
শেষ আপডেট: 29 September 2020 18:30
হাথরসের গণধর্ষিতা তরুণীকে গতকাল রাতেই দাহ করা হয়েছে। একরকম জোর করেই। হাসপাতালের সামনে, গ্রামের পথে ধর্নায় বসেও লাভ হয়নি। তরণীর বাবা, দাদা থেকে আত্মীয়-পরিজন এমনকি গ্রামের মানুষজনের প্রতিবাদ, আন্দোলনের মাঝেই পুলিশ তার কাজ শেষ করেছে। রাত আড়াইটে নাগাদ নির্যাতিতার দেহ দাহ করা হয়েছে পরিবারের উপস্থিতি ছাড়াই।
“সে ছিল এক ভয়ঙ্কর রাত। মেয়েটাকে জোর করে নিয়ে গিয়ে পুড়িয়ে দিল,” বুকফাটা যন্ত্রণা আর ভাষায় প্রকাশ করতে পারছেন না তরুণীর বাবা। বলেছেন, “আমরা বলেছিলাম হিন্দু রীতি মেনে সকালেই মেয়ের শেষকৃত্য করব। কিন্তু পুলিশ শুনল না। কেন এত তাড়াহুড়ো করল বুঝতে পারছি না। মেয়ের মুখটা শেষবারের মতো দেখতেও পারলাম না”, একটানা বিলাপ করে চলেছেন সন্তানহারা বাবা।
সকলকে টেনে ঘরে ঢুকিয়ে তালাবন্ধ করে দিয়েছিল পুলিশ, কেউ বাধা দিতে পারেনি, বলেছেন নির্যাতিতার দাদা। পুলিশের গাড়ি, অ্যাম্বুল্যান্স ঘিরে ধরে শেষবারের মতো চেষ্টা করা হয়েছিল, কিন্তু পুলিশ কোনও কথাই শোনেনি, দাবি তাঁর।
শ্মশানে নয়, নির্যাতিতার দেহ পোড়ানো হয়েছে বাড়ি থেকে কিছু দূরে এক গমের ক্ষেতে। কোনও রীতি মানা হয়েছে কিনা জানা নেই, বলেছেন মৃতার বাবা। রাতের আঁধারে ক্ষেতের মাঝে দাউদাউ আগুনে পুড়ে গেছে ১৯ বছরের মেয়েটার দেহ। ঘরে বসে সেই বীভৎস দৃশ্য কল্পনা করে জ্ঞান হারিয়েছেন মা। ছটফট করলেও পুলিশকর্তাদের রুদ্র মূর্তির সামনে কিছুই করে উঠতে পারেননি নির্যাতিতার বাবা-দাদা।
দিল্লির সফদরজঙ্গ হাসপাতালে জীবনের লড়াই থেমে গিয়েছিল মেয়েটার। তখনও নির্মম মৃত্যুর সামনে অসহায় ছিলেন সন্তানহারারা। বুক নিঙড়ে ওঠা কান্না চোখ দিয়ে ঝরেছিল শুধু। শেষ ইচ্ছা ছিল একটাই, মেয়েটার শেষকৃত্য বিধি মেনে করবেন, সেটাও হল না। ভোর অবধি অপেক্ষা করতে পারল না পুলিশ, বলেছেন নির্যাতিতার বাবা। ধর্ষিতা মেয়ের দিকে তাকাতে পারেননি। সারা শরীরে ক্ষতের দাগ নিয়ে মেয়েটা যখন বাঁচার শেষ চেষ্টা করছিল তখন প্রার্থণাই করে গিয়েছিলেন বাবা। জিভ কামড়ে প্রায় ছিঁড়ে নিয়েছিল দুষ্কৃতীরা যাতে নিজের বয়ান না দিতে পারেন তরুণী। রক্তে জমে কালশিটে পড়ে গিয়েছিল সারা শরীরে। হাত-পায়ে সাড় ছিল না। শিরদাঁড়া বেঁকে গিয়েছিল, ঘাড় নুয়ে পড়েছিল, এমন পৈশাচিক নির্যাতনের কথা স্বপ্নেও ভাবা যায় না।
নির্যাতিতার দাদা বলেছেন, সারা গ্রাম এই অন্যায় অবিচারের জন্য গর্জে উঠেছিল। গভীর রাতে পুলিশ যখন টেনে হিঁচড়ে দেহ বের করে নিয়ে যাচ্ছিল তখন রুখে দাঁড়িয়েছিলেন গ্রামের মানুষ। সন্তানহারা মায়ের সঙ্গেই পুলিশের গাড়ির উপরে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন আরও অনেক মায়েরা। এক মৃত্যু সকলকে একসূত্রে বেঁধে দিয়েছিল। ক্ষমতার বলে কিছু মানুষ জয়ী হয়েছেন ঠিকই, তবে নৈতিকতা, বিবেকের কাছে জয় কতটা হয়েছে সেটাই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।