দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিয়ে করার সুফল-কুফল নিয়ে নানা জনের নানা মত আছে। 'দিল্লি কা লাড্ডু' যে সকলের জন্য সমান সুস্বাদু হয় না, তা-ও জানেন অনেকেই। কিন্তু বিয়ে পরবর্তী হানিমুন পর্ব যে বিয়ে-জীবনের সেরা অধ্যায়, তা নিয়ে বেশির ভাগ মানুষই একমত। অনেকে এমনও বলে থাকেন, বিয়ের পরে দু'জনে মিলে কয়েক দিনের বেরিয়ে পড়াটাই বিয়ের প্রথম ও একমাত্র সুন্দর সময়।
কিন্তু মাত্র কয়েক দিনের বেড়ানোয় কি সে সুন্দর অধ্যায় পুরোপুরি উপভোগ করা যায়? গোটা বিবাহিত জীবনের তুলনায় সে পর্ব কি খুবই ছোটো নয়? এই প্রশ্নই এসেছিল মার্কিন যুগল নিক ও জোয়ির মনে। তাঁদের মনে হয়েছিল, হানিমুনই যদি বিয়ের সেরা সময় হয়, তা হলে সে সময়কে আরও দীর্ঘ করতে ক্ষতি কী! তাই দু'-তিন দিন নয়, দু'তিন সপ্তাহ নয়, দু'তিন মাসও নয়। টানা ন'মাস ধরে, সারা পৃথিবী জুড়ে হানিমুন ট্র্যাভেল করলেন নবদম্পতি। সেই ন’মাসে ৩৩টি দেশ ঘুরে, বিভিন্ন বিখ্যাত জায়গার সামনে দাঁড়িয়ে ছবি তুলে তৈরি করলেন বিবাহবার্ষিকীর অ্যালবাম। আরও বিশেষত্ব, বিয়ের সেই গাউন পরেই সেই সব ক'টি ছবি তুলেছেন জোয়ি।
স্বপ্ন সফল করার বীজ অবশ্য পোঁতা হয়ে গিয়েছিল অনেক আগেই। ২০১৬ সালে নিউ জার্সির বাসিন্দা নিক এবং জোয়ি প্রথম ডেট করেছিলেন একে অপরকে। আর সেই প্রথম ডেটিংয়ের দিনই পরিকল্পনা করেছিলেন, যদি সম্পর্কে আবদ্ধ হন, তা হলে তাঁরা দু'জন মিলে বিশ্বভ্রমণ করবেন।
ধীরে ধীরে গভীর হয় তাঁদের সম্পর্ক। বাগদান-পর্ব শেষ করেই বিয়ের জন্য অপেক্ষা করতে থাকেন ২৪ বছরের নিক এবং ২৭ বছরের জোয়ি। আসলে, অপেক্ষা করছিলেন হানিমুনের জন্য। এক বছর পরে সাদা গাউন আর স্যুটে গির্জায় গিয়ে একে অপরের জীবনসঙ্গী হিসেবে গ্রহণ করার শপথ নেন। কিন্তু তার পরেই জোয়ির মনে হয়, বিয়ের জন্য তৈরি অত দামি গাউনটি মাত্র এক দিনের জন্য পরবেন, তা কি মেনে নেওয়া যায়? তাই, বিয়ের পোশাকটি আর কখন কী ভাবে পরা যায়, শুরু হয়ে যায় সেই পরিকল্পনা। আর তখনই মাথায় আসে ডেটিংয়ের সেই প্রথম দিনের কথা। এই সুযোগেই তো বিশ্বভ্রমণে বেরিয়ে পড়া যায়!
যেমন ভাবা, তেমনই কাজ। দীর্ঘ সফরের জন্য গুছিয়ে ফেলা বাক্সপ্যাঁটরার মাঝেই ঢুকে যায় জোয়ির বিয়ের গাউন। এর পরে হাতে হাত রেখে বেরিয়ে পড়েন দম্পতি। ২০১৮ সালে থাইল্যান্ডে থেকে যাত্রা শুরু করেন জোয়ি।
"জীবন তো খুবই ছোটো আর পৃথিবীটা অনেক বড়। একটা জায়গায় বসে থেকে এই সময়টা নষ্ট করার অর্থ নেই। আর বিয়ের পোশাক পরার মতো আনন্দও জীবনে খুব একটা আসে না। তাই এই সুযোগে আমি ঠিক করি, আবার গাউনটা পৃথিবীর বিশেষ বিশেষ জায়গায় পরব।"-- বলছেন জোয়ি। আর নিক বলছেন, "সম্পর্কের প্রথম দিনই প্রতিজ্ঞা করেছিলাম, আমরা একসঙ্গে ঘুরব। বিয়ের পরে সেই প্রতিজ্ঞা পূরণেই বেরিয়ে পড়লাম।"

আগ্রার তাজমহল, তুষারশুভ্র হিমালয়, প্যারিসের বিখ্যাত আইফেল টাওয়ার, চিনের প্রাচীরের মতো বিশ্বের বিখ্যাত সব জায়গায় দুধসাদা গাউনের জোয়ি আর লাল-কালো-সাদা জামায় নিকের ছবিতে এখন প্রশংসা উপচে পড়ছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। ফোটোশ্যুটের তালিকায় আছে বার্সেলোনার ক্যাথিড্রাল, রোমের অ্যাম্ফিথিয়েটার, জাপানের বাঁশবাগান, শ্রীলঙ্কার সৈকত, গ্রিসের অসামান্য ভাস্কর্য, আরবের ধূ ধূ মরুভূমি, দুবাইয়ের বুর্জ খলিফা। সব ক'টি জায়গাতেই জোয়িকে দেখা গিয়েছে বিয়ের গাউনে।
এত দেশ, এত বৈচিত্র্য ঘুরে দেখার পরে নবদম্পতির বার্তা, "নিজেদের শখ পূরণ করতেই ঘুরতে বেরিয়েছিলাম। এখন বুঝতে পারছি, কত সুন্দর পৃথিবীটা! সবাইকে বলছি, এক জায়গায় বসে থেকে দিনগুলো নষ্ট করবেন না। ঘুরে বেড়ান দুনিয়াটা চিনুন, সেই সঙ্গে নতুন করে চিনে নিন পরস্পরকেও। কারণ ঘর থেকে বাইরে বেরোলে তবেই একটা সম্পর্ককে কষ্ঠিপাথরে যাচাই করা যায়।"