দ্য ওয়াল ব্যুরো : ভিডিও-য় দেখা যাচ্ছে, রাস্তার ওপরে দাঁড়িয়ে আছে নীল শার্ট পরা একটি লোক। সম্ভবত ধর্ষিতার বাড়ির সামনের রাস্তায় সে দাঁড়িয়ে আছে। এক মহিলা বার বার তাকে চলে যেতে বলছেন। কিন্তু সে যাচ্ছে না। মহিলা ধর্ষিতার দিদি হন।
তিনি বলছেন, আমাদের বাড়ির দরজায় আর এসো না। আমরা কী করেছি? যা হয়েছে, সেজন্য তোমরাই দায়ী।
লোকটি পালটা বলছে, তোমরা আমার পরিবারকে শেষ করে দিয়েছ। সে শশী সিং নামে এক মহিলার স্বামী। শশী সিং বিধায়কের ঘনিষ্ঠ। ধর্ষণের ঘটনায় যে ন'জন গ্রেফতার হয়েছে, তার মধ্যে শশী অন্যতম। গতবছর এপ্রিল মাস থেকে সে জেলে আছে।
সেলফোনে ভিডিওটি তুলেছেন উন্নাওয়ে ধর্ষিতার দিদি। তাঁদের বক্তব্য এই ভিডিও তাঁরা পুলিশকে পাঠিয়েছিলেন। কিন্তু পুলিশ কোনও ব্যবস্থা নেয়নি। পরে তাঁরা ভিডিও ক্লিপটি তুলে দিয়েছেন স্থানীয় রিপোর্টারদের হাতে।
গত রবিবার রায় বরেলি থেকে আসার পথে একটি ট্রাক অভিযোগকারিণীদের গাড়িতে ধাক্কা মারে। গাড়িটির নম্বর প্লেটের ওপরে কালো রং করা ছিল। মেয়েটির জন্য যে রক্ষীদের মোতায়েন করা হয়েছিল, তাঁরা বন্দি বিধায়ক কুলদীপ সেনগারের সঙ্গে যোগযোগ রাখতেন। মেয়েটি কখন কোথায় যাচ্ছে, সব বিধায়ককে জানাতেন। রক্ষীদের কেউ রবিবার তার গাড়িতে ছিলেন না। সুরেশ নামে এক রক্ষী বলেছেন, মেয়েটির মা আমাদের বলেছিল, গাড়িতে জায়গা নেই। তোমাদের যেতে হবে না। আমরা পাঁচজন যাচ্ছি। ভয়ের কিছু নেই।
এফআইআরে বলা হয়েছে, কুলদীপ সেনগার ও তাঁর ঘনিষ্ঠরা ওই দুর্ঘটনার জন্য দায়ী। ধর্ষিতার পরিবারের ওপরে তাঁরা ক্রমাগত চাপ সৃষ্টি করতেন যাতে মামলা তুলে নেওয়া হয়।
সোমবার অভিযোগকারিণীর মা বলেন, ওই মামলায় অপর এক অভিযুক্তের ছেলে শাহি সিং এবং গ্রামের অপর এক যুবক নিয়মিত তাঁদের হুমকি দিত। তিনি জানতে পেরেছেন, বিধায়কই জেল থেকে তাদের হুমকি দিতে বলতেন। পুলিশ জানিয়েছে, তারা এই অভিযোগ নিয়ে তদন্ত করছে।
কুলদীপ সেনগার চারবার বিধায়ক হয়েছেন। তিনি বানগেরমাউ কেন্দ্র থেকে নির্বাচিত হন। ধর্ষণের অভিযোগে তিনি এক বছরের বেশি জেলে আছেন।
অভিযোগকারিণীর বাবাকে বেআইনি অস্ত্র রাখার অভিযোগে পুলিশ ধরেছিল। তিনি পুলিশের হেপাজতে মারা গিয়েছেন। পুলিশ ধরার আগে তিনি অভিযুক্তের ভাই অতুল সেনগারের হাতে মার খেয়েছিলেন। অতুলও এখন জেলে আছেন।