দ্য ওয়াল ব্যুরো : কয়েকদিন আগে উত্তরপ্রদেশের বিজনৌরে এক বন্ধুর জন্মদিনের পার্টি থেকে ফিরছিল দুই কিশোর-কিশোরী। আচমকা তাদের ওপরে হামলা করে একদল লোক। দু'জনকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। কিশোরটি ছিল মুসলিম। কিশোরীটি ছিল হিন্দু। কিশোরটির বিরুদ্ধে লাভ জেহাদের অভিযোগ তোলা হয়। ১৫ ডিসেম্বর পুলিশ কিশোরটিকে গ্রেফতার করে। তার বিরুদ্ধে লাভ জেহাদ বিরোধী আইনে মামলা করা হয়।
পুলিশের দাবি, কিশোরীর বাবা অভিযোগ করেছিলেন, মুসলিম ছেলেটি পরিচয় গোপন করতে তাঁর মেয়ের সঙ্গে মেলামেশা করত। সে পালিয়ে বিয়ে করার জন্য কিশোরীটিকে চাপ দিচ্ছিল। ওইভাবে ধর্মান্তর করানোই ছিল তার উদ্দেশ্য। পরে একদল সাংবাদিক মেয়েটির গ্রামে গিয়ে তার সঙ্গে দেখা করেন। মেয়েটি লাভ জেহাদের অভিযোগ অস্বীকার করে। সে বলে, "রাত সাড়ে ১১ টা নাগাদ একদল লোক আমাদের ওপরে চড়াও হয়। গ্রামবাসীরা আমাদের মারধর করে। তাদের ধারণা ছিল, আমরা চুরি করতে এসেছি। তারা একটা ছেলেকেও ধরেছিল। আমি তাকে চিনি না। সে আমাকে অন্য ধর্ম গ্রহণ করার কথা বলেনি।"
মেয়েটির মা-ও লাভ জেহাদের অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, "আমার মেয়ে এক বন্ধুর বার্থ ডে পার্টি থেকে ফিরছিল। ছেলেটি বলেছিল, তাকে বাড়িতে পৌঁছে দিয়ে যাবে। পথে গ্রামবাসীরা তার ওপরে চড়াও হয়। সে বলেছিল, বন্ধুর জন্মদিনের পার্টি থেকে ফিরছে। কিন্তু কেউ তার কথা শোনেনি।
সাংবাদিকরা মেয়েটির বাবার সঙ্গে যোগযোগ করতে পারেননি। পুলিশের দাবি, মেয়েটি কয়েকদিন ধরে নিখোঁজ হয়ে গিয়েছিল। ওই কিশোরটি তাকে অপহরণ করে। কিন্তু মেয়েটি তাঁর কবল থেকে পালিয়ে আসে। বিজনৌরের শীর্ষস্থানীয় পুলিশকর্তা সঞ্জয় কুমার টুইট করে বলেছেন, "একটি মেয়ে কয়েকদিন আগে নিখোঁজ হয়ে গিয়েছিল। পরে তাকে পাওয়া যায়। একটি মামলা দায়ের করা হয়। ছেলেটি হিন্দু নাম নিয়ে মেয়েটির সঙ্গে মিশত। মেয়েটিকে সে পালিয়ে বিয়ে করার কথা বলত। ধর্মান্তর করাই তার উদ্দেশ্য ছিল।"
মেয়েটি যে গ্রামের বাসিন্দা তার প্রধান বিনোদ সাইনিও পুলিশের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর কথায়, "মনে হচ্ছে, পুলিশ একটা মামলা সাজিয়েছে। এই ঘটনার সঙ্গে লাভ জেহাদের কোনও সম্পর্ক নেই। মেয়েটির বাবা-মা আমাকে জানিয়েছে, সে বন্ধুর জন্মদিনের পার্টিতে গিয়েছিল। ছেলেটিকে সে আগে থেকেই চিনত।"
পরে গ্রামপ্রধান জানান, গ্রামবাসীরা সম্ভবত ছেলে ও মেয়েটিকে চোর ভেবেছিল। তারা দু'জনকে ধরে থানায় নিয়ে যায়। তখন পুলিশ আমাকেও ফোন করে। মেয়েটির বাবা থানায় গিয়ে লিখিতভাবে জানান, কোনও আইনি পদক্ষেপ করার দরকার নেই। মেয়েকে তিনি বাড়িতে নিয়ে যান। পরে এক পুলিশকর্মী গ্রামপ্রধানের সঙ্গে যোগাযোগ করে বলে, মেয়েটিকে থানায় নিয়ে যেতে হবে। কারণ এক্ষেত্রে লাভ জেহাদের মামলা হয়েছে।