
শেষ আপডেট: 23 May 2023 15:01
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এককালে এই লিগে (La Liga) খেলেছেন রোনাল্ডিনহো, রোনাল্ডো, ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো, লিওনেল মেসি। এখন সেই লিগই কিনা পুরোপুরি বর্ণবিদ্বেষীদের দখলে!
সোমবার লা লিগার ম্যাচে ভ্যালেন্সিয়ার কাছে ১-০ গোলে হারার পর এমনই বিস্ফোরক অভিযোগ তুললেন রিয়াল মাদ্রিদের ব্রাজিলীয় তারকা ভিনিসিয়াস জুনিয়র (Vinicius Jr)।
অভিযোগ, ভ্যালেন্সিয়ার ঘরের মাঠ মেস্তালাতে ভিনির বিরুদ্ধে একদল সমর্থক সমস্বরে বর্ণবিদ্বেষী মন্তব্য করতে থাকেন। রিয়াল কোচ কার্লো আন্সেলোত্তি বলেছেন, অপমানিত ভিনি পরে আর খেলতেই চায়নি। তিনিও ব্যক্তিগতভাবে চেয়েছিলেন, ম্যাচ থামিয়ে দেওয়া হোক। 'একজন বা দু'জনের মন্তব্যের ব্যাপার না। এখানে একটা গোটা স্টেডিয়াম তারস্বরে বর্ণবিদ্বেষী মন্তব্য করে চলেছে একজন খেলোয়াড়কে। ম্যাচ তো ওখানেই থেমে যাওয়া উচিত ছিল। ম্যাচ ৩-০ হারলেও আমি একই কথা বলতাম। এখানে অন্য কিছু বলার জায়গাই নেই', ম্যাচের পরে বলেন আন্সেলোত্তি।

রিয়ালের ইতালীয় কিংবদন্তী ম্যানেজার রেফারিকে এই মর্মে জানিয়েছিলেন। রেফারি বলেন, নিয়ম হচ্ছে, আগে ভক্তদের সতর্ক করতে হবে, তাতেও সমস্যা না মিটলে ম্যাচ থামানো যেতে পারে। রিয়াল মাদ্রিদ ক্লাবের তরফে যদিও ভ্যালেন্সিয়ার স্টেট অ্যাটর্নি জেনারেলের দপ্তরে ঘৃণা ছড়ানোর অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। আন্সেলোত্তি পরে টুইট করেন, 'এবার কথাবার্তায় কাজ চালানোর দিন শেষ, কড়া পদক্ষেপ করার সময় এসেছে!'
পরে ম্যাচের একেবারে শেষ মুহূর্তে ভিনিকেই লাল কার্ড দেখান রেফারি।
ভিনির টুইট ঘিরে যদিও সারা দুনিয়াতেই আলোড়ন পড়ে গিয়েছে। ভিনি লেখেন, 'এটা প্রথমবার নয়, দ্বিতীয় নয়, তৃতীয়ও নয়। লা লিগাতে বর্ণবিদ্বেষ একটা সাধারণ ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতিযোগিতায় সবাই মনে করে, এটা স্বাভাবিক। ফেডারেশনও তাই মনে করে, বিরোধীরাও তাই ভাবে।… আজ ব্রাজিলে স্পেনকে সবাই বর্ণবিদ্বেষী দেশ বলেই জানে। স্পেনীয়রা যারা এটা মানবেন না, আমি দুঃখিত।'

ইতিমধ্যেই ঘটনাটি নিয়ে সুর চড়াতে শুরু করেছে ব্রাজিল। শুরু হয়েছে প্রতিবাদ। ব্রাজিল ফুটবল ফেডারেশন ও একাধিক ক্লাবের আহ্বানে রিও দি জেনেইরো শহরের বিশ্ববিখ্যাত 'ক্রাইস্ট দ্য রিডিমার' মূর্তির আলো একঘন্টার জন্য নিভিয়ে দেওয়া হয়েছে। আসরে নেমেছেন খোদ ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা। একাধিক ক্যাবিনেট মন্ত্রী নিন্দায় সরব হয়েছেন। ব্রাজিলের বিদেশমন্ত্রকের তরফে রীতিমতো স্পেনের রাষ্ট্রদূতকে তলব করে কৈফিয়ৎ চাওয়া হয়েছে। শেষে স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো স্যাঞ্চেজ নিন্দা করে বিবৃতি দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন।
তবে তাতে চিঁড়ে ভিজছে না। ঘটনাচক্রে, ব্রাজিলীয় সমাজেও বর্ণবিদ্বেষ নিতান্ত কম নয়। ভৌগলিকভাবে বিশ্বের পঞ্চম বৃহত্তম দেশ ব্রাজিলের সমাজ অতীব বৈচিত্র্যময়, সেখানে শ্বেতাঙ্গ ও কৃষ্ণাঙ্গদের (এখানে কৃষ্ণ ও বাদামি সমার্থে) বিভাজন প্রায় সমান। ষোলো শতকে পর্তুগিজদের উপনিবেশের হাত ধরেই ইউরোপ, আফ্রিকা, ক্যারিবিয়ান দ্বীপ, উত্তর আমেরিকা এমনকি পূর্ব এশিয়া থেকেও বহু অভিবাসী এসে বসতি স্থাপন করেছেন ব্রাজিলে। আজ এতদিন পরেও কৃষ্ণাঙ্গদের ওপর নির্যাতন, প্রহার এমনকি হত্যার ঘটনাও ব্রাজিলে বিরল নয়। যার ছাপ পড়েছে ফুটবলেও। ব্রাজিলের স্থানীয় ক্লাবের ম্যাচে বর্ণবিদ্বেষের অভিযোগ বিরল নয়। বহু নামী খেলোয়াড়ই নানাভাবে তার সম্মুখীন হয়েছেন।
লা লিগা জানিয়েছে, তারা ঘটনার সবরকম ফুটেজ খতিয়ে দেখছে। কড়া ব্যবস্থা নিতে চলেছে স্পেনীয় পুলিশ। তবে লা লিগার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের তেবাসের অভিযোগ, ভিনি নাকি নিজেই আগে দু'বার এরকম অভিযোগ করে শুনানির দিন নির্দিষ্ট করে শেষে নিজেই আসেননি। তবে তাতে তদন্তে প্রভাব পড়বে না।
খোদ ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ানি ইনফান্তিনোও দ্ব্যর্থহীন ভাষায় ভিনিকে সমর্থন করেছেন। বলেছেন, 'সম্পূর্ণ সমর্থন আছে ভিনির প্রতি। ফুটবল হোক সমাজ, বর্ণবিদ্বেষের কোথাও কোনও জায়গা নেই। ফিফা সমস্ত রকমের বর্ণবিদ্বেষের বিরুদ্ধে সমস্ত খেলোয়াড়দের পাশে ছিল, আছে এবং তাই থাকবে।'
মার্টিনেজের হাত ধরে মোহনবাগানে মারাদোনা গেটের সূচনা, মাঠেও নামবেন বিশ্বকাপজয়ী