Date : 15th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
বিহারে আজ থেকে বিজেপি শাসন, রাজনীতির যে‌ অঙ্কে পদ্মের মুখ্যমন্ত্রী আসলে নীতীশেরই প্রথম পছন্দঅশোক মিত্তলের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ইডি, ক'দিন আগেই রাজ্যসভায় রাঘব চাড্ডার পদ পেয়েছেন এই আপ সাংসদ West Bengal Election 2026: প্রথম দফায় ২,৪০৭ কোম্পানি বাহিনী! কোন জেলায় কত ফোর্স?IPL 2026: ভাগ্যিস আইপিএলে অবনমন নেই! নয়তো এতক্ষণে রেলিগেশন ঠেকানোর প্রস্তুতি নিত কেকেআর TCS Scandal: যৌন হেনস্থা, ধর্মান্তরে চাপ! নাসিকের টিসিএসকাণ্ডে মালয়েশিয়া-যোগে আরও ঘনাল রহস্যক্যান্ডিডেটস জিতে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে গুকেশের মুখোমুখি সিন্দারভ, ড্র করেও খেতাবের লড়াইয়ে বৈশালীIPL 2026: চেন্নাইয়ের বিরুদ্ধে হেরে টেবিলের তলানিতে কেকেআর! গুরুতর বদলের ইঙ্গিত রাহানের নববর্ষের 'শুভনন্দন'-এও মুখ্যমন্ত্রীর SIR তোপ! বাংলায় পয়লা বৈশাখের শুভেচ্ছা প্রধানমন্ত্রীরইরানের সব পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল বন্ধ করে‌ দেওয়া হয়েছে, দাবি আমেরিকার, চিন্তা ইরানি ল্যান্ডমাইনও Poila Baisakh: দক্ষিণেশ্বর থেকে কালীঘাট, নববর্ষে অগণিত ভক্তের ভিড়, পুজো দিতে লম্বা লাইন

ভয়ঙ্কর রাত হাথরসে, গম ক্ষেতে পুড়ছে মেয়ের দেহ, বুকফাটা কান্না মায়ের

দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাত তখন ১টা। দিল্লি থেকে ২০০ কিলোমিটার দূরে উত্তপ্রদেশের হাথরস গ্রামে এক ভয়ঙ্কর কর্মযজ্ঞে মেতেছে পুলিশ। গোটা গ্রাম জুড়ে তীব্র আর্তনাত আর কান্নার শব্দে ভারী বাতাস। গণধর্ষিতা তরুণীর বাড়ি ঘিরে বিশাল পুলিশবাহিনী। ঘরের ভেতর থে

