দ্য ওয়াল ব্যুরো : কোভিডে সংক্রমিত হলেও যাতে কেউ মারা না যান অথবা গুরুতর অসুস্থ না হয়ে পড়েন, সেজন্যই দেওয়া হচ্ছে ভ্যাকসিন। ইন্ডিয়ান কাউন্সিল ফর মেডিক্যাল রিসার্চের সমীক্ষায় জানা গেল, ভারতে টিকাকরণের উদ্দেশ্য অনেকাংশেই সফল। গবেষক নিবেদিতা গুপ্তর নেতৃত্বে করা ওই সমীক্ষায় জানা যায়, যাঁরা ভ্যাকসিন নিয়েছিলেন, তাঁদের মাত্র ০.৪ শতাংশ মারা গিয়েছেন। টিকা নেওয়ার পরে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছে ১০ শতাংশ মানুষকে। মোট ৬৭৭ জন কোভিড রোগীর জিনোম সিকোয়েন্সিং করে এই সিদ্ধান্তে পৌঁছানো গিয়েছে। দেখা গিয়েছে রোগীদের ৮৬ শতাংশ ডেল্টা ভ্যারিয়ান্টে সংক্রমিত হয়েছেন।
গত অক্টোবরে প্রথমবার ভারতে ডেল্টা ভ্যারিয়ান্টের অস্তিত্বের কথা জানা যায়। ইতিমধ্যে তা ছড়িয়ে পড়েছে ১০৪ টি দেশ। ব্রিটেন, আমেরিকা ও অস্ট্রেলিয়ায় বেশিরভাগ কোভিড রোগীর শরীরে ওই ভ্যারিয়ান্টের অস্তিত্ব লক্ষ করা গিয়েছে। ওই দেশগুলিতে কোভিড নিয়ে কড়াকড়ি বাড়িয়েছে সরকার।
ভারতে টিকা নেওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে যেভাবে মৃত্যুহার ও হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার হার কমেছে, তাতে বলা যায়, ডেল্টা ভ্যারিয়ান্টের মোকাবিলা করতে সক্ষম হয়েছে ভ্যাকসিন। আইসিএমআরের মতে, দেশে টিকাকরণের হার বাড়ানো উচিত। তবেই কোভিডের পরবর্তী ওয়েভকে ঠেকানো যাবে।
সম্প্রতি নীতি আয়োগ বলেছে, অতিমহামারীর ক্ষেত্রে আগামী ১০০ থেকে ১২৫ দিন খুব গুরুত্বপূর্ণ। নীতি আয়োগের সদস্য ভি কে পল বলেন, "সংক্রমণ এখন কমছে ধীর গতিতে। এটা খারাপ লক্ষণ। ভারতে কোভিডের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে আগামী ১০০ থেকে ১২৫ দিন খুবই গুরুত্বপূর্ণ।"
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোভিডের থার্ড ওয়েভ আসতে পারে দেড় থেকে দুই মাসের মধ্যে। এদিকে সংক্রমণের হার কমায় কড়াকড়ি শিথিল করছে একাধিক রাজ্য। ভি কে পল বলেন, "আমরা চেষ্টা করছি যাতে জুলাইয়ের মধ্যে ৫০ কোটি মানুষকে ভ্যাকসিন দেওয়া যায়। সম্ভবত এই লক্ষ্যমাত্রা পূরণে আমরা সফল হব। সরকার কোভিশিল্ড ও কোভ্যাকসিনের আরও ৬৬ কোটি ডোজের জন্য অর্ডার দিয়েছে। এছাড়া বেসরকারি ক্ষেত্রগুলি পাবে আরও ২২ কোটি ডোজ।"
কিছুদিন আগে হু-র প্রধান তেদ্রোস আদহানম ঘেব্রেইসাস বলেন, “দুর্ভাগ্যজনক ব্যাপার হল, আমরা এখন থার্ড ওয়েভের প্রাথমিক স্তরে রয়েছি।” হু প্রধানের মতে, নানা দেশে সামাজিক যোগাযোগ বেড়েছে। সর্বত্র কোভিড বিধি মেনে চলা হচ্ছে না। তাছাড়া অতি সংক্রামক ডেল্টা ভ্যারিয়ান্টের জন্যও সংক্রমণ বৃদ্ধি পেয়েছে।