
শেষ আপডেট: 28 May 2023 17:37
দ্য ওয়াল ব্যুরো: খুব বিপরীত দুটো ঘটনা (Vinesh Phogat)। অথচ ঘটছে একই শহরে, একই জায়গায়, মাত্র কয়েক কিলোমিটারের ব্যবধানে। একদিকে দেশের নতুন সংসদ ভবন উদ্বোধন করছেন প্রধানমন্ত্রী। বার্তা দিচ্ছেন, সারা বিশ্ব এখন তাকিয়ে আছে ভারতের দিকে। আজাদির অমৃত মহোৎসবে নতুন ভারতের সূচনা ঘটেছে। যে নতুন ভারত এখন চলছে নতুন ভাবনায়, নতুন চেতনায়। অন্যদিকে, সেই সংসদ ভবন চত্বর থেকে দু’-আড়াই কিলোমিটার দূরে যন্তর মন্তর থেকে প্রতিবাদরত কুস্তিগিরদের বলপূর্বক তুলে নিয়ে যায় দিল্লি পুলিশ। যে কুস্তিগিররা দেশের গৌরব। অলিম্পিক থেকে এশিয়ান গেমস বা কমনওয়েলথ গেমস—সর্বত্রই দেশের পদক জেতার সবচেয়ে বড় ভরসা!
তাই শেষে পুলিশের ধরপাকড়ের মাঝে ভিনেশ ফোগাট বলেই ফেললেন, ‘নয়া দেশ কা মুবারক হো…’।
এপ্রিল মাস থেকেই যন্তর মন্তরে ধর্নায় বসেছিলেন দেশের সেরা কুস্তিগিররা। তাঁদের অভিযোগ, দেশের কুস্তি ফেডারেশনের প্রধান ব্রিজভূষণ শরণ সিং একাধিক মহিলা কুস্তিগিরকে যৌন হেনস্থা করেছেন। অতীব শক্তিশালী উত্তরপ্রদেশের এই বিজেপি নেতার দাপটে কেউই মুখ খুলতে সাহস পায় না। ফলে ব্রিজভূষণের পদত্যাগ ও গ্রেফতারির দাবিতেই ধর্নায় বসেছিলেন ভিনেশ ফোগাট, সাক্ষী মালিক, বজরং পুনিয়ারা। যাদের পদকই দেশের কোটি কোটি মানুষের মুখে হাসি ফোটায়, তেরঙা পতাকাকে আরও উঁচুতে নিয়ে যায়, আরো গর্বে, গরিমায় আলোকিত করে।
নিজেদের আন্দোলনের পরিসরেও জাতীয় পতাকা স্থাপন করেছিলেন ভিনেশরা। ছিল তাঁবু, ব্যানার, ফেস্টুন। দিল্লি পুলিশ তাঁদের আটক করার সঙ্গে সেসবও ঝেড়েমুছে সাফ করে দিয়েছে। তাঁদের ঐক্যকে ভাঙতে তাঁদের আলাদা আলাদা থানায় নিয়ে গিয়েছে দিল্লি পুলিশ। সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, ভিনেশ ও সঙ্গীতা ফোগাটকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে কালকাজি থানায়। সাক্ষী মালিককে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বুরারিতে। বজরং পুনিয়াকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে ময়ূর বিহারে।
ভিনেশ যদিও জানিয়ে গিয়েছেন, দাবি থেকে সরে আসার প্রশ্নই নেই। তাঁরা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন।
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে ব্রিজভূষণ শরণ সিংহের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই এফআইআর দায়ের করে তদন্ত শুরু করেছে দিল্লি পুলিশ। কিন্তু গ্রেফতারি এখনও হয়নি। ইতিমধ্যেই যন্তর মন্তর থেকে বিশাল জমায়েত করে বড় আন্দোলনের ডাক দিয়েছিলেন ভিনেশরা। সমর্থন জানিয়েছিল বিরোধী দল, কৃষক সংগঠন ও হরিয়ানার বিভিন্ন খাপ পঞ্চায়েত। আজ নতুন সংসদ ভবনের সামনে মহাপঞ্চায়েত বসানোরও পরিকল্পনা ছিল তাঁদের। সেই খবরেই বিশাল পুলিশ বাহিনী কার্যত জায়গাটি ঘিরে ফেলে। তারপর কুস্তিগিরদের নেতৃত্বে মিছিল এগনোর চেষ্টা করতেই আটক করা হয় তাঁদের।
সর্বশেষ যা খবর পাওয়া যাচ্ছে, দিল্লি পুলিশ বিভিন্ন ধারায় মামলা দায়ের করতে চলেছে। কিন্তু ঠিক কোন কোন ধারা দেওয়া হয়েছে বা কাদের গ্রেফতার করা হবে—সেই নিয়ে এখনও কিছু জানা যায়নি।
ব্রিজভূষণ যদিও দমছেন না। সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তিনি। বলেছেন, তিনি পাল্টা অযোধ্যায় মিছিল করবেন। প্রায় ১১ লক্ষ লোকের জমায়েত করার ক্ষমতা তিনি রাখেন।
হাজার বছরের পুরনো পার্লামেন্টও আছে পৃথিবীতে, মাত্র ৯৬ বছরেই অবসর ভারতের সংসদ ভবনের