দ্য ওয়াল ব্যুরো : ভারতে কোভিডের তৃতীয় ঢেউ যাতে মারাত্মক না হয়ে ওঠে, সেজন্য দু'টি পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বললেন এইমস প্রধান রণদীপ গুলেরিয়া। তাঁর মতে, কোভিড বিধি যথাযথভাবে মেনে চলতে হবে। সেই সঙ্গে আরও দ্রুত বেশি সংখ্যক মানুষকে টিকা দিতে হবে। কোভিডের দ্বিতীয় ঢেউ যখন তুঙ্গে, তখন হাসপাতালের বেড ও অক্সিজেনের অভাব দেখা গিয়েছিল। এখন দৈনিক সংক্রমণ কমেছে। কিন্তু আগামী দিনে তৃতীয় ঢেউ অবশ্যম্ভাবী বলে অনেক বিশেষজ্ঞদের ধারণা।
চলতি সপ্তাহের শুরুতে চতুর্থ সেরো সার্ভের রিপোর্ট প্রকাশিত হয়। তাতে দেখা যায়, দেশের জনসংখ্যার ৬৭ শতাংশের শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে। ৪০ কোটি লোকের এখনও করোনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। গুলেরিয়া বলেন, কখন তৃতীয় ওয়েভ আসবে নির্দিষ্ট করে বলা যায় না। তাঁর মতে, শুধু ভ্যাকসিনের সরবরাহ বাড়ালেই চলবে না। আরও বেশি মানুষকে ভ্যাকসিন নেওয়ার জন্য উদ্যোগ নিতে হবে। ভ্যাকসিন নিলে মৃত্যু ঠেকানো যায়। গুরুতর অসুস্থ হওয়ার সম্ভাবনাও কমে।
গুলেরিয়াকে প্রশ্ন করা হয়, ভারত কি দ্রুত হার্ড ইমিউনিটি অর্জনের দিকে এগচ্ছে? তিনি বলেন, "হার্ড ইমিউনিটি শব্দটা আরও সতর্কভাবে ব্যবহার করা দরকার। যদি ভাইরাসের অভিযোজন হয়, তাহলে জনসংখ্যার একটা অংশের সংক্রমিত হওয়ার সম্ভাবনা থেকে যায়। সুতরাং হার্ড ইমিউনিটির ধারণা নিয়েই প্রশ্ন আছে।"
গুলেরিয়া পরে বলেন, যেভাবে কোভিডের সুপার-স্প্রেডার প্রজাতিরা ছড়িয়ে পড়েছে তাতে ভ্যাকসিনের দুটি ডোজে রক্ষা নেই। তৃতীয় বুস্টার ডোজও দরকার পড়বে। কোভিড টিকার বুস্টার ডোজের ক্লিনিকাল ট্রায়ালও শুরু হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
এইমস প্রধান বলছেন, ঘন ঘন রূপ বদলাচ্ছে সার্স-কভ-২ ভাইরাস। করোনার ব্রিটেন স্ট্রেন ও দক্ষিণ আফ্রিকার স্ট্রেন নিয়ে একসময় উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। এই দুই প্রজাতির থেকে বাঁচার উপায় নিয়ে যখন ভাবনাচিন্তা চলছে, তখনই শোনা যায় ভাইরাস আবার জিনের গঠন বিন্যাস বদলে ফেলে নতুন চেহারা নিয়েছে। কোভিডের সেই ডেল্টা প্রজাতি ভারতে নয় বিশ্বের বহু দেশে ছড়িয়ে পড়ে। এরপরেও ডেল্টা প্রজাতির ফের জিনগত বদল বা মিউটেশন হয়ে ডেল্টা প্লাস তৈরি করে। এদেরও আবার বিভিন্ন উপপ্রজাতি রয়েছে।
গুলেরিয়া বলছেন, করোনার এতরকম সংক্রামক প্রজাতি তৈরি হয়ে গেছে যে, ভ্যাকসিনের দুটি ডোজের পরেও শরীরের রোগ প্রতিরোধ শক্তি আরও বাড়াতে তৃতীয় ডোজও দরকার পড়বে। আর এই তৃতীয় ডোজ হবে সেকেন্ড জেনারেশন ভ্যাকসিনের শট বা বুস্টার শট।