ভয়ঙ্কর রাত হাথরসে, গম ক্ষেতে পুড়ছে মেয়ের দেহ, বুকফাটা কান্না মায়ের

শেষ আপডেট: 29 September 2020 18:30

দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাত তখন ১টা। দিল্লি থেকে ২০০ কিলোমিটার দূরে উত্তপ্রদেশের হাথরস গ্রামে এক ভয়ঙ্কর কর্মযজ্ঞে মেতেছে পুলিশ। গোটা গ্রাম জুড়ে তীব্র আর্তনাত আর কান্নার শব্দে ভারী বাতাস। গণধর্ষিতা তরুণীর বাড়ি ঘিরে বিশাল পুলিশবাহিনী। ঘরের ভেতর থেকে তরণীর মৃতদেহ বের করে আনছেন কয়েকজন। পুলিশ কর্মীদের বাধা দিতে গিয়ে মাটিতে শুয়ে পড়ে আছাড়ি পিছাড়ি খাচ্ছেন তরুণীর মা। বুক চাপড়ে কাঁদছেন, ছটফট করছেন। অন্যদিকে, টেনে হিঁচড়ে তরুণীর পরিবারের লোকজনকে একে একে ঘরে ঢোকাচ্ছে পুলিশকর্মীরা। বাইরে থেকে ঘরের তালাবন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে যাতে কেউ বাইরে বেরিয়ে বাধা দিতে না পারেন। রাত দেড়টা। অ্যাম্বুল্যান্সে তোলা হয়েছে তরুণীর দেহ। দাহ করা হবে রাতেই। অ্যাম্বুল্যান্সকে ঘিরে গ্রামের মানুষের জটলা। চিৎকার-চেঁচামেচি। আচমকাই অ্যাম্বুলেন্সের উপর ঝাঁপিয়ে পড়লেন এক মহিলা। মুখ স্পষ্ট নয়। তবে অনুমান ইনিই তরুণীর মা। দু’হাতে বুক চাপড়ে গগনভেদী বিলাপ করছেন এক সন্তানহারা। মেয়েকে হারিয়েছেন আগেই। শেষচিহ্নটুকু হারিয়ে ফেলার ভয় তাঁকে পাগল করে তুলেছে। তাতে অবশ্য বিন্দুমাত্র ভাবান্তর দেখা যায়নি পুলিশকর্তাদের কঠিন মুখে। গাড়ি আটকাতে না পেরে শেষে অ্যাম্বুল্যান্সের সামনেই মাটিতে আছড়ে পড়লেন মহিলা। কিছুতেই নিয়ে যেতে দেবেন না সন্তানের শেষ স্মৃতি। কিন্তু না, পারলেন না। মহিলাকে টানতে টানতে সরিয়ে দিল পুলিশ কর্মীরা। নির্যাতিতার দেহ নিয়ে চলে গেল পুলিশ। হাথরসের গণধর্ষিতা তরুণীকে গতকাল রাতেই দাহ করা হয়েছে। একরকম জোর করেই। হাসপাতালের সামনে, গ্রামের পথে ধর্নায় বসেও লাভ হয়নি। তরণীর বাবা, দাদা থেকে আত্মীয়-পরিজন এমনকি গ্রামের মানুষজনের প্রতিবাদ, আন্দোলনের মাঝেই পুলিশ তার কাজ শেষ করেছে। রাত আড়াইটে নাগাদ নির্যাতিতার দেহ দাহ করা হয়েছে পরিবারের উপস্থিতি ছাড়াই। “সে ছিল এক ভয়ঙ্কর রাত। মেয়েটাকে জোর করে নিয়ে গিয়ে পুড়িয়ে দিল,” বুকফাটা যন্ত্রণা আর ভাষায় প্রকাশ করতে পারছেন না তরুণীর বাবা। বলেছেন, “আমরা বলেছিলাম হিন্দু রীতি মেনে সকালেই মেয়ের শেষকৃত্য করব। কিন্তু পুলিশ শুনল না। কেন এত তাড়াহুড়ো করল বুঝতে পারছি না। মেয়ের মুখটা শেষবারের মতো দেখতেও পারলাম না”, একটানা বিলাপ করে চলেছেন সন্তানহারা বাবা। সকলকে টেনে ঘরে ঢুকিয়ে তালাবন্ধ করে দিয়েছিল পুলিশ, কেউ বাধা দিতে পারেনি, বলেছেন নির্যাতিতার দাদা। পুলিশের গাড়ি, অ্যাম্বুল্যান্স ঘিরে ধরে শেষবারের মতো চেষ্টা করা হয়েছিল, কিন্তু পুলিশ কোনও কথাই শোনেনি, দাবি তাঁর। শ্মশানে নয়, নির্যাতিতার দেহ পোড়ানো হয়েছে বাড়ি থেকে কিছু দূরে এক গমের ক্ষেতে। কোনও রীতি মানা হয়েছে কিনা জানা নেই, বলেছেন মৃতার বাবা। রাতের আঁধারে ক্ষেতের মাঝে দাউদাউ আগুনে পুড়ে গেছে ১৯ বছরের মেয়েটার দেহ। ঘরে বসে সেই বীভৎস দৃশ্য কল্পনা করে জ্ঞান হারিয়েছেন মা। ছটফট করলেও পুলিশকর্তাদের রুদ্র মূর্তির সামনে কিছুই করে উঠতে পারেননি নির্যাতিতার বাবা-দাদা। দিল্লির সফদরজঙ্গ হাসপাতালে জীবনের লড়াই থেমে গিয়েছিল মেয়েটার। তখনও নির্মম মৃত্যুর সামনে অসহায় ছিলেন সন্তানহারারা। বুক নিঙড়ে ওঠা কান্না চোখ দিয়ে ঝরেছিল শুধু। শেষ ইচ্ছা ছিল একটাই, মেয়েটার শেষকৃত্য বিধি মেনে করবেন, সেটাও হল না। ভোর অবধি অপেক্ষা করতে পারল না পুলিশ, বলেছেন নির্যাতিতার বাবা। ধর্ষিতা মেয়ের দিকে তাকাতে পারেননি। সারা শরীরে ক্ষতের দাগ নিয়ে মেয়েটা যখন বাঁচার শেষ চেষ্টা করছিল তখন প্রার্থণাই করে গিয়েছিলেন বাবা। জিভ কামড়ে প্রায় ছিঁড়ে নিয়েছিল দুষ্কৃতীরা যাতে নিজের বয়ান না দিতে পারেন তরুণী। রক্তে জমে কালশিটে পড়ে গিয়েছিল সারা শরীরে। হাত-পায়ে সাড় ছিল না। শিরদাঁড়া বেঁকে গিয়েছিল, ঘাড় নুয়ে পড়েছিল, এমন পৈশাচিক নির্যাতনের কথা স্বপ্নেও ভাবা যায় না। নির্যাতিতার দাদা বলেছেন, সারা গ্রাম এই অন্যায় অবিচারের জন্য গর্জে উঠেছিল। গভীর রাতে পুলিশ যখন টেনে হিঁচড়ে দেহ বের করে নিয়ে যাচ্ছিল তখন রুখে দাঁড়িয়েছিলেন গ্রামের মানুষ। সন্তানহারা মায়ের সঙ্গেই পুলিশের গাড়ির উপরে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন আরও অনেক মায়েরা। এক মৃত্যু সকলকে একসূত্রে বেঁধে দিয়েছিল। ক্ষমতার বলে কিছু মানুষ জয়ী হয়েছেন ঠিকই, তবে নৈতিকতা, বিবেকের কাছে জয় কতটা হয়েছে সেটাই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।

```