করোনাভাইরাস: ভারত চরম ঝুঁকির মুখে, ছড়িয়ে পড়লে রোখা যাবে না! বলছে মার্কিন গুপ্তচর সংস্থা
দ্য ওয়াল ব্যুরো: চিন নয়, চিনের বাইরের বাকি দুনিয়াই এখন করোনাভাইরাস নিয়ে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মুখে। এ কথা দিন কয়েক আগেই ঘোষণা করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। সেই আশঙ্কাতেই সিলমোহর বসাল মার্কিন গুপ্তচর সংস্থা। তারা জানাল, একবার যদি ছড়িয়ে পড়ে,
শেষ আপডেট: 28 February 2020 07:00
দ্য ওয়াল ব্যুরো: চিন নয়, চিনের বাইরের বাকি দুনিয়াই এখন করোনাভাইরাস নিয়ে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মুখে। এ কথা দিন কয়েক আগেই ঘোষণা করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। সেই আশঙ্কাতেই সিলমোহর বসাল মার্কিন গুপ্তচর সংস্থা। তারা জানাল, একবার যদি ছড়িয়ে পড়ে, তবে একে সামাল দেওয়া কার্যত অসম্ভব হয়ে দাঁড়াবে। আর সেই তালিকায় সবার আগে থাকবে ঘনজনবসতিপূর্ণ দেশগুলি। উদাহরণ হিসেবে সবার প্রথমে যে দেশটির নাম পাওয়া যাচ্ছে মার্কিন গোয়েন্দা গুপ্তচর তালিকায়, সেটি হল ভারত!
ঘনজনসংখ্যার এই দেশে করোনভাইরাস প্রতিরোধ করার ক্ষমতা অত্যন্ত সীমিত বলে মনে করছে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা। সেটাই ভয় বাড়াচ্ছে সবচেয়ে বেশি। চিনের বাইরেও অন্যান্য দেশে কী ভাবে ছড়াচ্ছে করোনাভাইরাস, সেদিকে কয়েক দিন ধরেই কড়া নজর রাখছে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা। কোন দেশের সরকার করোনাভাইরাস প্রতিরোধে কতটা প্রস্তুত, সেদিকেও নজর রাখা হচ্ছে। সেই জায়গা থেকেই তাগের আশঙ্কা, ভারতে একবার ছড়িয়ে পড়লে এই ভাইরাসের আক্রমণ ভয়াবহ আকার নিতে পারে।
ভারতে ইতিমধ্যেই হাতেগোনা হলেও কয়েক জনের শরীরে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ পাওয়া গিয়েছে। মৃত্যু হয়নি এখনও কারও। বরং ইরান, দক্ষিণ কোরিয়া, ইতালি-- এই দেশগুলিতে করোনাভাইরাসের থাবা আরও তীব্র। এই দেশগুলি থেকে ইতিমধ্যেই একাধিক মৃত্যুর খবর এসেছে। কিন্তু তা সত্ত্বেও চিনের পরে করোনাভাইরাস মহামারীর সম্ভাব্য ক্ষেত্র হিসেবে যে দেশ মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাকে সব চেয়ে চিন্তায় রেখেছে ভারত। কারণ করোনভাইরাসের হামলা ঠেকাতে যতটা স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হয়, তা এই দেশের বেশিরভাগ জায়গাতেই অমিল বলে মনে করছে তারা।
অন্যদিকে, ইরানে ক্রমেই ছড়িয়ে পড়ছে সংক্রমণ। এখনও পর্যন্ত সে দেশে আক্রান্তের মোট সংখ্যা ২৪৫। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১০৬ জনের শরীরে এই ভাইরাস পাওয়া গিয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, চিনের বাইরে এখনও পর্যন্ত ইরানেই মৃতের সংখ্যা এই সব থেকে বেশি। মারণ অসুখে আক্রান্ত হয়েছেন খোদ সে দেশের ভাইস প্রেসিডেন্ট মাসুমে এবতেকর!
সব মিলিয়ে করোনাভাইরাসের আক্রমণে বিশ্বব্যাপী মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৮৫৮ জন। গতকাল অর্থাৎ বৃহস্পতিবার পর্যন্ত এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ৮৩ হাজার ২৬৫ জন। এর মধ্যে শুধু চিনের হুবেই প্রদেশেই করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ৭৮ হাজার ৪২৪ জন। মারা গেছেন ২ হাজার ৭৮৮ জন।
চিনের স্বাস্থ্য কমিশন জানিয়েছে, গতকাল নতুন করে ৪৪ জন এই ভাইরাসে প্রাণ হারিয়েছেন এবং আক্রান্ত হয়েছেন ৩২৭ জন। তবে আশার বিষয় হচ্ছে এখন পর্যন্ত ৩৬ হাজার ৪৩৬ জন চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।
চিন ও ইরানের পরেই ঝুঁকির দেশ হিসেবে রয়েছে ইতালি এবং দক্ষিণ কোরিয়া। যথাক্রমে ১৬ জন ও মারা গেছেন ১৩ জন মারা গেছেন সে দু’টি দেশে। আক্রান্ত হয়েছেন কয়েক হাজার। হু-এর আশঙ্কা, যেভাবে সমস্ত দেশে করোনাভাইরাস থাবা বসাচ্ছে, তাতে এই অসুখ এপিডেমিকের গণ্ডি পেরিয়ে ‘প্যান্ডেমিক’ হতে পারে।
আর তা যদি সত্যিই হয়, তাহলে চরম ঝুঁকির মুখে দাঁড়াবে ভারত। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার এই আশঙ্কা অনেকটাই চিন্তায় ফেলেছে স্বাস্থ্য-বিশেষজ্ঞদের।