দ্য ওয়াল ব্যুরো: উত্তরপ্রদেশে (uttar pradesh) বিজেপি শিবিরে গত কয়েকদিন ধরে ভাঙন লেগেই আছে। টিকিট না মেলার ভয়ে একের পর এক দলীয় বিধায়ক চলে যাচ্ছেন সমাজবাদী পার্টিতে (সপা)। তবে অখিলেশের দলেও যে বিধানসভা ভোটের টিকিট মিলবেই, সেই গ্যারান্টি কোথায়? বহুজন সমাজ পার্টিতেও (বসপা) (bsp) টিকিট (ticket) নিয়ে অসন্তোষ (unphappiness) রয়েছে। চড়া দামে (money) দলে টিকিট বিক্রির অভিযোগ পৌঁছেছে থানা পর্যন্ত। মুজফফগনগর থানা নগর কোতোয়ালি ক্ষেত্রের বসপা নেতা আহমেদ রানা শুক্রবার থানায় গিয়ে কান্নাকাটি জুড়ে দেন। থানার প্রধান ইনস্পেক্টরের সঙ্গে দেখা করে ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদতে থাকেন।
ব্যাপারটা কী? রানা জানান, ২০১৮র ১৮ ডিসেম্বর মুজফফরনগরে দলীয় জেলা দপ্তরে বিধানসভা কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত নেতা বাছাইয়ের সভা ছিল। এর দু-একদিন আগে বসপার পশ্চিম উত্তরপ্রদেশের ভারপ্রাপ্ত নেতা সামসুদ্দিন রাইন তাঁকে বলেন, তাঁর নাম চরথাবল বিধানসভা কেন্দ্রের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসাবে ভাবা হচ্ছে। তবে এজন্য তাঁকে কিছু টাকা দিতে বলা হয়। তিনি এজন্য তৈরিই ছিলেন বলে জানিয়েছেন রানা। তাঁর আরও অভিযোগ, এরপর দলীয় দপ্তরে সাহারানপুর মন্ডলের প্রধান কোঅর্ডিনেটর নরেশ গৌতম, প্রাক্তন মন্ত্রী প্রেমচাঁদ গৌতম, সত্যপ্রকাশ প্রমুখ নেতার উপস্থিতিতে ২০২২এর বিধানসভা ভোটে তাঁর নাম প্রার্থী হিসাবে ঘোষণা করা হয়। সামসুদ্দিনকে এজন্য ৬৭ লাখ টাকা দেন তিনি। তাঁকে বলা হয়, প্রচারের কাজ শুরু করে দিতে। রানা জানিয়েছেন, বিধানসভা কেন্দ্রের প্রত্যাশিত প্রার্থী হিসাবে তাঁর নাম ঘোষণা করতে কয়েক দফায় টাকা নেওয়া হয়। প্রথমে নেওয়া হয় সাড়ে চার লাখ টাকা। আবার নেওয়া ৫০ হাজার। পরে ১৫ লাখ টাকা দিতে হয় তিন কিস্তিতে। তারপরও নানা সময়ে সামসুদ্দিন দলের অন্য প্রথম সারির নেতাদের সামনেই তাঁর কাছ থেকে ১৭ লাখ টাকা নেন। তিনি পূর্ণ প্রতিশ্রুতি দেন, তিনিই টিকিট পাচ্ছেন। এবার প্রচারে ঝাঁপিয়ে পড়ুন।
এখানেই শেষ নয়, বসপা জেলা অধ্যক্ষ সতীশ কুমার ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণার পর তাঁর কাছে ৫০ লাখ টাকা চান বলে দাবি রানার। রানা তাঁকে জানান, ভোটের নির্ঘন্ট তো বেরল। এবার আমায় টিকিটটা দিন। আশ্বাস তো পেয়েছিলাম আগেই। শেষ পর্যন্ত সেই দাবিও পূরণ করেন রানা। কিন্তু তারপরও ভাগ্যে শিঁকে ছিড়ল না। শেষ পর্যন্ত দল যে তালিকা দিয়েছে, তাতে ওই কেন্দ্রের প্রার্থীর নাম সলমন সঈদ!
মরিয়া রানা এবার আত্মহত্যার হুমকি দিয়েছেন। থানার কর্তারা তাঁকে তদন্তের ভরসা দিয়েছেন। কিন্তু রানা জানিয়ে দিয়েছেন, ন্যয়বিচার না পেলে লখনউয়ে দলীয় দপ্তরে গিয়ে আত্মহত্যা করবেন!