলি এয়ার ওয়েভ ব্যবহারের জন্য তাদের অ্যাডজাস্টেড গ্রস রেভিনিউ (এডিআর)-এর তিন থেকে পাঁচ শতাংশ দেয় টেলিকম দফতরকে। লাইসেন্স ফি বাবদ দিতে হয় এজিআরের আট শতাংশ। এজিআরের সংজ্ঞা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে নানা বিতর্ক ছিল। গত বছর সুপ্রিম কোর্ট সরকারের দেওয়া সংজ্ঞাই মেনে নেয়।